এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ জিইসি মোড়ে দুপক্ষের গোলাগুলি-ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর ওমরগনি এমইএস কলেজে ছাত্রলীগের দু’পড়্গের বিরোধকে কেন্দ্র করে জিইসি মোড়ে একটি রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারী কিশোর-যুবকরা সাদিয়া’স কিচেন নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা রেস্টুরেন্টটির সামনের সড়কে বেশ কয়েকটি ফাঁকা গুলিও ছুঁড়ে।
গতকাল রোববার সকাল থেকে এমইএস কলেজে ছাত্র সংসদের জিএস আরশাদুল আলম বাচ্চুর কর্মীদের সঙ্গে ভিপি ওয়াসিম চৌধুরীর অনুসরাীদের মধ্যে বিরোধ বেঁধেছিল। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে লাঠিচার্জ করে দু’পড়্গকে ধাওয়া দেয়। এসময় ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে গুলির শব্দ শুনতে পায় স’ানীয় লোকজন।
দুপুর একটার ঁ ২য় পৃষ্ঠার ৪র্থ কলাম
ঁ ১ম পৃষ্ঠার পর
দিকে এমইএস কলেজের আশেপাশ থেকে ৪০-৫০ জন কিশোর-যুবক মিছিল নিয়ে জিইসি মোড়ের দিকে আসতে থাকে। তারা সিডিএ এভিনিউ বাটা গলির মোড়ে এসে রাসত্মায় কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। এরপর এশিয়ান কমপেস্নক্সের দুই তলায় সাদিয়া’স কিচেন রেস্টুরেন্টে ব্যাপক ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এতে প্রতিষ্ঠানটির বাইরের কাঁচ ও ভেতরে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে যায়। ইট পাটকেলে পার্শ্ববর্তী ‘হোসেন লাইটিংস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাঁচও ভাঙচুর হয়।
এ হামলার দৃশ্য সাদিয়া’স কিচেনের সিসি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। খুলশী থানা পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস’ার লোকজন এ ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, এমইএস কলেজের ভিপি ওয়াসিম চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকরা জিইসি মোড়ে এ হামলা চালায়। মাস দু’য়েক আগে সাদিয়া’স কিচেন রেস্টুরেন্টে ওয়াসিম চৌধুরীর কয়েকজন কর্মী মুরগি সাপস্নাই দিতে চেয়েছিল। কিন’ রেস্টুরেন্টটির কর্তৃপড়্গ তাতে রাজি হয়নি। গতকাল এমইএস কলেজের বিরোধকে পুঁজি করে ওয়াসিম চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকরা ড়্গিপ্ত হয়ে সাদিয়া’স কিচেনে এসে কৌশলে হামলা চালায়।
এমইএস কলেজে ছাত্র সংসদের ভিপি ওয়াসিম চৌধুরী এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে গতকাল সুপ্রভাতকে জানান।
হামলার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেনি সাদিয়া’স কিচেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পুলিশের অনুরোধেও তারা এ ঘটনায় গতরাত পর্যনত্ম থানায় মামলা করেনি।
সাদিয়া’স কিচেনের ম্যানেজার সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আমাদের যেহেতু এখানে ব্যবসা করতে হবে, তাই কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না।’
খুলশী থানার ওসি শেখ মো. নাসির উদ্দিন গতরাতে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘সাদিয়া’স কিচেনের ম্যানেজারকে মামলা করতে বলেছি। এখনও পর্যনত্ম তারা করেনি। তারা অভিযোগ দিলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের বিরম্নদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস’া নেবো।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমইএস কলেজে ছাত্র সংসদের ভিপি ওয়াসিম চৌধুরীর সঙ্গে জিএস আরশাদুল আলম বাচ্চুর দীর্ঘ দিনের বিরোধ। সাদিয়া’স কিচেন রেস্টুরেন্ট মালিকের সাথে আরশাদুল বাচ্চুর গভীর সখ্যতা রয়েছে। বাচ্চুর কর্মী-সমর্থকরা প্রতিদিন এ রেস্টুরেন্টে গিয়ে আড্ডা দেয়। এ নিয়ে সাদিয়া’স কিচেন রেস্টুরেন্ট মালিকের ওপর নাখোশ ওয়াসিম। তার কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা না দেওয়াতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ওপর ড়্গিপ্ত। এর জের ধরে গতকাল তার কর্মীরা প্রতিষ্ঠানটিতে কৌশলে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।