এক কিলোমিটারে তিন লাশ

রাজু কুমার দে, মিরসরাই

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের ঠাকুরদীঘি এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে ট্রাকচাপায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন দুর্গাপুর গ্রামের। এরা হলেন, দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের শামসুল আলমের পুত্র সিএনজি অটোরিকশা চালক শাহ আলম (৪০), একই গ্রামের আবছারের পুত্র দিদারুল আলম (৩৫), আব্দুর রহমানের পুত্র মোশারফ (২৬)। এরা সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য। তিনজনের বাড়ি এক কিলোমিটারের মধ্যেই।
মঙ্গলবার সকালে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকের আবহ বিরাজ করছে। লাশের সামনে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
সিএনজি অটোরিকশা চালক শাহ আলমের স্ত্রী পারভীন আক্তার জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে গাড়ি নিয়ে তার স্বামী ঠাকুরদীঘি বাজারে যান। একটু পরে শুনতে পান তার স্বামী মারা গেছেন। প্রথমে তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি। পরে ঘটনাস’লে গিয়ে হতবাক হয়ে পড়েন। তিনি তিন ছেলেকে নিয়ে এখন কীভাবে সংসার চালাবেন। এই বলে বিলাপ করতে থাকেন পারভীন।
স’ানীয়রা জানান, স্বাধীনতার পরে দুর্গাপুর গ্রামে এক সাথে তিন লাশ দেখেনি এলাকাবাসী। বিভিন্ন সময় মানুষ মারা গেলেও এক সাথে একই দিন তিনজন মারা যায়নি।
ঠাকুরদীঘি বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমন শর্ম্মা জানান, নিহতদের সবাইকে সরকারিভাবে পুনর্বাসন করা দরকার। তা না হলে হতদরিদ্র পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
এদিকে ঘটনার পর মিরসরাই সকল সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা কালো ব্যাজ ধারণ করে।
ঠাকুরদীঘি-ঝুলনপুল-মাদবারহাট সিএনজি অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন জানান, নিহত তিন চালক খুবই ভদ্র ছিল। সংগঠনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা খরচ দেয়া হচ্ছে।
দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান বিপ্লব জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা করবেন। এছাড়া পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা করার চেষ্টা করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল কবির জানান, নিহত চালক পরিবারদের সহায়তা প্রদানের জন্য স’ানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া স’ানীয় সংসদ সদস্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।