এ মৃত্যু গভীর বেদনাবহ দোষীদের যথাযথ শাসিত্ম দিন

সম্পাদকীয়

পবিত্র রমজানের আগে এ ধরনের করম্নণ মৃত্যু কেবল স্বজনহারানো পরিবারেই নয় বরং সকল মানুষকেই বিষাদে আচ্ছন্ন করেছে। অল্প কিছু ইফতার সামগ্রী আর এক পিস শাড়ি, সামান্য কটি টাকা নিতে প্রাণ দিতে হবে ভেবেছে কি কেউ? সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ, কেএসআরএম আয়োজিত ও বিতরণকৃত জাকাতের পণ্য হিসেবে ইফতার সামগ্রী ও শাড়ি নিতে গিয়ে ১০ জন নারী পদদলিত হয়ে মারা গেছে।
নিহতদের মধ্যে এক শিশুও আছে। আহত অর্ধশতাধিক, এদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয় ইফতার সামগ্রী নিতে জড়ো হওয়া হাজার হাজার লোক নিয়ন্ত্রণ করতে চরম অব্যবস’াপনা ছিল। যার ফলে এই মর্মানিত্মক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসন থেকে অভিযোগ করা হয় যে, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি।
আয়োজকরা বলছে, থানার পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত ছিল। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিয়ে দুস’ লোকের তালিকা করে তাদের কাছে স্বেচ্ছাসেবক মারফত পৌঁছিয়ে দেওয়াটা ছিল উত্তম ব্যবস’া কিন’ তা না করে ব্যাপক প্রচার করে লোক জড়ো করার বিষয়টি সমর্থনযোগ্য নয়। এতে ধর্মীয় দিকের চাইতে ব্যক্তির প্রচারণা মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।
একই প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের অব্যবস’াপনায় ২০০৫ সালের অক্টোবরে সাতকানিয়া উপজেলায় একইস’ানে জাকাত গ্রহণের সময় ৮জন নারী-পুরম্নষ নিহত হয়েছে।
ইতিপূর্বে চট্টগ্রামের আরো কয়েক জায়গায় এবং দেশের বেশকিছু স’ানে রমজানে যাকাত প্রদানের সময় এ ধরনের অনভিপ্রেত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক ইফতার সামগ্রী বিতরণে নিরাপত্তা ব্যবস’ায় ত্রম্নটি ছিল বলে উলেস্নখ করেছেন। জেলা প্রশাসন থেকে ৫ সদস্যের তদনত্ম কমিটি করা হয়েছে। পুলিশ সুপার ইফতার সামগ্রী বিতরণকারীদের বিরম্নদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন।
প্রচারের ফলে সামান্য ইফতার সামগ্রী পেতে গরিব মানুষেরা ছুটে এসেছে। আয়োজকদের উচিত ছিলো শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দিকটির প্রতি সর্বোচ্চ গুরম্নত্ব দেয়া। আশেপাশের উপজেলা এমন কি পাশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের মানুষ আগের দিবাগত রাত থেকেই জাকাত নিতে এলাকায় জড়ো হয়েছে। প্রশাসনের দায়িত্ব ছিলো সজাগ ও সতর্ক হতে আয়োজকদের বাধ্য করা।
আমরা চাই, এই অনাকাঙিড়্গত মৃত্যুর ঘটনায় দোষীরা শাসিত্ম পাক। আর এ ধরনের যাকাত কিংবা ইফতার সামগ্রী প্রদানের সময় স’ানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে যথাযথভাবে অবহিত করতে হবে। জাকাত প্রদানকারীদের উচিত জাকাতের সামগ্রী দুস’দের বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস’া করা।