এগিয়ে চলছে শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ

২০১২ সালের ২২ জুলাই শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমের বেড়িবাঁধের অংশ বঙ্গোপসাগরের জোয়ারে বিলীন হয়ে যায়। তড়িৎ কোন উদ্যেগ না নেয়ায় দিনে দিনে ভাঙন আরো দীর্ঘ হয়। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরে ভাঙন রূপ নেয় আড়াই কিলোমিটার মতো এলাকা। লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম টেকনাফ- শাহপরীর দ্বীপ সড়কের প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক বিলীন হয়ে যায়। এভাবে পুরো জনপদটি পরিণত হয়ছিল ধ্বংসস’পে । বেড়িবাঁধ ভাঙনে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর জোয়ার ভাটার উপর বন্দি দ্বীপবাসীর ভোগান্তির শেষ ছিলনা। শাহপরীর দ্বীপবাসীর দাবি ছিল একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের। বাঁধের দাবিতে বহু আকুতি, মিনতি, বাদ-প্রতিবাদ, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও পালন করেছিল দ্বীপবাসী। অবশেষে গত ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ নির্মাণে ১শ৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীতে প্রকল্পের অর্থ বাড়িয়ে প্রায় দেড়শ কোটি টাকায় বর্ধিত করা হয় বলে জানা যায়। কাজের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর ডকইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। বিরতিহীনভাবে চলা বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজে ইতোমধ্যে বাঁধের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খালের মুখ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি এক কিলোমিটারের কাছাকাছি বাঁধ নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর ডকইয়ার্ড এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের প্রতিনিধি লে. মো. ফারুক বলেন, ‘দীর্ঘ অংশ জুড়ে বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যাওয়ায় সেখানে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করা অনেক কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সেই চ্যালেঞ্জিং কাজটি সফল ভাবে সম্পন্ন করতে দায়িত্ব নিয়েছি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই আমরা বেড়িবাঁধের সম্পূর্ণ অংশের কাজ শেষ করতে পারবো।’এদিকে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজে সন’ষ্টি প্রকাশ করেছে এলাকাবাসীও। বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলেই রক্ষা পাবে দ্বীপের শত শত একর ফসলি জমি, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স’াপনা। দ্বীপবাসীর আশা, বাঁধ হলেই কৃষি, শিল্প ও পর্যটন সম্ভাবনার এই জনপদ নতুন প্রাণ ফিরে পাবে, বিশ্বব্যাপী কদর বাড়বে দ্বীপের। দ্বীপের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. হাসিম বলেন, ‘ বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যাওয়ার পর এ জনপদের মানুষ দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর চরম দূর্ভোগে ছিল। বাঁধ ভাঙার কারণে শতশত ঘরবাড়ি, প্রধান সড়কটিও বিলীন হয়ে গিয়েছিল। এখন বেড়িবাঁধ নির্মাণের ফলে দ্বীপের মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে।’নৌ বাহিনীর ডকইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসএস ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড কন্সট্রাকশনের প্রকল্প ব্যবস’াপক উত্তম কুমার শাখারী বলেন, ‘ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠানের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। কাজে কোন ধরনের অনিয়ম হচ্ছেনা। তাই বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হলে দ্বীপবাসী একটি টেকসই আধুনিক বেড়িবাঁধ পাবে বলে মনে করছি।’পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কঙবাজারের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের ‘শাহপরীর দ্বীপে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কাজটি আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত কাজের মান ভালো, অগ্রগতিও সন্তোষজনক। আশা করছি, আগামী বর্ষা শুরুর আগেই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ পুরো শেষ করা সম্ভব হবে।