ওয়াসার মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্প শুরুতেই হোঁচট

ভূঁইয়া নজরুল

পরীক্ষামূলকভাবে চালুর প্রথম দিনেই হোঁচট খেল চট্টগ্রাম ওয়াসার মদুনাঘাট প্রকল্প। দিনে ৯ কোটি লিটার পানি নগরীতে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি গত মাসেই উৎপাদনে আসার কথা ছিল। তবে দেরিতে হলেও গতকাল তারা পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ শুরু করে এবং প্রথম দিনেই পানিতে সয়লাব হয়ে যায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের কুয়াইশ এলাকা। দুটি পাইপ লাইনের মধ্যবর্তী স’ানে জোড়া না লাগানোর ফলে পুরো রাস্তা পানিতে ভেসে যায়। গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এঘটনা ঘটে।

তবে এবিষয়ে প্রকল্পের উপ-পরিচালক আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের পাইপ লাইনের কোথাও কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা তা দেখা কাজের অংশ। আর তা দেখতে গিয়ে এই ত্রুটি ধরা পড়ে। পাইপ লাইনের ত্রুটি সমাধান করে আমরা বাকি পাইপ লাইন সঠিক রয়েছে কিনা তা যাচাই করে দেখব।
অপর এক সূত্রে জানা যায়, চায়না ‘চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপ লাইন ব্যুরো’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পাইপ বসানোর মূল কাজ পেলেও বাস্তবে মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গৃহায়ন লিমিটেড। ৪০ ইঞ্চি ব্যানের পাইপ লাইনে দুটি পাইপের মধ্যে জোড়া লাগানোর কথা থাকলেও জোড়া না লাগিয়ে পুরো পাইপ লাইন সঠিক বলে চালিয়ে দেয় গৃহায়ন। আর পাইপ বসানোর পর এর উপরে মাটি চাপা ও কার্পেটিংয়ের কাজও শেষ হয়ে যায়। গতকাল বিকেলে মদুনাঘাট প্রকল্প থেকে পানি ছাড়ার কিছুক্ষণ পর কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও কুয়াইশ কলেজের মধ্যবর্তী এলাকায় রাস্তা ফেটে পানি বের হতে থাকে। পরবর্তীতে ওয়াসার লোকজন ঘটনাস’লে এসে দেখতে পান প্রায় চার ফুট স’ানে কোনো পাইপ বসানো হয়নি। মূলতঃ মাটির নিচে দুটি পাইপ বসানোর পর দুটির মধ্যে জোড়া (কলার) লাগানো হয়। এই পয়েন্টে একটি স’ানে সেই কলারটি লাগানো হয়নি। পাইপ লাইনের মাধ্যমে মদুনাঘাট থেকে তা কালুরঘাট বুস্টার স্টেশনে (বহদ্দারহাট আবাসিকের বিপরীতে) আসার কথা রয়েছে। এতটুকু পর্যন্ত পাইপ লাইন বসানোর কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

এদিকে এই পাইপ লাইন বসানোর জন্য ওয়াসার পক্ষ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হয় ‘চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপ লাইন ব্যুরো’। কিন’ ওয়াসা কর্মকর্তাদের মতে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে গৃহায়ন লিমিটেড। এবিষয়ে গৃহায়নের পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব বড়-য়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, প্রথমত ডকুমেন্টভিত্তিক এই প্রকল্পের সাথে আমি জড়িত নই। এরজন্য চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং তাদের জনবলও রয়েছে।’
কিন্ত বলা হচ্ছে আপনি মাঠ পর্যায়ে এ প্রকল্পের কাজ করেছেন, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি শুধু কিছুই ইকুইপমেন্ট ও জনবল সরবরাহের কাজ করেছি। তারপরও বলছি একটি প্রকল্পে কিছু না কিছু ভুল থাকাটা স্বাভাবিক। আর এই ভুল আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। এখন এই পরীক্ষার মাধ্যমে পানি লিকেজের বিষয়টি শনাক্ত হয়েছে। পাইপ লাইনগুলো বসানো হয়েছে মাটির ১০ ফুট নিচে। তাই এই পাইপ লাইনের মধ্যে ভুল থাকাটা স্বাভাবিক।

অপরদিকে ওয়াসার পক্ষ থেকে পাইপ লাইন বসানোর পর সড়ক ও জনপথ থেকে তা মেরামত করার কথা বলা হয়েছিল এবং তা মেরামতও করা হয়েছিল। এখন গতকাল পানির তোড়ে সড়কের অনেকখানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পাইপ লাইন বসানোর পর আমরা ভেবেছিলাম কাজ ঠিকমতো হয়েছে। কিন’ এখন তা যথাযথ না হওয়ায় রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হলো। সড়কের বাকি এলাকায় আরো এধরনের ত্রুটি ধরা পড়লে তো সড়কটি আবারো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।
উল্লেখ্য, হালদা নদীর পানি পরিশোধন করে নগরীতে দিনে ৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্যে মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। মদুনাঘাট থেকে আসা পানি পাইপ লাইনের মাধ্যমে নগরীর কালুরঘাট বুস্টার স্টেশনে আসার পর সেখান থেকে মূল পাইপ লাইনের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হবে এই পানি।