কক্সবাজার জেলে পলস্নীতে জলদস্যু আতঙ্ক

দীপন বিশ্বাস, কক্সবাজার

কক্সবাজার সাগর উপকূলের জেলে পলস্নীগুলোতে বিরাজ করছে জলদস্যু আতঙ্ক। জীবনের তাগিদে এসব পলস্নীর জেলেরা প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে নামছে। প্রায় সময় মাছ ধরে ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরলেও অনেক সময় তারা পড়েন জলদস্যুদের কবলে। দস্যুরা ট্রলার থেকে মাছ, নগদ টাকা, বিভিন্ন মালামাল ও অন্যান্য রসদপাতি লুটে নিয়ে নির্দয়ভাবে মারধর করে। অনেক জেলেকে গুরম্নতর আহত করে সাগরেও ফেলে দেওয়া হয়। আবার দস্যুদের কবল থেকে প্রাণে বাঁচতে অনেক জেলেকে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে অকাল মৃত্যুবরণ করারও নজির রয়েছে।
গত ৬ নভেম্বর ভোর ৫টার দিকে কক্সবাজার বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া গুলিরদ্বার নামক এলাকায় মাছধরার ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে। এতে জলদস্যুদের প্রহারে আব্দুর রশিদ ও আব্দুশ শুক্কুর নামে দুই জেলে গুরম্নতর আহত হয়েছেন। তাদের জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দস্যুতার শিকার মাছধরার ট্রলার ‘ভাই ভাই ফিশিং’র মালিক কক্সবাজার শহরের ৪নম্বর ওয়ার্ড
পেশকারপাড়ার ফজল করিম জানান, জলদস্যুরা অনত্মত ৪ লাখ টাকার মাছ ও দেড় লাখ টাকা মূল্যের ৬টি জাল লুট করেছে। তবে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে রড়্গা পেয়েছে জেলেরা। দস্যুদের কবল থেকে ফিরে আসা মাঝি আনছার জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর তারা ১৭ জেলে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরারত অবস’ায় ভোরে একদল সশস্ত্র জলদস্যু ট্রলারে হামলে পড়ে। এ সময় অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে আহরিত মাছ, ৬ টি মাছ ধরার জাল ও প্রয়োজনীয় রসদপাতি লুট করে নিয়ে যায়।
গত ২৯ অক্টোবর সাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ডাকাতির শিকার হয় এফবি আকিব-২ নামের একটি মাছধরার ট্রলার। ট্রলার মালিক কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার নুরম্নল আবছার জানান, তার মালিকানাধীন ট্রলারটি মাছ শিকারের জন্য কক্সবাজার ফিশারি ঘাট থেকে মাঝিসহ ১৪ জন শ্রমিক নিয়ে বের হয়। পরে কয়েকদিনের মধ্যেই সাগরের ৩৫ বিয়ার নামক স’ানে ডাকাতির কবলে পড়ে। এ সময় ডাকাতরা শ্রমিকদের ব্যাপক মারধর করে মাছ, জাল, গ্যাস সিলিন্ডার, টর্চ লাইটসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপাতি লুট করে নিয়ে যায়।
ডাকাতির কবলমুক্ত হয়ে ফিরে আসা বোটের এক শ্রমিক জানান, ডাকাতির পর দস্যুরা ট্রলারের ইঞ্জিন ভেঙ্গে দিয়ে যায়। যার কারণে তীরে ফিরতে তাদের সীমাহীন কষ্ট করতে হয়েছে। এর মধ্যে নুরম্নল ইসলাম নামের একজন জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
আত্মসমর্পণ
গত ২০ অক্টোবর দুপুরে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের ছয় জলদস্যু বাহিনীর শীর্ষ ১২ দস্যুসহ ৪৩ সন্ত্রাসী অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। এদিন মহেশখালী পৌরসভার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন অস্ত্র জমা ও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে ৯৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাত হাজার ৬৩৭ রাউন্ড গুলি জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে ৪৩ সন্ত্রাসী। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্মসমর্পণকারীদের হাতে সহায়তার চেকও তুলে দেন। এছাড়া গত ৫ নভেম্বর সোমবার কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগর উপকূলে র্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ ১০ জলদস্যুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এত কিছুর পরও জলদস্যুতা না থামায় চরম উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছে কক্সবাজার সাগর উপকূলের হাজারো বাসিন্দা।