গুলতি

ওবায়দুল সমীর
image_97161_0

প্রতিবছরের মতো এবারও পাড়ার ক্লাবের মাঠে অনুষ্ঠান হবে। সকাল থেকেই একটানা মাইক বাজছে। দেশাত্মবোধক গান। স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গান। গানগুলো শুনলে শরীর মনে এক ধরণের শিহরণ দোলা দিয়ে যায়। হৃদয় জাগিয়ে তোলে।
ক্লাবের ছেলেরা এবারের অনুষ্ঠানসূচিতে কিছুটা ভিন্নতা এনেছে। প্রতিবছরের মতো ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন খেলাধুলার পাশাপাশি এবার যুক্ত করেছে সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান। স্বাধীনতার পঁয়তাল্লিশ বছর অতিক্রাস্ত হলেও করিমউল্লাহ চাচা অনুষ্ঠান মঞ্চে ডাক পেলেও কখনোই মঞ্চে উঠার সম্মতি দেননি। এবার সম্মত হয়েছেন। তাই ক্লাবের কর্মকর্তা, ছেলেমেয়েদের মধ্যে আলাদা একটা উত্তেজনা কাজ করছে। তাদের আচার আচরণেই বুঝতে পারে বারেক মোল্লা।
করিমচাচার সাথে বারেক মোল্লার খুব মাখামাখি। করিমচাচার বয়স প্রায় সাতষট্টি ছুঁই ছুঁই করছে। আর বারেকের বয়স এখন সাতান্ন বৎসর। দীর্ঘ নীরবতার পর হঠাৎ করিমচাচা মঞ্চে উঠার সম্মতি দেয়ায় বিষয়টি জানতে চাইলে করিমচাচা বলেন- ‘যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধীদের বিচার হচ্ছে, সাজা কার্যকর হয়েছে। যে দেশের জন্যে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি সেই দেশ পাপমুক্ত হচ্ছে, ভাবতেই মনে হলো নতুনদের আমার কিছু বলা দরকার।’
কথাটা শুনে বারেক মোল্লার মনটা ভরে যায়। এ পাড়ায় একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা করিমচাচা, অথচ কত অনুষ্ঠান হলো, কত অনুরোধ, তবুও চাচাকে কেউ মঞ্চে ওঠাতে পারেনি। আজ চাচা মঞ্চে উঠবেন, শোনাবেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা, মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের কথা।
গ্রামের একপ্রান্তে নদীরধার ঘেঁষে এ পাড়ার অবস্থান। নদীরকূল ঘেঁষে কয়েকটা বাড়ি নিয়ে পাড়াটা গড়ে উঠেছিল। বলতে গেলে সবগুলো নতুন বাড়ি করে নতুন বসতি গড়ে তুলেছিল। বারেকের বাবা কাসেম মোল্লা, করিমচাচার বাবা, রহিম উল্লাহ দাদা, আর একটি হিন্দু চক্রবর্তী পরিবারের দশ/বারোটি বাড়ি নিয়ে পাড়াটি যাত্রা শুরু করেছিল। এই পাড়া থেকে কাসেম মোল্লা মেম্বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। একাত্তুরে কাসেম মোল্লার জন্যেই এ পাড়াটি মেম্বার পাড়া নামেই পরিচিতি পায়। মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই পাড়াটির নাম বদলে যায়। গ্রামের মানুষ এ পাড়াকে এখন রাজাকারপাড়া হিসাবে এক নামেই চিনে। করিমচাচার মতো মুক্তিযোদ্ধা থাকতে কেন যে এ পাড়ার নাম মুক্তিযোদ্ধাপাড়া হলো না এ নিয়ে সবার মধ্যেই অসন্তোষ আছে। একাত্তুরে দশ/বারোটা বাড়ি নিয়ে যে পাড়া সেই পাড়া এখন আর নেই। এখন পাড়ার পরিধি বেড়েছে, বেড়েছে জনসংখ্যা। রাজাকারপাড়া নাম হলেও প্রতিবছর ঘটা করেই উদ্‌যাপিত হয় শহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের মতো অনুষ্ঠান। পনের আগস্টে জাতীয় শোকদিবসে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের ভাষণে পাড়াটা মাতিয়ে রাখে এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। এতে যেমন করিমচাচার অবদান রয়েছে তেমনি কাসেম মোল্লার ছেলে বারেকের সাথে মাখামাখির কারণে করিমচাচার প্রতি ক্ষোভেরও কমতি নেই পাড়ার লোকজনদের। করিমচাচার হাতেই রাজাকার কাসেম মোল্লা খুন হয়েছেন বলে জনশ্রুতি আছে। তাদের ধারণা অনুশোচনার কারণেই বারেকের সাথে করিমচাচার এতোটা মাখামাখি। করিমচাচা নির্বিকার। আজ সেই করিমচাচা সম্বর্ধনা গ্রহণে সম্মত হয়েছেন। জেলা শহর থেকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, জেলা প্রশাসক আর মিডিয়ার লোকজনও না কি অনুষ্ঠানে আসবেন বলে গতকাল থেকেই গ্রাম জুড়ে চাউর হয়ে আছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তের বছরের দুরস্ত কিশোর ছিল বারেক মোল্লা। করিমউল্লাহ চাচা জেলা শহরের একটা কলেজে লেখাপড়া করত। মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি, স্বাধীকারের আন্দোলন এসব কিছুই বুঝতো না বারেক মোল্লা। তার বয়স তখন মাঠ-ঘাট, খাল-বিল, বনে-বাদাড়ে পাখির বাসা চষে বেড়ানো। আর তার একমাত্র সঙ্গি ছিল হিন্দু বাড়ির নিশী দিদি। যাকে আদর করে নিশু’দি বলে ডাকতো। এই গাছের ফল চুরি, খালের মুখে মাছধরা, ইটভাটার কাদামাটি পুড়িয়ে তৈরি মার্বেল আর গুলতি হাতে ঘুঘু, বক, ডাহুক, পানকৌড়ি, নাম না জানা পাখির পেছনে পেছনে ছুটে চলা। হাতের নিশানাও অব্যর্থ যেন। দু’জনের জন্যে যেন দু’টো পাখি শিকার তাকে করতেই হতো। আর সব কিছুর সঙ্গিই যেন নিশু’দি। আপন বোন না হয়েও যেন দু’জনে দু’জনার একাত্মা। নিশু’দি গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস ফাইভে আর বারেক ক্লাস থ্রি’র ছাত্র। বারেকের মাও নিশীকে নিজের মেয়ের মতোই আদর করতো। কাসেম মোল্লা মাঝে মাঝে মায়ের সাথে গ্যাজর গ্যাজর করত। বলতো-‘মালোয়ানের সাথে এত কিসের পিরীতি?’
মা গা করতেন না। ছেলের খুশির কথা ভেবেই কি না কে জানে, বারেকের মা কখনোই বাধা দিতেন না। ঘুমের সময়টুকু ছাড়া নিশী বারেকদের বাড়িতেই থাকতো। একাত্তুরের সেই দিনগুলোতে বড়রা যখন গোমড়ামুখে টেনজিস্টারের সামনে বসে থাকে তখন বারেক মোল্লা নিশু’দিকে নিয়ে মুক্ত পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়, ঘুরে বেড়ায়।
পাড়াটা গ্রাম থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এ পাড়ায় যুদ্ধ নিয়ে বিশেষ কোন উত্তেজনা ছিল না। একেবারেই নেই তাও কিন্তু নয়। কাসেম মোল্লা মেম্বার থাকায় প্রায়ই গ্রামের লোকজন এ বাড়িতে আসত। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হুজুর টাইপের লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। কাচারিঘরে বসে কাসেম মোল্লা বৈঠক করেন। তিনি না কি এ গ্রামে শান্তি কমিটি গঠন করেছেন। শান্তি কমিটির নেতা নির্বাচিত হওয়ায় রাজাকার আরবদররা এপাড়ায় তেমন ক্ষতি করেনি। আশেপাশের গ্রামগুলোতে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, জ্বালাও-পোড়াও চালালেও এ পাড়ায় তার ছোঁয়া লাগেনি। তবুও অন্যরা কানাঘুষা করতো কাসেম মোল্লাকে নিয়ে। এসব কখনোই স্পর্শ করেনি বারেক মোল্লা আর নিশীকে। করিমচাচা তখন টগবগে তরুণ। প্রচণ্ড আদর দিয়ে কাছে টেনে নিতেন এই দুরন্ত শিশু দু’টিকে। দেখা হলেই পাড়ার দোকান থেকে হাওয়াই মিঠাই কিনে দিতেন। আকারে ইঙ্গিতে বারেককে কাসেম মোল্লার কীর্তি কাহিনী বলার চেষ্টা করতেন। বারেকের এত কঠিন কথা শোনার সময় কোথায়। গুলতি হাতে ঘু..উ, ঘু..উ… ডেকে ওঠা ঘুঘুর পেছনে ছুটে যায়।
যে রাতে বারেকের বাবা কাসেম মোল্লা খুন হলেন সেই রাতেই রাজাকারের হাতে শহীদ হন বারেকের প্রিয় নিশু’দির বাবা মেশোমশাই হরেণ চক্রবর্তী এবং নরেণ কাকামশাই। এরপরপরই বারেকের বাবার খুনের দায় নিয়ে করিম চাচাও নিরুদ্দেশ হয়ে যান। এক পা হারিয়ে আহত অবস্থায় ফিরে আসেন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর। তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। জেলা শহরের একমাত্র প্রবেশ পথে নদীর উপর ব্রীজ উড়িয়ে দিতে গিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে আহত হয়ে পা হারিয়েছেন তিনি। বারেক অনেকবার করিমচাচার মুখে শুনেছে এসব কথা। মেশোমশাই শহীদ হওয়ায় পুরুষশুন্য পরিবারে নিরাপদ মনে না করায় মাসিমা নিশু’দিদের পুরো পরিবার নিয়ে বর্ডার পেরিয়ে ওপারে চলে যান। সেই যে ওরা দেশান্তরী হলো আর ফিরে আসেনি। ওদের খাঁ খাঁ শূন্য ভিটায় গড়ে উঠেছে শহীদমিনার, ক্লাবঘর, যেখানে প্রতিবছর অনুষ্ঠান হয়। শহীদমিনারে নিশীর বাবা চাচার নাম খোদাই করা আছে।
আজ করিমচাচা মঞ্চে উঠবেন। স্মৃতিচারণ করবেন তাঁর জীবনের চরম এবং পরম মুহূর্তগুলোর। চাচা বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন বারেককে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্যে। করিমচাচা বলেছেন, আজ তাকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। যতই রাজাকারের ছেলে হিসাবে অপবাদ থাকুক না কেন আজ চাচার অনুষ্ঠানে যাবেই বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বারেক মোল্লা। করিমচাচা আছেন বলেই বারেক মোল্লা ভরসা পায়। না হলে কবেই এ পাড়া ছেড়ে চলে যেতে হতো। করিমচাচার স্নেহের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে বারেক মোল্লা। তাঁর ডাকে সাড়া না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার সাহস এবং ক্ষমতা বারেক মোল্লার নেই।
সকাল থেকেই মাইকে গান বাজছে। স্পোর্টস্‌ প্রোগ্রাম শেষ হয়ে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরস্কার বিতরণী এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হবে। ইতিমধ্যেই পাড়ার লোকজন মাঠে জড় হয়েছে। অতিথিরাও এসে গেছে। অতিথিদের উপস্থিতিতে বিজয়ী খুদে খেলোযাড়দের পুরস্কার বিতরণীর পরেই শুরু হবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মূলপর্ব।
করিমচাচা একগাদা ফুলেরমালা গলায় দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সেই টানটান উত্তেজনার কথা বলছেন। কেমন করে সম্মুখযুদ্ধে আহত হয়ে পা হারালেন তার বর্ননা করছেন। বর্ণনার ফাঁকে ফাঁকে মাথা ঘুরিয়ে কাউকে খুঁজছিলেন। বারেক মোল্লা জড়সড় হয়ে পেছনের চেয়ারে বসে পড়ে। করিমচাচার চোখে চোখ পড়তেই মাইকে ঘোষণা দিয়ে বারেক মোল্লাকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানালেন। নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না বারেক মোল্লার। হাতের ইশারা এবং পুনঃ ডাক শুনে নিশ্চিত হয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যায় বারেক মোল্লা। মঞ্চে বসার জায়গা করে দেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত আমন্ত্রণে আয়োজক এবং দর্শকদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়ে যায়। এ ওর মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে থাকে। করিমচাচা সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বলতে থাকেন-
‘এবার বলবো আমার মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার গল্প, আমার অণুপ্রেরণার গল্প। দেশে যখন যুদ্ধের দামামা বেজে উঠে, রাজাকার আলবদররা খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, লুটপাটে মেতে উঠেছে তখন আমি এক কলেজ পড়ুয়া টগবগে তরুণ। কেবল টেনজিস্টারের খবর শুনেই সময় পার করছিলাম। দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার মতো সাহস পাচ্ছিলাম না। ঠিক এমনি সময় দেবদূতের মতো ঘটে যাওয়া ঘটনাই আমার প্রেরণার মূল উৎস, যে কথা কাউকে বলিনি আজো। আজ বলবো। একরাতে এই ক্লাবের জায়গার মালিক চক্রবর্তী বাড়িতে রাজাকারদের হামলায় শহীদ হন হরেণ ও নরেণ চক্রবর্তী। বাইরে থেকে আসা রাজাকাররা বাড়িঘরে লুটপাট চালায়। ওদের আর্তচিৎকারে ঝোপের আড়াল থেকে দেখা ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না। ওরা ছিল সশস্ত্র। দু‘জন রাজাকার চক্রবর্তীর স্কুল পড়ুয়া মেয়ে নিশীকে ধরে নিয়ে যায়। আমি ওদের অনুসরণ করতে থাকি। পাড়ার শেষ মাথায় গিয়ে কাসেম মোল্লার হাতে সপে দিয়ে ওরা ফিরে যায়। নিশীর কান্নাও যেন কাসেম মোল্লার মন গলাতে পারছিল না। আমার মতো অন্য আরেকজন যে নিশীকে অনুসরণ করছিল তা আমার জানা ছিল না। ঠিক তখনই তেরবছরের এক কিশোর তার হাতের গুলতি দিয়ে পোড়ামাটির মার্বেলের অব্যর্থ নিশানা কাসেম মোল্লার কপালের বাম পাশে লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আরো দুই তিনবার গুলতি চালিয়ে ছোঁ মেরে ছিনিয়ে নেয় নিশীকে। কিশোরের সাহস দেখে সামনে এগিয়ে যাই। ততক্ষণে কাসেম মোল্লার প্রাণপাখি বেরিয়ে গেছে। সে আর কেউ নয়, কাসেম মোল্লার ছেলে বারেক মোল্লা। পিতার হত্যাকারী হিসাবে বেঁচে থাকতে চায়নি বলেই ওরই অনুরোধে এতদিন সবকিছু চেপে গেছি।
একজন কিশোর যদি এলাকার জন্য, দেশের জন্য এতবড় ত্যাগ স্বীকার করে নিজের কুখ্যাত পিতাকে বির্সজন দিতে পারে, তবে আমার মতো অথর্ব তরুণের কী মূল্য আছে যদি না এ দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে পারি! বারেকের পিতা কাসেম মোল্লার হত্যার দায় নিয়ে আমি মুক্তিযুদ্ধে চলে যাই। ও-ই-তো আমার মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণার উৎস, ও-ই-তো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আজ থেকে ঘোষণা করছি এ পাড়ায় কোন রাজাকার নেই, তবুও আমাদের রাজাকারপাড়ার অপবাদ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আপনাদের সম্মতি পেলে এ পাড়ার নাম হবে মুক্তিযোদ্ধাপাড়া। আপনারা আমাকে আজ যে সম্মান দিয়েছেন তার সবটাই আমি বারেক মোল্লাকে উৎসর্গ করলাম।’
বলেই বারেকের গলায় নিজের মালা পরিয়ে দিয়ে বুকে টেনে নেন করিমচাচা। উপস্থিত অতিথিরা করিমচাচকে সমর্থন জানান।
যে কথা বারেক কাউকে বলেনি। পঁয়তাল্লিশ বছরের জমানো কান্না বুক চিরে বেরিয়ে আসে। করিমচাচাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে দু‘জন। দর্শনার্থীদের চোখও পানিতে টলমল করে উঠে।

আপনার মন্তব্য লিখুন