এক পরিবারকে উচ্ছেদের অভিযোগ লোহাগাড়ায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, লোহাগাড়া

লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের মাইজবিলা গ্রামে বন্দোবস্তি পাওয়া দখলীয় জায়গা হতে এক পরিবারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠেছে। এ পরিবারকে উচ্ছেদ করে প্রতিপক্ষরা জায়গাটি দখলে নিয়েছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কর্ত্রী শহর বানু প্রতিকার পাওয়ার জন্য সংসদ সদস্য বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও তার পুত্র এনামুল হক একই ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন লোহাগাড়া থানায়। শহর বানু মাইজবিলা গ্রামের মৃত গোলাম ছোবহানের স্ত্রী । অভিযোগ পাওয়া পর সংসদ সদস্য বিধিমতে ব্যবস’া নেয়ার জন্য লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানা যায়। শহর বানুর অভিযোগপত্রে ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, শহর বানুর স্বামী গোলাম ছোবহান ১ একর ৩৪ শতক খাসজমি বন্দোবস্তি নেন ১৯৭২-৭৩ সনে। ১৯৪৭ সনে উক্ত জমি খাস খতিয়ানভূক্ত হয় বলে জানা গেছে। বন্দোবস্তি পাবার পর থেকে শহর বানুর সন্তান-সন্ততি নিয়ে ভোগ দখলে ছিলেন। সমপ্রতি প্রতিপক্ষগণ তাকে জায়গায় কাজে বাধা দেয় এবং উচ্ছেদসহ তাকে মারধর করেছেন। প্রতিপক্ষগণ উক্ত জায়গা হতে শহর বানুর রোপিত গাছ কেটে নিয়ে গেছে। তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। প্রতিপক্ষগণ উক্ত জায়গা দখল নিয়ে টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছে।
অপরদিকে, প্রতিপক্ষগণের পক্ষে মো. ইলিয়াছ নামে একজন উক্ত জায়গা তাদের মৌরুসি দাবি করে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে প্রতিকারের জন্য লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়াও লোহাগাড়া সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। বন্দোবস্তি সূত্রে মালিক শহর বানু ও তার পুত্র এনাম জানিয়েছেন, মামলার ব্যাপারে তাদের জানা নেই। আদালত থেকে কোনো নোটিশও দেয়া হয়নি। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে ইলিয়াছের দেয়া দরখাস্তের ভিত্তিতে গত ১১ অক্টোবর শুনানি হয়েছে বলে জানা গেছে। শুনানিতে দরখাস্তকারী ইলিয়াছ বা তার কোনো প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেনি । সংশিষ্ট সূত্র মতে, ইলিয়াছকে বন্দোবস্তির জায়গা ছেড়ে দেয়ার জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে।
স’ানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিরোধী জায়গাটি বন্দোবস্তি মূলে শহর বানুর দখলে ছিল। তবে প্রতিপক্ষরা প্রভাবশালী বিধায় শহর বানু ও তার ছেলেদেরকে উচ্ছেদ করেছে। প্রতিপক্ষদের হুমকি-ধমকিতে আতংকের মধ্যে দিনতিপাত করছেন শহর বানু ও তার সন-ানেরা।
এ ব্যাপারে ইলিয়াছের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাওয়া হলে তিনি সঠিক কোনো তথ্য দিতে গড়িমসি করেন। ফলে তার বিস্তারিত বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।