বহদ্দারহাট-কাপ্তাই রাস্তার মাথা-মদুনাঘাট সড়ক

কঙ্কাল সড়কের নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দাবি

এলাকাবাসীর সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়ালেন এমপি বাদল ও ওয়াসার এমডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান সরকারের আমলে চট্টগ্রামে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান থাকলেও ‘বাস্তাবায়নকারী সংস্থার অবহেলা এবং গাফিলতির কারণে’ উন্নয়ন যন্ত্রণায় ভুগছে জনগণ। সময়মত কাজ শেষ না করা আর পরিকল্পনা মাফিক কাজ সম্পাদন না হওয়ায় বহদ্দারহাট টু কাপ্তাই রাস্তার মাথা এবং রাস্তারর মাথা থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত ভাঙ্গা সড়কটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। এ কঙ্কাল সড়কে নরকের চরম যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে যাতায়াতকারীদের।
তাই বাধ্য হয়ে নগরীর পূর্বাংশের জনগণ ছাড়াও কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বোয়ালখালী ও হাটহাজারীর একাংশের জনগণের চলাচলের একমাত্র ও অন্যতম সড়কটি দ্রুত সময়ের মধ্যে যান চলাচলে উপযোগী করে নগর যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে নগরের চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একটি ফেসবুক ইভেন্টের মাধ্যমে ‘ক্ষুদ্ধ সাধারণ জনগণ’র এর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বহদ্দারহাট থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের দাবিতে ডাকা মানববন্ধন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ থেকে বাঁচতে তরুণ সমাজের ডাকা এ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদল ও চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্ল্লাহ। মানববন্ধন চলাকালে তারা দুজন এসে এতে যোগ দেন।
আয়োজকরা জানান, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাংসদ বাদল তাৎক্ষণিক সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে ফোনে কথা বলেন। এসময় মেয়র ঈদুল আজাহার আগেই বহদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই রাস্তারর মাথা পর্যন্ত সড়ক যান চলাচলের উপযোগী করার প্রতিশ্রুতি সাংসদের মাধ্যমে জানিয়ে দেন। এছাড়া সড়কের এ অংশটি ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরোপুরি কার্পেটিংসহ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
একই অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া ওয়াসার এমডি ফজলুল্ল্লাহও জনদুর্ভোগের জন্য নিজেদের গাফেলতির কথা স্বীকার করে জানান, ‘রাস্তার মাথা থেকে মদুনাঘাট অংশটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই চলমান কাজ শেষ করে যান চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হবে। আর নগরীর অংশটি নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এই সংস্কার কাজে কিছু কারিগরি জটিলতা আছে জানিয়ে তার জন্য নাগরিক সাধারণকে অল্প কদিন ধৈর্য্য ধারণের আহ্বানও করেন ওয়াসার এমডি।
মানববন্ধন সংহতি জানিয়ে মঈন উদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার মধ্যে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এর দায় আইনগতভাবে আমার না হলেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাকে জনগণের কাছে জবাব দিতে হয়। সে কারণে খবর পেয়ে আমি তরুণদের ডাকা এ মানববন্ধনে এসে সংহতি প্রকাশ করছি। সেই সাথে মেয়রের সাথে ফোনে কথা বলে বিষয়টি তাকে অবগত করলাম। মেয়রও দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সাথেও কথা বলেছি।’
জনদুর্ভোগ থেকে বাঁচতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করেই নতুন প্রকল্প হাতে নেয়ার জন্য পরামর্শ দেন এ সাংসদ।
প্রধান সমন্বয়ক আলম দিদারের সঞ্চালনায় মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন সমন্বয়কারী আসফাক হোসাইন খান, আমিন মুন্না, ভুক্তভোগীদের পক্ষে ইয়াছির আরাফাত কচি, তারিকুল ইসলাম তানিম, নূরনবী সাহেদ, জাবেদ হোসেন জিকু, সাইফুদ্দীন মানিক, আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ রাসেদ প্রমুখ। মানববন্ধনে শত শত সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।