এক পরিবারের তিন প্রজন্ম ওরা ১৪ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্কুলপ্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়ানো প্রাক্তন প্রবীণ ছাত্রীরা নজর কাড়ছিলেন সবার। পাকা চুল নিয়ে ঘুরে ঘুরে তারা যেন ফেলে আসা কৈশোরের স্মৃতি স্মরণ করছিলেন। আবার মধ্যবয়সী বা যুবতীরাও আনন্দ করছেন দলবেঁধে। তার মধ্যে আলাদা করে চোখে পড়ে কিশোরী থেকে প্রবীণ ছাত্রীর তিন প্রজন্মের একটি ভিড়। জানা গেলো তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য। যারা সবাই এই স্কুলেই শিক্ষাজীবন কাটিয়েছেন।
১৯৫৬ সালে ডা. খাস্তগীর স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন রোকেয়া খানম। পড়িয়েছেন নিজের পাঁচ মেয়েকেও। বোনের মেয়ে, এমনকি তার নাতনীরাও স্কুলজীবন কাটিয়েছে একই বিদ্যাপীঠে। তাই স্কুলের ১১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উপস্থিত হওয়ার আগ্রহ ছিলো চূড়ান্ত। একসাথে ১১ জন ছুটে আসেন উৎসবে অংশ নেবেন বলে।
রোকেয়া খানমের পাঁচ মেয়ে নাহিদা খানম (ব্যাচ ১৯৬৯), নাজমা বেগম (ব্যাচ ১৯৮৩), জাকেরা বেগম (ব্যাচ ১৯৮৪), সাঈদা খানম (ব্যাচ ১৯৮৮) ও জাহিদা বেগম (ব্যাচ ১৯৯০)। বোনের মেয়ে সলিমা বেগম (ব্যাচ ১৯৮৫) ও শামীমা বেগম (ব্যাচ ১৯৮৮)।
এ তো গেলো রোকেয়া খানমের দ্বিতীয় প্রজন্ম। ও রোকেয়া খানমের নাতনী সামিহা নাওয়ার মেয়ে জাকেরা বেগমের সন্তান। যিনি খাস্তগীর স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন ২০১২ সালে। তাঁর আরো দুই নাতনীও স্কুলটির প্রাক্তন ছাত্রী। ভাগ্নি সলিমা বেগমের মেয়ে নাবিহা ইবনাত (ব্যাচ ২০১৫) ও সামিহা নুজহাত (ব্যাচ ২০১৭)।
একই পরিবারের প্রায় এক ডজন প্রাক্তন ছাত্রীদের সাথে আলাপ করতে করতেই চলে এলেন তাদের আরো তিন আত্মীয়। রোকেয়া খানমের মেয়ে জাকেরা বেগমের ননদ রাবেয়া চৌধুরীও (১৯৭৮) পড়াশোনা করেছেন একই স্কুলে। আবার রোকেয়া খানমের ভাগ্নি সলিমা বেগমেরও দুই ননদ এসেছেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে। তারা নাসরিন সুলতানা (ব্যাচ ১৯৯১) ও শিরীন সুলতানা (ব্যাচ ১৯৯৩)।
শুধু এই পরিবারটিই নয়। স্কুলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জমিয়ে তুলেছেন এমন আরো পরিবার। মা ও মেয়েকে দেখা গেছে একসাথে হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন স্কুলপ্রাঙ্গণে। মা তার সময়কার স্মৃতি শোনাচ্ছেন মেয়েকে আর মেয়ে শোনাচ্ছে মাকে। দুই বা তারচেয়ে বেশি বোনেরাও ছুটে এসেছেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে একসাথে আনন্দ করবেন বলে।
এমন আরেকটি পরিবার পাওয়া গেলো, যারা সবাই ‘৬০, ‘৭০ ও ‘৮০ এর দশকের। ১৯৫৮ সালে ডা. খাস্তগীর স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন সাকিনা ইউসুফ। তার বোন রিজিয়া বেগম ১৯৬৯ সালে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। কিন্তু বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তার মাধ্যমিক পরীক্ষা আর দেয়া হয়নি।
সাকিনা ইউসুফের দুই মেয়ে সেলিনা খান (ব্যাচ ১৯৭৫) ও হেলেনা ইউসুফ (ব্যাচ ১৯৭৭)। সাকিনা ইউসুফের ভাইয়ের মেয়ে শাহানা আনোয়ারও (ব্যাচ ১৯৭৬) এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী। শুধুমাত্র স্কুলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অংশ নেয়ার জন্য সুইডেন থেকে ছুটে এসেছেন বলে জানান সেলিনা খান। আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে তাই ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন নিজের স্কুলটিকে।