ফ্যামিলি ডেন্টিস্ট্রি

এক ছাতার নিচে বিশ্বমানের নিরাপদ দন্তসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
Interview_Dr

‘বিভিন্ন ক্নিনিকে ঘুরে ঘুরে দাঁতের চিকিৎসা দেওয়ার কাজ করতাম। কিন্তু চিকিৎসার পর যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে জীবাণুমু্‌ক্ত করা হতো না। যা আমাকে পীড়া দিতো। তাই কীভাবে নিরাপদ দন্ত চিকিৎসা দেওয়া যায়, সে চিন্তা থেকে ডা. মোস্তাক এইচ সাত্তারের উৎসাহে আমরা তিনজন মিলে “ফ্যামিলি ডেন্টিস্ট্রি” প্রতিষ্ঠা করি।’ বলছিলেন ‘ফ্যামিলি ডেন্টিস্ট্রি’র ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন ডা. পলাশ দাশ।
চট্টগ্রাম নগরীতে দাঁতের নিরাপদ চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে রোগীদের ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছে ‘ফ্যামিলি ডেন্টিস্ট্রি’। যেটির নির্বাহী পরিচালক ও একজন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন ডা. পলাশ দাশ। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় জন্ম তাঁর। পরিবারের বড় সন্তান তিনি। বাবা, মা, ছোট ভাইসহ নগরী সার্সন রোডের বাসায় বসবাস তার। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ২০০৫ সালে এমবিডিএস এবং ২০০৬ সালে ইন্টার্নি সম্প্নন করেন। ২০০৬ সাল থেকেই জিইসি মোড়ের আইডিয়েল ল্যাবে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে পেশা শুরু করেন। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জেনারেল হাসপাতালে ডেন্টাল আউটডোর ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করে। ২০১১ সালে প্রশিক্ষণের জন্য চলে যান ঢাকার পিজি হাসপাতালে। এর পরের বছর আবার যোগ দেন চসিকের জেনারেল হাসপাতালে। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে ডেন্টাল ইমপ্লান্ট, ক্রাউন ব্রীজ, জিইআইডি, কসমেটিক ডেন্টিস্টের ওপরে একাধিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি।
কথা হলো ডা. পলাশ দাশের সাথে। জানালেন, সবার আগে নিরাপদ দন্ত সেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে ফ্যামিলি ডেন্টিস্ট্রি ক্লিনিকটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। দাঁতের এমন কোন চিকিৎসা নেই, যা এখানে করা হয় না। পৃথিবীর যে কোনো দেশের দাঁতের চিকিৎসা এখানে পাওয়া যাবে। অনেক রোগী যাদের এইচআইভি পজিটিভ আছে, তারা কোথাও চিকিৎসা পায় না। অনেক রোগী এই বিষয়টি গোপন রাখেন। বলতে চান না। তবে আমাদের এখানে এই ঝামেলা নেই। কোনো রোগী আমাদের ক্নিনিকে আসলে প্রথমে আমরা তার হিস্ট্রি নিই। এ জন্য তাকে একটি ফর্ম সরবরাহ করা হয়। ফর্মে এইচআইভি আছে কিনা প্রশ্ন করা হয়। যারা এই প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ দেন, গোপনীয়তা বজায় রেখে তাদের জন্য আমরা আলাদা সেটআপ নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে থাকি। যাতে একজনের রোগ আর একজনের কাছে ছড়াতে না পারে। আর প্রতিটি রোগীর আলাদা আলাদা ডাটাবেজ সংরক্ষণ করা হয়। এর ফলে চিকিৎসা নেওয়া একজন রোগী যত বছর পরে এখানে আসেন না কেন, তার সকল তথ্য আমরা বের করে চিকিৎসা দিতে পারি। নিরাপদ দন্ত সেবার জন্য চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই এই ক্নিনিকের। পলাশ দাশ আরও জানান, খারাপ বা ছোঁয়াচে রোগ যাতে অন্যের মধ্যে না যেতে পারে, সেজন্য প্রতিটি রোগীর নামে আলাদ যন্ত্রপাতি বরাদ্দ করা হয়। যা অন্য রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় না। চিকিৎসা শেষে তার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি তাকে দিয়ে দেওয়া হয়। এর রকম সেবা দেশের আর কোথাও নেই বলে দাবি করেন এই ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ।
‘ফ্যামিলি ডেন্টিস্টি’তে চিফ কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অর্থোডন্টিক ট্রিটমেন্ট বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তাক এইচ সাত্তার। প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি আঁকাবাঁকা ও উঁচু-নিচু দাঁত সোজা করার চিকিৎসা করেন। ডাক পড়লে ডা. পলাশ দাশ এবং ডা. মোস্তাক এইচ সাত্তার অন্যান্য ক্নিনিকেও চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এছাড়াও ঢাকার পিজি হসপিটালের সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি) ডা. ওয়ারেশ উদ্দিন এবং ঢাকা ডেন্টাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি) ডা. মিজানুর রহমান ফ্যামিলি ডেন্টিস্ট্রিতে দাঁতের সার্জারি করে থাকেন।
জানা যায়, ফ্যামিলি ডেন্টিস্ট্রি’র সুনাম দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। কানাডা, ইউএসএ, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক রোগী আসেন এই ক্নিনিকে। ই-মেইলের মাধ্যমে তারা অ্যাপয়নমেন্ট নিয়ে থাকেন। ইপিজেড, ওমেন ইউনিভার্সিটি, ইউএসটিসি থেকে প্রচুর রোগী এই ক্নিনিকে চিকিৎসা নিতে আসেন। এছাড়া ৯৯ শতাংশ রোগীই বিভিন্ন ডাক্তারের রেফারেন্সে এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে প্রথম ডেন্টাল ইমপ্লান্ট (২০০৭ সালে) এবং ডেন্টাল লেজার চিকিৎসা সেবা এই ক্নিনিকের মাধ্যমে শুরু হয়। বাংলাদেশে প্রথম ২০০২ সালে দাঁতের রেডিও ভিউলাইজ এক্সরে (আরভিজি) চালু করেন তারা। ২০০৭ সালে চট্টগ্রামেও এটা চালু হয় প্রথমবারের মতো। এই এক্সরের মাধ্যমে কম্পিউটারে একই সাথে দেখা ও চিকিৎসা করা হয়। এই ক্নিনিকে রয়েছে বাঁকা দাঁত সোজা করা জন্য কসমেটিক ডেন্টিস্ট্রি চিকিৎসা পদ্ধতি। দুর্ঘটনায় দাঁত ভাঙলে তার চিকিৎসার জন্য রয়েছে ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফ্যাসিয়াল সার্জারি। দাঁতের বিভিন্ন চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে ডেন্টাল চেকআপ, অর্থোডন্টিক ট্রিটমেন্ট, ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, লেজার টুথ হোয়াইটেনিং, কসমেটিক ফিলিং, রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট, ক্যাপ, ব্রীজ, ডেনচার, স্কেলিং অ্যান্ড পালিশিং, পেডিয়াস্ট্রিক ডেন্টিস্ট্রি, স্মাইল ডিজাইনিং।
১৯৯২ সালে ঢাকা ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে এটির যাত্রা হয় । একটি গ্রুপ অব কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হয় ‘ফ্যামিলি ডেন্টিস্ট্রি’। শেয়ার হোল্ডার হিসেবে রয়েছেন ১৫ জন ডাক্তার। নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. পলাশ দাশ এবং ডা. শুভ্র প্রকাশ দত্ত। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন ডা. মোস্তাক এইচ সাত্তার। ঠিকানা: ফ্যামিলি ডেন্টিস্ট্রি, হাউজ নম্বর- ১৫৯, রোড নম্বর-১১, মুক্তিযোদ্ধা ভবন (ফার্স্ট ফ্লোর), চমেক প্রধান গেইটের বিপরীতে, ২০ কেবি ফজলুল কাদের রোড, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা।