এবারও নেই ‘না’ ভোটের সুযোগ

ভূঁইয়া নজরম্নল

এবার ‘না’ ভোটে বাদ যাবে না প্রায় এক শতাংশ ভোট। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ ‘না’ ভোট পড়েছিল। সেবার চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ‘না’ ভোটের হার ছিল শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ। ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৩৭ বৈধ ভোটের বিপরীতে ‘না’ ভোট ছিল ২৩ হাজার ২৬২।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ‘না’ ভোটের প্রচলন হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘না’ ভোটের বিষয়টি প্রত্যাহার করে নেয়া হয় এবং এবারের সব দলের অংশগ্রহণের নির্বাচনেও নেই এই ‘না’ ভোট। এবিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসাইন খান বলেন,‘ গত সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ সংশোধনীর মাধ্যমে ‘না’ ভোটের বিষয়টি বাতিল করা হয়। তাই এবারের নির্বাচনেও ‘না’ ভোটের কোনো সুযোগ নেই।’
জানা যায়, ব্যালট পেপারে সব প্রার্থীর নাম ও প্রতীকের সবশেষে লাল কালিতে লেখা থাকতো ‘উপরের কাহাকেও নহে’ এবং পাশে একটি বক্স থাকতো। সেই বক্সের ভেতরে সিল মারতে
হতো। আর সেই ভোটটি ‘না’ ভোট হিসেবে বিবেচিত হতো। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের শহরের আসনগুলোতে ‘না’ ভোটের প্রাপ্তির হার বেশি ছিল। সবচেয়ে বেশি ‘না’ ভোট পড়েছিল
নগরীর চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে ৩ হাজার ৪৭৯ (বৈধ ভোটের ১ দশমিক ২২ শতাংশ) ‘না’ ভোট পড়েছিল। এছাড়া চট্টগ্রাম-৮ ( বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে ২ হাজার ৮৭১ ( বৈধ ভোটের ১ দশমিক ১২ শতাংশ) এবং চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং) আসনে ২ হাজার ৭৯৮ (বৈধ ভোটের শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ) ‘না’ ভোট পড়েছিল।
এবিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও এমিরেটাস অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণত শিড়্গিত ও সচেতন ভোটাররা প্রার্থী নির্বাচনে সতর্ক থাকে। যেহেতু শহরের ভোটাররা অনেক সচেতন তাই শহরাঞ্চলের ভোটারদের প্রার্থী পছন্দ না হলে ‘না’ ভোট দেবে এটা স্বাভাবিক। একইভাবে গ্রামাঞ্চলেও তা দেখা যায়।’
তবে ভোটারদের পড়্গ নিয়ে ড. মইনুল ইসলাম বলেন,‘ না’ ভোটের প্রচলন থাকা দরকার ছিল। এতে ভোটারদের পছন্দ থাকতো। বিশ্বের অনেক দেশে এই ‘না’ ভোট খুব শক্তিশালী। আমাদের দেশে এখনো তা জনপ্রিয় হয়নি, তবে ধারাবাহিকভাবে সব নির্বাচনে এর প্রচলন থাকলে তা জনপ্রিয় হয়ে উঠতো।
‘না’ ভোটের প্রচলন গণতন্ত্রের জন ভালো জানিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ-ইয়া-আখতার বলেন, ‘না’ ভোট থাকলে রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী নির্বাচনে সতর্ক হয়। কারণ যোগ্য প্রার্থী নির্ধারণ না করলে নির্বাচনে ‘না’ ভোটের পরিমাণ বেড়ে যাবে। এটা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও চাপ।
তিনি আরো বলেন, ‘না’ ভোটের সুযোগ থাকলে ভোটাররাও কেন্দ্রে যায় এবং ভোট কাস্টিং বেড়ে যায়। একইসাথে কোনো এলাকার ভোটাররা যদি প্রার্থীদের চাপে থাকে তাহলে সেই এলাকার ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ‘না’ ভোট দিয়ে আসতে পারে। এতে ভোট না দেয়ার ঝুঁকি থেকে ভোটাররা বাঁচতে পারে।
উলেস্নখ্য, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ভোটার ছিল ৪৩ লাখ ৮৯ হাজার ৫৯৩ জন, এরমধ্যে বৈধভোট ( ‘না’ ভোটসহ) পড়ে ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৩৭টি। বাতিল হয়েছিল ৩১ হাজার ২১৪ ভোট। এবারের সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৪৬১ জন ভোটার রয়েছে। এরমধ্যে তরম্নণ ভোটার রয়েছে ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন। এই তরম্নণ ভোটাররা অনেক সচেতন।