ঐতিহ্যের অহঙ্কার

মাহবুব বোরহান

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের আসল নাম মুন্সী আবদুল করিম। সাহিত্যে তাঁর অনন্য অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে “সাহিত্য সাগর” এবং চট্টল ধর্মমণ্ডলী “সাহিত্যবিশারদ” খেতাব প্রদান করে। তবে মুন্সী আবদুল করিম চট্টল ধর্মমণ্ডলী প্রদত্ত “সাহিত্যবিশারদ” খেতাবটি অধিক পছন্দ করতেন এবং নিজ নামের শেষে তা ব্যবহার করতেন। অবশেষে মূল নাম থেকে মুন্সী বাদ দিয়ে আবদুল করিমের সঙ্গে সাহিত্যবিশারদ যুক্ত করে তিনি লেখক হিসেবে তাঁর নাম লিখতেন আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ। বাংলা সাহিত্যে তিনি এই নামেই খ্যাত হয়ে আছেন।
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া থানার অন্তর্গত সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মসাল এবং তারিখ নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত বাংলাপিডিয়ায় তাঁর জন্মসাল ১৮৭১ দেওয়া আছে কিন’ সেখানে জন্মের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। ডা. বরুণ কুমার আচার্য বলাই এক প্রবন্ধে তাঁর জন্মসাল ১৮৭১ এবং জন্মতারিখ ১১ অক্টোবর বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে আবুল ফজল আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের মৃত্যুর পর লেখা স্মৃতিচারণমূলক এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন তাঁর জন্মসাল ১৮৬৯। আবুল ফজল তাঁর জন্মতারিখ উল্লেখ করেননি। ফিরোজ আহমেদ নামে আরেক জন লেখকও আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের জন্ম ১৮৬৯ সালে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনিও আবুল ফজলের মতো সাহিত্য বিশারদের জন্মতারিখ উল্লেখ করেননি। জামাল উদ্দিন নামে জনৈক লেখক উল্লেখ করেছেন সাহিত্য বিশারদের জন্ম ১৮৭১ সালের ১০ অক্টোবর।

পারিবারিকভাবে অপেক্ষাকৃত অসচ্ছল ঘরের সন্তান মুন্সী আবদুল করিম প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনায় বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেন নি। তিনি ১৮৯৩ সালে পটিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এন্ট্রান্স পাস করেন। বাঙালি মুসলমানের মধ্যে তিনিই প্রথম দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে সংস্কৃত নিয়ে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এফএ ক্লাসে ভর্তি হলেও শারীরিক অসুস’তা এবং আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য দুই বছর এফএ ক্লাসে পড়েও শেষ পর্যন্ত তিনি তা সমাপ্ত করতে পারেননি। তবে বাঙালি মুসলমানের সেই সময়ের আর্থসামাজিক সাংস্কৃতিক জীবন বাস্তবতায় এন্ট্রান্স পাস করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে পরিগণিত হতো। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ছিলেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের প্রথম এন্ট্রান্স পাস করা লোক। এফএ পড়ার সময়ই তাঁর সাহিত্যচর্চা শুরু হয়। এ সময় অক্ষয় চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “পূর্ণিমা” পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর লেখা “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী” নামে একটি দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সেই সময়ের প্রথিতযশা কবি এবং ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নবীন চন্দ্র সেনের অনুরাগভাজন হন। এই ঘটনা আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের লেখক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৮৯৫ সালে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল স্কুলে শিক্ষকতার মাধ্যমে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। এই স্কুলে কিছুদিন শিক্ষকতা করার পর তিনি এক বছরের চুক্তিতে সীতাকুণ্ড মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদে নিযুক্ত হন। সীতাকুণ্ড স্কুলে শিক্ষকতার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরই তিনি চট্টগ্রাম সাবজজ আদালতের অস’ায়ী কেরানির শিক্ষানবিশ পদে চাকরি পান। ১৮৯৭ সালের জানুয়ারি মাসে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নবীন চন্দ্র সেন বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব হিসেবে চট্টগ্রামে বদলি হয়ে আসেন। তিনি চট্টগ্রামে এসেই আবদুল করিমের খোঁজ নেন এবং স্বউদ্যোগে তাকে অ্যাপ্রেনটিস কেরানি হিসেবে কমিশনারের অফিসে বদলি করে আনেন। কিন’ কিছু কুচক্রী লোকের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মুন্সী আবদুল করিম ১৮৯৮ সালের আগস্ট মাসে চাকুরিচ্যুত হন এবং তার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে নবীন চন্দ্র সেনকে ময়মনসিংহে বদলি করা হয়। এ সম্পর্কে নবীন চন্দ্র সেন তাঁর “আমার জীবন” গ্রনে’ বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। চাকরিচ্যুত হওয়ার পর মুন্সী আবদুল করিম পুঁথি সাহিত্যের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়েন।

তখনকার রেওয়াজ অনুসারে হিন্দুদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলে মুসলমানদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ না থাকলেও প্রতিষ্ঠাতা রাজচন্দ্র সেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মুন্সী আবদুল করিম ১৮৯৯ সালে আনোয়ারা মধ্য ইংরেজি স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি লাভ করেন। আনোয়ারা স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি করার সময়ই তিনি পুুঁথি সংগ্রহে তাঁর সব রকম প্রভাব প্রতিপত্তি ও শক্তি নিয়োগ করেন। মূলত প্রধান শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতাই পুঁথি সংগ্রহে তাঁর সকল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। এ সময় তিনি শুধু প্রধান শিক্ষকই নন একজন খ্যাতিমান লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।
তাঁর প্রথম সম্পাদিত গ্রন’ নরোত্তম দাসের প্রাচীন পুঁথি “রাধিকার মানভঙ্গ” এই স্কুলে থাকতেই ১৯০১ সালে প্রকাশিত হয়। বইটির সম্পাদনা নৈপুণ্য সম্পর্কে ভূমিকায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখেছেন, “ তিনি এই দুর্লভ গ্রনে’র সম্পাদনাকার্য্যে যেরূপ পরিশ্রম, যেরূপ কৌশল, যেরূপ সহৃদয়তা ও যেরূপ সূক্ষ্মদর্শিতা প্রদর্শিত করিয়াছেন, তাহা সমস্ত বাঙ্গালায় কেন, সমস্ত ভারতেও বোধহয় সচরাচর মেলে না। এক একবার মনে হয় যেন কোনো জর্মান এডিটর এই গ্রন’ সম্পাদনা করিয়াছেন।” আবদুল করিম ১৮৯৯ থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আনোয়ারা স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এই সাত বছর তিনি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আনোয়ারা থানার প্রত্যন্ত অঞ্চল পরিভ্রমণ করেন এবং বহু মূল্যবান পুঁথি সংগ্রহ করেন। এই সময়ের সংগৃহীত পুঁথির মাধ্যমেই তাঁর গ্রন’াগারের মৌলিক বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত হয়। আনোয়ারা স্কুল থেকেই মুন্সী আবদুল করিম ডিভিশনাল ইনস্পেক্টর অব স্কুলস্-এর অফিসে কেরানির চাকরি নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে যান। এই চাকরিতে তিনি শেষ পর্যন্ত বিভাগীয় স্কুল পরিদর্শক পদে উন্নীত হন। ১৯৩৪ সালে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সারা জীবন অসীম উদ্দীপনা আর ক্লান্তিহীন পরিশ্রমের মাধ্যমে তাঁর পুঁথি সংগ্রহ ও সাহিত্যসাধনা অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন। তিনি চট্টগ্রামকে নিয়ে “ইসলামাবাদ” নামে একটি গ্রন’ রচনা করেন। এছাড়াও মুহম্মদ এনামুল হকের সঙ্গে যৌথভাবে “আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য” শিরোনামে আরেকটি গ্রন’ রচনা করেন। গ্রন’টি সম্পর্কে আবুল ফজল লিখেজেন, “ডক্টর এনামুল হক ও তিনি যুক্তভাবে “আরকান রাজসভায় বঙ্গ সাহিত্য” নামে যে মূল্যবান গ্রন’ রচনা করেছেন, তার মাল-মসলা ও উপকরণ ষোল আনাই সাহিত্যবিশারদ সাহেবের সংগৃহীত। এ বইখানি যে কতখানি মূল্যবান, তা বুঝতে হলে এটুকু স্মরণ করলেই যথেষ্ট হবে যে, এ বই প্রকাশের পর ডক্টর দীনেশ চন্দ্র সেন ও ডক্টর সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস সম্বন্ধে তাঁদের কোনো কোনো পূর্ব-মত সংশোধন ও পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের গ্রনে’ নূতন অধ্যায় সংযোজন করেছেন।”(উদ্ধৃত :আবুল ফজল, নির্বাচিত প্রবন্ধ সংকলন, বাংলা একাডেমী, ১৯৮১,পৃ.২৫০ ) তিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের বিস্মৃত অবদানকে তাঁর পুঁথি সংগ্রহের মাধ্যমে জীবন্ত করে তোলেন। তাঁর আবিষ্কারের ফলেই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস পুনর্লিখিত হয়। তিনি অজ্ঞাত প্রায় ১০০ জন মুসলমান কবির পরিচয়কে পণ্ডিত সমাজে তুলে ধরেন। তিনি ১১টি প্রাচীন বাংলা গ্রন’ সম্পাদনার মাধ্যমে প্রকাশ করেন। তাঁর সম্পাদিত পুঁথিসমূহের মধ্যে “রাধিকার মানভঙ্গ”, “ জ্ঞানসাগর”, “গোরক্ষ বিজয়”, “মৃগলুব্ধ”, “সারদা মুকুল” ইত্যাদি অন্যতম। তিনি যাদের পুঁথি সংগ্রহ করেছেন তাদের মধ্যে নরোত্তম দাস, সৈয়দ সুলতান, মুহম্মদ খান, সৈয়দ মরতুজা, আবদুল হাকিম, সাবিরিদ খান, ফকীর গরীবুল্লাহ্, হায়াত মামুদ, দৌলত কাজী, আলাওল, শেখ চাঁদ ও সৈয়দ মুহম্মদ আকবর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পুঁথি সংগ্রহে তিনি যে কী মর্মান্তিক প্রতিকূলতার শিকার হয়েছেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের তৎকালীন সহকারী সম্পাদক ব্যোমকেশ মুস্তফীর লেখায়।

তিনি লিখেছেন,“ইহার জন্য তাঁহার অপরিমেয় শারীরিক পরিশ্রম ও আর্থিক ক্ষতিও হইয়াছে। সর্বাপেক্ষা তাঁহাকে যে উৎপীড়ন সইতে হইয়াছে, তাহা যেমন অদ্ভুত, তেমনি বিস্ময়কর। তিনি মুসলমান, কোনো হিন্দুর আঙ্গিনায় তাঁহার প্রবেশাধিকার নাই। কিন’ হিন্দুর ঘরে পুঁথি আছে শুনিয়া তিনি ভিখারীর মতো তাঁহার দ্বারে গিয়া পুঁথিটি দেখিতে চাহিয়াছেন। পুঁথি সরস্বতী পূজার দিন পূজিত হয়। অতএব মুসলমানকে ছুঁইতে দেওয়া হইবে না বলিয়া অনেকে তাঁহাকে দেখিতেও দেন নাই। অনেকে আবার তাঁর কাকুতি-মিনতিতে নরম হইয়া নিজে পুঁথি খুলিয়া পাতা উল্টাইয়া দেখাইয়াছেন। মুন্শী সাহেব দ্বারের বাহিরে দাঁড়াইয়া হস্ত স্পর্শ না করিয়া কেবল চোখে দেখিয়া নোট করিয়া সেই সকল পুঁথির বিবরণ লিখিয়া আনিয়াছেন। এত অধ্যবসায়ে, এত আগ্রহে, এমন করিয়া কোনো হিন্দু অন্তত নিজের ঘরের পুঁথিগুলির বিবরণ লিখিতে বা অন্য কোনো কার্যে হাত দিয়াছেন কি-না জানি না। মুন্সী সাহেবের নিকট বাঙ্গালা সাহিত্য সমাজের কৃতজ্ঞতার পরিমাণ যে কত বেশী, তাহা ইহা হইতে অনুমান করা যায়।” (উদ্ধৃত, আবুল ফজল, প্রাগুক্ত : পৃ. ২৫১)

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের লেখা পুঁথিই সংগ্রহ করেন। তাঁর সংগৃহীত মুসলমান কবিদের লেখা পুঁথিসমূহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন’াগারে এবং হিন্দু কবিদের লেখা পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা অনুসরণযোগ্য। বিশেষভাবে মুসলমান রচিত পুঁথি সংগ্রহ করলেও তিনি কোনো প্রকার সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেননি। তিনি তাঁর সংগৃহীত পুঁথির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাকে যেমন প্রতিষ্ঠিত করেছেন তেমনি বাঙালি মুসলমানের ঐতিহ্যের যে দুইটি স্তর; একদিকে ভৌগোলিক এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে বাঙালি ঐতিহ্য অন্যদিকে ধর্মীয় দিক থেকে ইসলামী ঐতিহ্য, তারও অপূর্ব সমন্বয় স’াপন করেছেন নিজ চিন্তা ও কর্মের মধ্য দিয়ে। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের পূর্বে অন্য কোনো বাঙালি মুসলমানের মধ্যে এমন চিন্তার প্রকাশ চোখে পড়ে না। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের এই চিন্তার মর্মমূলে আছে গভীর ঐতিহ্যচেতনা, প্রখর ইতিহাসবোধ আর অকৃত্রিম জাতীয়তাবাদী প্রত্যয়।

পরবর্র্তীকালে কাজী নজরুল ইসলামের লেখার মধ্যে আমরা বাঙালি মুসলমানের ঐতিহ্য উত্তরাধিকারের উল্লিখিত দ্বিস্তর চেতনার চমৎকার প্রকাশ লক্ষ করি। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির হৃদয়ে যে অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী চেতনার সঞ্চার হয় এবং ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টির মাধ্যমে যে চেতনার বাস্তবায়ন ঘটে তার উৎস অন্বেষণে আমাদের বাধ্যতামূলকভাবেই ফিরে তাকাতে হবে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের দিকে। আজ পরিতাপের সঙ্গে বলতে হয় জীবদ্দশায় অভাব অনটন আর দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি বিদগ্ধ সমাজে যে সমাদর লাভ করেছিলেন তাঁর মৃত্যুর পর বিশেষভাবে বর্তমানে তাঁকে আর সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। এমনকী তাঁর জন্ম-মৃত্যুর দিনটিও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয়ভাবে কিংবা চট্টগ্রামে আঞ্চলিকভাবেও পালিত হয় না, শুধুমাত্র সংবাদপত্রে দু’একটা লেখা প্রকাশের মাধ্যমে স্মরণ করা ছাড়া। আমাদের ভাষা, সাহিত্য,সংস্কৃতি এবং জাতির প্রয়োজনেই তাঁর চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া বড় বেশি প্রয়োজন। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ আমাদের ঐতিহ্যের অহঙ্কার। তাঁর স্মৃতির প্রতি আমাদের সকৃতজ্ঞ শ্রদ্ধা।