এলিয়েন নয় জাদু

আখতারুল ইসলাম
Flashing-Squeezy-Alien-Toy2

রণবীর চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। পড়ালেখার ফাঁকে বাবার কম্পিউটারে গেইম, কার্টুনসহ হ্যারিপটার, সিন্ডেরেলা এসব নিয়ে অবসর সময়টুকু কাটে। ইতিমধ্যে ফেইসবুক, গুগলের মাধ্যমে অ্যাডভেঞ্চার গল্প তথ্যসহ অনেক কিছু সে সার্চ দিয়ে খুঁজে দেখে। হিন্দি ছবি “কোহি মিল গেয়া” তার খুব পছন্দ। এই ছবিটা সে বার বার দেখে। বাবা মা বকা দিলেও সে বলে দেখতে ইচ্ছে করে কি করব? ইচ্ছেকে তো দরজা বন্ধ করে আটকে রাখা যায় না। “জাদু” যেন তার বন্ধু! একদিন গুগলে এলিয়েন সার্চ দিতে গিয়ে বিচিত্র সব জাদুদের ছবি তার চোখের সামনে মনিটরে ভেসে ওঠে। কত এলিয়েন, ছবিগুলোর মধ্যে থেকে পছন্দ মত ডাউনলোড করে সেইভ করে রাখে।
রঙ পেনসিল তুলির আঁচড়ে আঁকতে বসে এলিয়েনের ছবি। তুলির ছোঁয়ায় অনেক এলিয়েনের ছবি হয়ে ওঠে জীবন্ত জাদু বা এলিয়েন। পড়ার ঘরের দেয়ালে গাম দিয়ে লাগিয়ে দেয় নানা রঙ বেরঙের এলিয়েন। একটা নাম দেয় জাদু, একটা ক্রীশ, একটা সুপারম্যান, একটা ব্যাডম্যান, একটা ডাইনোসর, একটা বাটল দি গ্রেট এমন কত কী? একদিন রণবীর পড়তে বসে ভেতরের ঘরে বাবা মা বসে বসে টিভি দেখছে। জানালাটা খোলা, রণবীর এক মনে গণিত বইটা নিয়ে অঙ্ক করছে। গভীর মনোযোগ দিয়ে চার নিয়ম সংক্রান্ত গাণিতিক সমস্যার সমাধান করছে, ভাগের মিল করতে না পেরে চেষ্টা করতে করতে এক পর্যায়ে মুখে হাত দিয়ে খোলা জানালার দিকে তাকায়। তাকাতেই চোখে পড়ে, জানালার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে জাদু! আস্তে করে ভেতরে ঢুকছে। রণবীরের চোখ দু’টো ছানা বড়া ছল ছল করছে। জাদু! বলতেই! জাদু মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বলে, সাথে সাথে চুপ হয়ে যায় রণবীরের মুখ!
তুমি, জাদু?
জাদু বলল হ্যাঁ আমি! ভয় পেয়ো না।
না না আমি ভয় পাচ্ছি না, সত্যি তুমি জাদু!
হ্যাঁ!
কি অঙ্ক করছিলে?
চার নিয়ম সংক্রান্ত ভাগ!
পারছো না, এই তো
হ্যাঁ।
তুমি কিভাবে বুঝলে যে আমি অঙ্ক করতে পারছি না। পাড়ি পাড়ি আমরা মানুষের মনের কথা বুঝতে পারি।
এই দেখো?
বলতেই সহজে অঙ্কটা মিলে গেলো?
ওয়াও, রণবীরের উচ্ছ্বাস! মা, ভেতর থেকে বলল কী হয়েছে রণবীর, না পড়ে কী করছো?
জাদু দ্রুত জানালার গ্রিলে চলে যায়।
না জাদু যেও না প্লিজ! একটু থাক! জাদু রণবীরের দিকে তাকাতেই
মা বলে কীরে কার সাথে কথা বলছিস? বলে, পায়ের শব্দে বলছে, মা রণবীরের পড়ার ঘরে আসছে। জাদু গ্রিলের ওপাশে গিয়ে রণবীরকে হাত নেড়ে বিদায় জানায়। রণবীর ও হাত নেড়ে বিদায় জানাতে জানাতে জাদু শূন্যে মিলিয়ে যায়। রণবীরের চোখ জানালার গ্রিলে ও হাত নাড়ছে তো নাড়ছে।
মা, বলল, কার সাথে কথা বলেছিস! আর জানালায় কে! কাকে টা টা দিচ্ছিস।
না, মা এমনি, সেই কেউ না।
মা বলল, কেউ না হলে, ওয়াও বলে চিৎকার দিলি, কার সাথে যেন কথা বলেছিস, আবার টা টা দিচ্ছিস। আমার কাছে কিছু লুকাচ্ছিস?
না, মা মা বলে আমতা আমতা করছে।
তুমি সারাদিন এলিয়েন এলিয়েন, জাদু জাদু করতেই তোর মাথাটার মধ্যে এলিয়েন পোকা ঢুকেছে নাকি?
এবার রণবীর বলল হ্যাঁ!
হ্যাঁ মা মানে?
মা, সত্যি জাদু এসেছিল! মাকে সব খুলে বলে।
মা কিছুতেই বিশ্বাস করছে না। বলছে, আমাকে অঙ্ক বুঝিয়ে দিয়ে গেছে।
কী বলছিস!
হ্যাঁ! মা।
মা বললো, তোর এসব এলিয়েন ফেলিয়েন, মাথা মুন্ডু কিছুই আমি বুঝছি না।
মনোযোগ দিয়ে পড় তো, বলে ভেতরে চলে যায়।
রণবীর পড়ছে ঠিক, কিন্তু রেশ রয়ে যায় জাদুর প্রতিদিন পড়তে বসে অপেক্ষায় থাকে জাদু আর কখন আসবে। কম্পিউটার সার্চ দেয়, কত জাদু দেখে!
হঠাৎ একদিন তার কম্পিউটারের ই-মেইলে একটা ম্যাসেজ আসে,
“আমি তোমার বন্ধু জাদু, মন দিয়ে পড়ো, আমি আবার আসবো তোমার ঘরে।”
রণবীর আশায় আশায় দিন গুণে। কখন আসবে তার জাদু।