এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য ইনক্রিমেন্ট বৈশাখী ভাতা

সুপ্রভাত ডেস্ক

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে তাদের জন্য পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট এবং বৈশাখী ভাতার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ট্রাস্টগুলোর মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তার এ ঘোষণা আসে। খবর বিডিনিউজের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ইনক্রিমেন্টের জন্য বাড়তি ৫৩১ কোটি ৮২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা লাগবে। আর বৈশাখী ভাতার জন্য লাগবে ১৭৭ কোটি ২৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ওই অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত কবে থেকে কার্যকর হবে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পরে বলেন, অর্থমন্ত্রাণলয় পরে প্রজ্ঞাপন জারি করবে। সেখানেই তারা তারিখ নির্ধারণ করে দেবে।
দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
সরকার ২০১৫ সালে অষ্টম বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা চালু করে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলা নববর্ষে তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এই ভাতা পান।
ওই বেতন কাঠামোতেই আগের সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেলের নিয়ম বাতিল করে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের নিয়ম চালু করা হয়।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ওই দুটি সুবিধা চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। নির্বাচনের আগে আগে তাদের সেই দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
গণভবনের অনুষ্ঠানে তিনি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ডে ১০ কোটি এবং শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে ১০ কোটি টাকা অনুদান দেন।
একই অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কল্যাণ ট্রাস্ট, সংস্কৃতিসেবী কল্যাণ ট্রাস্টকে ২০ কোটি টাকা করে এবং বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট, বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী ফাউন্ডেশনকে ১০ কোটি টাকা করে অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট এবং ইমাম ও মুয়াজ্জিম কল্যাণ ট্রাস্টকে প্রধানমন্ত্রী পাঁচ কোটি করে অনুদান দেন।
অন্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, সমাজ কল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে উপসি’ত ছিলেন।