সদরঘাট থেকে পতেঙ্গা

ওয়াটারবাস চালু হচ্ছে মার্চে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক যানজট এড়াতে বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেয়ার লক্ষে সদরঘাট থেকে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত ওয়াটারবাস সার্ভিস চালু করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরসচিব ওমর ফারুক গতকাল বিকালে জানিয়েছেন, ওয়াটারবাস নির্মাণের জন্য চিটাগাং ড্রাইডককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সংস’াটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিনের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এসএস ট্রেডিং-এর সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। আগামী মার্চ মাস থেকে চালু করা হবে ওয়াটারবাস। এতে বন্দরকেন্দ্রিক যানজট কমবে। সুফল পাবে বিমানযাত্রীরা।’
ওয়েস্টার্ন মেরিনের ব্যবস’াপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এসএস ট্রেডিং-এর ম্যানেজিং পার্টনার হচ্ছে আমার ছেলে সাদাত হোসেন। সে লন্ডনে পড়াশোনার সূত্রে ওয়াটারবাসের ধারণাটি এখানে এনেছে। এরপর বিষয়টি আমরা উত্থাপন করলে উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারণা নিয়ে কাজটি শুরু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুই জোড়া ওয়াটারবাস তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চের আগে ওয়াটারবাস চালু করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে বলেছি। আশা করি, বন্দর কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের সুফল পাবে চট্টগ্রামের মানুষ। ওয়াটারবাস চালু হলে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীদের বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়া যাবে। আমরা দ্রুতগতিসম্পন্ন চারটি ওয়াটারবাস নির্মাণ করছি। ৩০জন যাত্রীর ধারণক্ষমতার চারটি বাস দিয়ে সার্ভিসটি শুরু করতে চাই।’ চারটি ওয়াটারবাস তৈরিতে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান ওয়েস্টার্ন মেরিনের এ কর্ণধার।
বন্দরসূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ৩০ আসনের দুই জোড়া দ্রুতগতির ওয়াটারবাস নামানো হবে। চাহিদার সাথে সাথে সার্ভিস বাড়ানো হবে। ফ্লাইটের সময়সূচির সাথে সমন্বয় করে ওয়াটারবাস সার্ভিস চলবে। ইতোমধ্যে সদরঘাটের সী-রিসোর্সেস কোম্পানির পূর্বপাশে যাত্রীদের সুবিধার্থে টার্মিনাল (পল্টুন-জেটি) নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটি চালু হলে বিমানযাত্রীরা সুফল পাবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিমতলী থেকে বিমানবন্দর যাওয়ার মূল সড়ক একটি হওয়ায় যানজট সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা এ মুহূর্তে কঠিন। বে-টার্মিনাল নির্মাণের আগে বন্দরমুখী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি চলাচল কমানো সম্ভব নয়। তাই ওয়াটারবাস চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বন্দরসচিব ওমর ফারুক জানান, সদরঘাট থেকে যাত্রীরা লাগেজসহ ওয়াটারবাসে চড়বেন। পতেঙ্গায় বিমানবন্দরের কাছে নদীতে পল্টুন স’াপন করা হচ্ছে। সেখানেই বিমানযাত্রীদের চেকইন করা হবে। যাত্রীদের লাগেজ সংশ্লিষ্ট ফ্লাইট কোম্পানির ভ্যানে চলে যাবে। যাত্রীদের সেখান থেকে মিনিবাসের মাধ্যমে বিমানবন্দরে নেয়ার ব্যবস’া করা হবে। এতে করে যাত্রীদের ঘাট থেকে লাগেজ নিয়ে টানাটানি করতে হবে না।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস’াপক উইং কমান্ডার সারোয়ার ই জামান বলেন, ‘পতেঙ্গা, বন্দর থানা এলাকায় যানজটের কারণে বর্তমানে ফ্লাইটের যাত্রীদের চট্টগ্রাম শহর থেকে তিন ঘণ্টা আগে রওনা দিতে হয়। তাই সদরঘাট থেকে ১৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত ওয়াটারবাস চালু করা হচ্ছে। ওয়াটারবাস চালু হলে সময় এবং অর্থ দুটোরই সাশ্রয় হবে।