প্রাথমিক শিক্ষায় বিপর্যয়ের আশংকা

এনজিও স্কুলের সমতালে চলছে না সরকারি বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি

শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, বিদ্যালয়ে না গিয়ে অন্য পেশায় ব্যস্ত থাকা, দুর্গম বিদ্যালয় থেকে সংযুক্তির মাধ্যমে পৌর এলাকার বিদ্যালয়ে চলে আসা, প্যারা ও বর্গা শিক্ষক দিয়ে পাঠদানসহ নানা কারণে এনজিও স্কুলগুলোর সাথে দৌড়ে পারছে না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে মুখ থুবড়ে পড়ছে এ জেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা।
ব্র্যাক এনজিও স্কুলের গত দুবছরের সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের তথ্যমতে ২০১৫ সালে ৯৮টি স্কুল থেকে ১৮১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস করে ১৮১২ জন, অর্থাৎ ৯৯.০৬৬ % পাস। ২০১৬ সালে ১৩৮টি স্কুল থেকে ২৬০২ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৬০২ জনই পাস করে। অথাৎ ১০০% পাস। অন্যদিকে এ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৫২৪টি। গত ২০১৬ সালের সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১০৭২৬ জন পরীক্ষার্থী। তার মধ্যে ফেল করে ৮৪১জন। অর্থাৎ ৯২.১৬% পাস করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর এমন অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে অর্ধেকও পাস করেনি।
স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অনিয়মের মাধ্যমে একের পর এক সংযুক্তির আদেশের কারণে দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলো প্রায় শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়ায় ভেঙে পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। জেলা সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মঞ্জুরিকৃত পদের দ্বিগুণ শিক্ষক থাকার পরও জেলা পরিষদ সংযুক্তিকরণে আদেশ দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়তই। এমনকি কোন-কোন বিদ্যালয়ে শিক্ষক পেনশনে যাবে, তার স্থলে কোন শিক্ষককে আনা হবে, তা টাকা নিয়ে অগ্রিম বুকিং দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে। কোনো-কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্ম, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানাকর্মে জডিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ্মীছড়িতে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে তিনটি বিদ্যালয়ের পাঠদান। দুজন শিক্ষক দিয়ে চলছে ৫টি বিদ্যালয়ে। বেশ কিছু বিদ্যালয়ে দফতরি দিয়েও চলছে পাঠদান।
এদিকে পানছড়ি, দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে প্যারা শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান । সব মিলিয়ে সামনের পিএসসি ও বার্ষিক পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিনাজুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি চাইবাই মারমা জানান, বিদ্যালয়ে ২০১ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। অথচ শিক্ষক মাত্র একজন। এ কারণে প্রায়ই বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকে। বিদ্যালয়ে শিক্ষক দেওয়ার জন্য বহু মহলে দেন-দরবার করেও কোনো ফল পাইনি। তাই হতাশ হয়ে বসে আছি। যতীন্দ্র কার্বারি পাড়া, দন্ডি পাড়া, লেলাং পাড়া, ফুত্যাছড়ি ও মরাচেঙ্গী পাড়া বিদ্যালয়গুলোতে মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। অভিযোগ, সংযুক্তির কারণেই এ সমস্যার সৃষ্টি। এ নিয়ে বহুবার জেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় প্রতিবাদ করেও কোনো ফল পাইনি।
জানা গেছে, লক্ষ্মীছড়ি, পানছড়ি, মাটিরাঙা, দীঘিনালা ও মানিকছড়ি উপজেলা থেকে গত দুমাসে প্রায় দুর্গম এলাকার ১০০জন শিক্ষককে বিদ্যালয় শূন্য করে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করেছে জেলা পরিষদ। আরও ২৫টি ফাইল সংযুক্তির জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, দীর্ঘ চার বছর শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ার কারণে বিদ্যালয়গুলো শিক্ষকশূন্য রয়েছে। এবং সংযুক্তি বাতিলকরণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।