এবার নগরমুখী মানুষের স্রোত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের ছুটি শেষ। শুরু হয়েছে কর্মস’লে ফেরার তাড়া। তাই প্রিয়জনদের সাথে ঈদের ছুটি কাটানো মানুষগুলো ফিরতে শুরু করেছেন এ ব্যস্ত নগরীতে। ফলে চট্টগ্রামের সবগুলো প্রবেশ পথে শুরু হয়েছে নগরমুখী মানুষের স্রোত।
গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ছুটি কাটিয়ে নগরীতে আসা মানুষের ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি যাওয়া মানুষগুলো ফিরতে শুরু করেছেন। অনেকে ফিরে আসলেও পরিবারকে রেখে এসেছেন গ্রামে। ফেরার পথের ঠেসাঠেসি কাটার পরেই অনেকে তাদের পরিবারকে নিয়ে আসবেন, অনেকের পরিবার নিজে নিজেই চলে আসবেন। ফলে বাড়তি চাপ না থাকায় তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বেশ স্বচ্ছন্দেই তারা নগরীতে ফিরছেন।
সকালে মহানগর গোধূলি, তূর্ণা এক্সপ্রেস, মেইল ট্রেন ও বিকালে মহানগর প্রভাতী চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে এসে পৌঁছায়। সবগুলো ট্রেনেই ছিল মানুষের ভিড়। বিকালে স্টেশনে পৌঁছানো মহানগর প্রভাতীর যাত্রী রবিউল হোসেন বলেন, ‘এবার অগাম টিকেট কিনে রাখায় ঈদে ট্রেনে করে বাড়ি গিয়েছিলাম, এসেছিও ট্রেনে। কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।’
ঈদের ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে ফিরতে মন না চাইলেও কর্মস’লের ব্যস্ততাকে এড়াতে না পারার কষ্ট জানিয়ে ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছুটি তো রোববারেই শেষ হয়েছে। বাড়িয়ে দুদিন ছুটি নিয়েছি। তবু আসতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না। সময়গুলো যেন খুব তাড়াতাড়ি কেটে গেলো। আসতে ইচ্ছে না করলেও অফিসের কারণে চলে আসতে হলো। নিরাপদেই এসেছি, কিন’ খুব মন খারাপ হচ্ছিলো।’
অন্যদিকে এ কে খান ও অলংকার মোড়ের বাস কাউন্টারগুলোতেও ছিল নগরমুখী মানুষের ভিড়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোনো প্রকার যানজটের ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই নগরে ফিরছেন মানুষ। যাত্রীরা জানান, ঢাকা থেকে বের হতে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়লেও অবশিষ্ট পথ নির্বিঘ্নেই আসতে পেরেছেন।
বাসে করে নগরে ফেরা যাত্রারী জানান, প্রায় সবারই ঈদের ছুটি একসাথে শুরু হওয়ায় বাড়ি যেতে বাসের টিকিট পেতে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে সকলের ছুটি একসাথে শেষ না হওয়ায় কোলাহলশূন্য নগরীতে ফিরতে কোনো কষ্টে পড়তে হয়নি।
এ কে খান মোড়স’ ইউনিক বাস পরিবহনের এক টিকিট বিক্রেতা বলেন, ‘যাত্রীরা ধীরে ধীরে আসছে। খুব একটা বাড়তি চাপ নেই। এ সপ্তাহ পুরোটাই এমন হালকা চাপে যাত্রীতে নগরীতে ফিরবেন। তবে এখন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাসহ উত্তরবঙ্গে যাওয়া মানুষের একটা চাপ আছে। চট্টগ্রামে ঈদ করতে আসা মানুষগুলো এখন ফিরে যাচ্ছে।’