‘এ জয় দীর্ঘদিন মনে থাকবে’

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক
শিরোপা জয়ের পর গতকাল লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজের সামনে ফটোশিকারিদের সাথে ফটোসেশন করেন পাকিস্তান দলনেতা সরফরাজ আহমেদ
শিরোপা জয়ের পর গতকাল লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজের সামনে ফটোশিকারিদের সাথে ফটোসেশন করেন পাকিস্তান দলনেতা সরফরাজ আহমেদ

অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনে পাকিস্তান দলের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ে রোমাঞ্চিত সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট ছন্দে ফিরেছে বলেই মনে করেন তিনি। আফ্রিদির চোখে, এ জয় সমর্থকদের দীর্ঘদিন মনে থাকবে এবং সবাইকে ভুল প্রমাণ করে এমন পারফরম্যান্স সত্যিই অসাধারণ। খবর বাংলানিউজ’র।
ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে গ্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে টিম পাকিস্তান। শোচনীয় পরাজয় একেই বলে! ১৮০ রানের বিশাল জয়ে উড়ন্ত কোহলিদের মাটিতে নামিয়ে আনে সরফরাজ আহমেদের দল। ৩৩৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫৮-তে গুটিয়ে যায় টিম ইন্ডিয়ার ইনিংস।
আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে ভেঙে পড়ার তকমাটাও টিকলো না! গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে ধরাশায়ী হওয়ার পর দুর্দান্তভাবেই ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। শিরোপা লড়াইয়ে এসে ফেভারিট টিম ইন্ডিয়াকে দুঃস্বপ্নই উপহার দেয় ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান। এর আগে সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ উইকেটের দাপুটে জয় পায়।
আইসিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিজের কলামে পাকিস্তান দলের ভূয়সী প্রশংসায় মাতেন আফ্রিদি। তার কথায়, ‘টুর্নামেন্ট নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানের এমন নিখুঁত পারফরম্যান্স প্রদর্শন আমি খুব কমই দেখেছি এবং ছন্দে থাকা হট ফেভারিট ভারতের বিপক্ষে এমন জয় সুখকর চমক। এই পাকিস্তান আমাকে ও দেশকে গর্বিত করেছে। সরফরাজ আহমেদের দলের এমন বিস্ময়কর সাফল্যে আমি সম্পূর্ণভাবে আনন্দে আত্মহারা ছিলাম।’
আফ্রিদি আরও লেখেন, ‘বৈশ্বিক ইভেন্টের ফাইনালে ১৮০ রানের জয় অভূতপূর্ব অর্জন। মনে রাখবেন, এই দলটাই টুর্নামেন্টে উত্তীর্ণ হওয়ার শঙ্কায় ছিল, শুরু করেছে র‌্যাংকিংয়ের সর্বনিম্ন টিম হিসেবে এবং নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ১২৪ রানের পরাজয় দিয়ে’, যোগ করেন আফ্রিদি।
‘এমন ঘুরে দাঁড়ানো সাফল্য বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানিদের পরম আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছে। ম্যাচ শেষের পরই ১৯৯২ বিশ্বকাপ ও ২০০৯ টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ডকাপের মতো দেশজুড়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের উৎসব উদযাপনে মাতে সবাই’, যোগ করেন আফ্রিদি।
২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে স্মরণ করেন আফ্রিদি, ‘বিজয়ের এমন দৃশ্য আমাকে ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় মনে করিয়ে দিচ্ছে যেখানে আমি ভাগ্যবান ছিলাম যে দলের জন্য সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ম্যাচ জয়ী পারফরম্যান্সের ভূমিকা রাখতে পেরেছিলাম।’
পাকিস্তানদের সমর্থকদের জন্য এটি স্মরণীয় ইভেন্ট হয়ে থাকবে বলেই মনে করেন আফ্রিদি, ‘২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয় পাকিস্তানি সমর্থকরা দীর্ঘ সময় মনে রাখবেন। ভক্তরা, বিশেষ করে তরুণরা যারা দেখেছে তাদের টিম ভারতকে উড়িয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের হিরোরা এমন পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করতে পারবে বলে তারা অনুপ্রাণিত হবে।’
২০১৯ বিশ্বকাপের আগে সেরা তিনটি টিমের মধ্যে পাকিস্তানকে দেখতে চান আফ্রিদি, ‘ইংল্যান্ডে ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে বিশ্বের সেরা তিনটি টিমের মধ্যে থাকার সামর্থ্য রাখে পাকিস্তান।
এই স্কোয়াডটি প্রতিভাবান তরুণদের নিয়ে গঠিত এবং বিচক্ষণ ও উৎসাহী নেতা সরফরাজের নেতৃত্বে খেলছে। যে দলগুলো পাকিস্তানকে হালকাভাবে নিয়েছিল একই ভুল তারা আর করবে না। ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তান হবে গুরুতর প্রতিদ্বন্দ্বী।’
আফ্রিদি জোর দিয়েই বলছেন, পাকিস্তান ক্রিকেট স্বরূপে ফিরেছে, ‘১৯৯২ বিশ্বকাপ জয় আমাদের নতুন প্রজন্মের ম্যাচ উইনার দিয়েছে এবং এই জয়টি (চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) তার কাছাকাছি। আমি আত্মবিশ্বাসী যে পাকিস্তান ক্রিকেট আগের অবস্থানে ফিরেছে এবং আসছে বছরগুলোতে এই দলটিকে কিছু অবিশ্বাস্য উচ্চতায় দেখছি, বিশেষ করে যদি তারা এই টুর্নামেন্টে যেরকম আবেগ ও প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করেছে তা অব্যাহত রাখতে পারে।’
সবশেষে নিজের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শুভেচ্ছাদূত করায় আইসিসিকে ধন্যবাদ জানান আফ্রিদি।