চমেক হাসপাতাল নবজাতক পরিচর্যাকেন্দ্র

এক বেডে একাধিক শিশু রোগ ছড়ানোর শঙ্কা

সিফায়াত উল্লাহ

শয্যার অভাবে এক বিছানায় একাধিক শিশুর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক পরিচর্যাকেন্দ্রে (স্ক্যানো)। এতে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা ।
জানা যায়, হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় ২০১৪ সালে ৩২টি শয্যা নিয়ে নবজাতক পরিচর্যাকেন্দ্রটি চালু করা হয়। পরে অতিরিক্ত রোগীর চাপের কথা চিন্তা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওয়ার্ডটি এক শ শয্যায় উন্নীত করে। বর্তমানে প্রতিদিন ওই ওয়ার্ডে নবজাতক ভর্তি থাকে ১৫০ থেকে ২০০ জন। কিন’ শয্যা সংকটের কারণে এক শয্যায় একাধিক শিশুকে রাখতে হচ্ছে।
ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মুমূর্ষু অনেক নবজাতককে অভিভাবকেরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। যাদের প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা করানোর সামর্থ নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের এক বিছানায় একাধিক শিশু রাখতে হয়। নয়তো শিশুগুলো মারা যাবে।
শিশু বিশেষজ্ঞ ও স্ক্যানো ওয়ার্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. জগদীশ চন্দ্র দাশ সুপ্রভাতকে বলেন, দেশের কোনো স্ক্যানোতে এত রোগী রাখা হয় না। কিন’ আমাদের এখানে বাধ্য হয়ে রাখতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, মুমূর্ষু অনেক নবজাতককে হাসপাতালে আনা হয়, যাদের পরিবারের সামর্থ নেই বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নেয়ার। তাদের যদি আমরা ফিরিয়ে দিই, তাহলে তারা বাচ্চাদের চিকিৎসা করাতে পারবে না। তাই গাদাগাদি করে হলেও ওয়ার্ডে রোগীভর্তি করাতে হয়। কিন’ এটি নবজাতকের জন্য ক্ষতিকর।
পাশাপাশি নবজাতক রাখা হলে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. জগদীশ চন্দ্র দাশ বলেন, নবজাতক পরিচর্যা খুবই স্পর্শকাতর কাজ। নির্দিষ্ট সময়ে ওয়ার্ডে শুধুমাত্র নবজাতকের মা ঢুকতে পারেন। বাইরের কেউ এখানে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়াও ওয়ার্ডে নার্স-আয়া-ওয়ার্ডবয়দের সারাক্ষণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হয়। এর মধ্যে এক বিছানায় একাধিক নবজাতক রাখলে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকেই। কিন’ আমাদের বাধ্য হয়ে রাখতে হচ্ছে। অন্যথায় অসহায় মানুষগুলো তাদের সন্তানদের বাঁচাতে পারবে না।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ওয়ার্ডটিতে আরও শয্যা সংযোজনের আবেদন করেছি। চলতি বছর নতুন শয্যা সংযোজন করা হবে বলে আশ্বাস পেয়েছি। তখন কিছুটা চাপ কমবে।
অন্যদিকে শিশু বিশেষজ্ঞ ও আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবু সৈয়দ চৌধুরী বলেন, প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে শয্যার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি করানো হয় না। কিন’ সরকারি হাসপাতালে সেই সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, নবজাতকের কক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আলো-বাতাস পর্যাপ্ত থাকতে হয়। নয়তো জীবাণুগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও এক বিছানায় একাধিক শিশু থাকলেও একজন থেকে অন্যজনের শরীরে সেগুলো ছড়াতে পারে। তাই এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন’ সরকারি হাসপাতালে রোগী ফিরিয়ে দেয়া হয় না। কারণ নাগরিকের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। তাই বাধ্য হয়ে চিকিৎসকেরা এক বিছানায় একাধিক শিশুকে সেবা দিচ্ছেন।
এব্যাপারে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম সুপ্রভাতকে বলেন, হাসপাতালে রোগী আসলে ফেরানো হয় না। তাই তাদের রাখতে হচ্ছে। যদিও এটা তো ঝুঁকি বাড়ায়।
ডা. আখতারুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। ওয়ার্ডটিতে নতুন শয্যা সংযোজন করা হবে। সেটি ইউনিসেফ তাদের তহবিল থেকে করবে বলে আমাদের জানিয়েছে। বিগত সময়ে কিছু শয্যা তারা সংযোজন করেছে। চলতি বছরের অগাস্ট মাসে এটার জন্য ইউনিসেফ কর্তৃপক্ষ ফান্ড অনুমোদন দেবে। তারপর নতুন শয্যাগুলো সংযোজন প্রক্রিয়া শুরু হবে।