এসএসসি তিন পরীক্ষার্থীর বহিষ্কার নিয়ে ব্যাখ্যা জেলা প্রশাসনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে তিনজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং পরবর্তীতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স’াপনায় বে-আইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার কারণে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গত বৃহস্পতিবার রসায়ন বিষয়ে পরীক্ষার দিন তিনজন এসএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার বিষয়ে গতকাল শনিবার রাতে গণমাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে পাঠানো স্বাক্ষরবিহীন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।
নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্নপত্রে দাগ দেওয়ার অপরাধে তিনজন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কারের কারণে গত কয়েকদিন ধরে নগরীতে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতি লঘু পাপে গুরুদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। এনিয়ে সুপ্রভাত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আর এরই প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে গতকাল এ বক্তব্য দেয়া হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার এ বছরের এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে রসায়ন বিষয়ের এমসিকিউ অংশের প্রশ্নপত্রে সঠিক উত্তর দাগানোতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনটি কক্ষে তিনজন পরীক্ষার্থী তাদের ওএমআর শিটে নির্ধারিত এমসিকিউ প্রশ্নের সঠিক গোল চিহ্ন ভরাট করার পূর্বেই পাশের পরীক্ষার্থীদের সহায়তার উদ্দেশ্যে সঠিক উত্তরে দাগ দেয় এবং অন্যদের কাছে শেয়ার করে, যা পাবলিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন এবং অন্যকে অসদুপায় অবলম্বনে সহযোগিতা করার সামিল। বিষয়টি দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে এলে তিনি কক্ষ পর্যবেক্ষককে জানান। কক্ষের পর্যবেক্ষকগণ তিনজন পরীক্ষার্থীকে বোর্ডের নির্দেশ অমান্য করা, নিজে অসদুপায় অবলম্বন এবং অন্যকে অসদুপায় অবলম্বনে সহযোগিতার অপরাধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন এবং কেন্দ্র সচিব বহিস্কৃত পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে বিধিমোতাবেক ব্যবস’া গ্রহণের জন্য তাদের হাতে দাগ দেওয়া প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র অপরাধের আলামত হিসেবে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে প্রেরণ করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, পরীক্ষা শেষে ওই তিন পরীক্ষার্থীর বহিষ্কারের প্রতিবাদে সেন্ট প্লাসিডস হাই স্কুল ও সেন্ট কলাস্টিকা স্কুলের কতিপয় শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স’ানীয় উস্কানিদাতা ব্যক্তিগণ, কেন্দ্রের বহিস্কৃত পরীক্ষার্থীসহ আনুমানিক দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, আত্মীয়স্বজন এবং অজ্ঞাত আরো অনেকে বেলা দেড়টার দিকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় অফিস রুমের সামনে উপসি’ত হয়ে ঘেরাও ও অবরোধের উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ ও হট্টগোল করেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স’াপনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ে সমবেত হয়ে সরকারি কাজে বাধা প্রদান, অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুরের চেষ্টা, অপরাধমূলক বল প্রয়োগ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে আগত সেবা প্রার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ও ভীতির সৃষ্টি করা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। পরবর্তীতে, পুলিশ ও র্যাব এসে পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণপূর্বক কয়েকজনকে আটক করে।