ওয়াসার মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্প

এবার অতিরিক্ত পেল ৮১২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) দুই প্রকল্পে বাড়তি ১১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পর এবার চট্টগ্রাম ওয়াসার ‘চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন’ প্রকল্পের জন্য পেল অতিরিক্ত ৮১২ কোটি টাকা। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় পূর্বের ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকার প্রকল্পের বাজেট বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের সাথে পাইপ লাইনের সমন্বয় করতে গিয়ে এই ব্যয় বেড়েছে বলে ওয়াসা কর্মকর্তারা জানান। এর ফলে আগামী বছরের শেষে নগরবাসী দিনে অতিরিক্ত আরও ৯ কোটি লিটার পানি পাবে।
এ প্রকল্পের অধীনে নগরীর মদুনাঘাট এলাকায় হালদা নদীর পানি পরিশোধন করে মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। পুরো প্রকল্পটি একনেকে প্রথম অনুমোদন পেয়েছিল ২০১০ সালে। ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকার প্রকল্পটি ঠিকাদার নিয়োগসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করে কাজ শুরু করেছিল ২০১৫ সালে। বর্তমানে প্রকল্পের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
চট্টগ্রামবাসীর পানি সমস্যা দূর করতে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস’াপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘বর্তমানে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প চালু হওয়ার পর নগরীতে পানি সমস্যা প্রায় নেই বললেই চলে। আগামী বছরের শেষ দিকে মদুনাঘাট চালু হলে পুরো নগরী পানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং শহরের বাইরের বিভিন্ন এলাকায়ও পানি সরবরাহ দেওয়া যাবে।’
জানা গেছে, প্রকল্পের ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকার মধ্যে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে ১৪৯৪ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সরকার ৩৭৩ কোটি ও চট্টগ্রাম ওয়াসা ২২ কোটি দেবে। প্রকল্পের মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও তা বাড়িয়ে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পটির উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের পাইপের সাথে সমন্বয় করতে আমাদের বেশিরভাগ পাইপের ব্যাস বাড়াতে হয়েছে। এ জন্য প্রকল্পের মোট খরচ বেড়ে গেছে। আর এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর নগরবাসীর চাহিদার ৮৬ শতাংশ পানি সরবরাহ করা যাবে।’
প্রকল্পের অগ্রগতি প্রসঙ্গে চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রকল্পের অধীনে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ ও পাইপ লাইন বসানোর কাজের পাশাপাশি ড্রেনেজ ও সুয়্যারেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। এছাড়া ওয়াসার ক্যাপাসিটি বিল্ডিং বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের কাজও রয়েছে। পুরো প্রকল্পের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে।’
প্ল্যান্টের অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্ল্যান্টে এখন স’াপনা নির্মাণ কাজ চলছে। যা প্রকল্পের ৩৫ শতাংশ শেষ হয়েছে বলা যায়।’
মদুনাঘাটের পানি কোথায় গিয়ে মিশবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মদুনাঘাট প্রকল্প থেকে পানি কালুরঘাট বোস্টার স্টেশনে গিয়ে মিলিত হবে। সেখান থেকে অর্ধেক পানি পাইপ লাইনে চলে যাবে পতেঙ্গা এলাকায় এবং বাকি অর্ধেক কালুরঘাট বোস্টারের আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হবে। আগামী বছরের শেষেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, হালদা নদীর পানি পরিশোধন করে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এক হাজার ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রুভমেন্ট এন্ড স্যানিটেশন প্রকল্প। ১৯৯৮ সালের দিকে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল কিন’ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দেয়া এবং পরবর্তীতে মামলা করার কারণে সেইসময় তা বাতিল হয়ে যায়। আর তা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর ২০১১ সালে নতুন করে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করে বিশ্বব্যাংক এবং চলতি মাসে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

আপনার মন্তব্য লিখুন