সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম

এক্সপ্রেসওয়ে গণমানুষের কোনো কাজে আসবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর এলাকা পর্যনত্ম ১৮ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে সিডিএ চেয়ারম্যানের বক্তব্য আর যুক্তি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সংবিধান পরিপনি’ বলে উলেস্নখ করেছেন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম।
গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের ব্যানারে আয়োজিত ‘নগর যাতায়াতে পথচারী ও গণপরিবহনে অগ্রাধিকার’ প্রেড়্গিত চট্টগ্রাম শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব স’পতি জেরিনা হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সিডিএ চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়েছেন- লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যনত্ম ১৮ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করবেন, ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যুক্তি হিসেবে তিনি চট্টগ্রামের সিআইপি/ভিআইপিদের দ্রম্নত বিমানবন্দর যাত্রার প্রয়োজনীয়তার কথা উলেস্নখ করেন। কিন’ বিদ্যমান সড়ক পরিসরকে শতভাগ ব্যবহার না করে, জাংশনসহ সড়ককে অব্যবস’াপনায় রেখে এবং সাশ্রয়ী বিবেচনা না করে, সর্বোচ্চ ২০০ জন শিল্প উদ্যোক্তা তথা সিআইপি/ভিআইপিদের জন্য আনুমানিক দুই হাজার আটশত কোটি টাকার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। এছাড়া নগর যাতায়াতের কোন কৌশলগত মহাপরিকল্পনায় এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সুপারিশ আছে বলে আমাদের জানা নেই এবং এটির ফিজিবিলিটি স্টাডি জনসমড়্গে প্রকাশিত হয়েছে বলেও আমাদের জানা নেই।
নগরে প্রানিত্মক অবস’ানে সংযোগ সঠিক পরিকল্পনাপ্রসূত পদড়্গেপ নয় উলেস্নখ করে তিনি বলেন, সকল নগরবাসীর জন্য বিমানবন্দরসহ নগরের যানজট কমানোই হবে ন্যায়সংগত পদড়্গেপ। সরকার সচেষ্ট হলে, হাজার কোটি টাকার পরিবর্তে শত কোটি টাকা ব্যয় করে বিমানবন্দর যাত্রা গতিশীল করা সম্ভব।
নগরের অবস’া তুলে ধরে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ৮৩ শতাংশ নগরবাসীর ব্যক্তিগত গাড়ি দিয়ে যাতায়াতের সুযোগ নাই। সর্বোচ্চ মাত্র ১০ শতাংশ নাগরিক ব্যবহার করেন ব্যক্তিগত গাড়ি। ডোর টু ডোর সুবিধা পেতে ছিনতাই ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েও ২২ শতাংশ মানুষ ব্যবহার করেন সিএনজি থ্রি হুইলার ট্যাক্সি বা রিকশায় এবং ৪৩ শতাংশ মানুষ চলাচল করেন অনির্ভরযোগ্য, অনিরাপদ ও নিম্নমানের বাস বা টেম্পোর মত গণপরিবহনে। ২৫ শতাংশ মানুষের অন্যতম পন’া হচ্ছে হেঁটে পথচলা।
তিনি আরও বলেন, নগরের পরিবহন ব্যবস’া সরলীকরণ করে সমাধান সম্ভব নয়। বিশ্বমানের নগর করতে হলে প্রয়োজন আইনগতভাবে ড়্গমতাপ্রাপ্ত শক্তিশালী পস্ন্যানিং প্রতিষ্ঠান। যেখানে পেশাগত দড়্গতা ও মৌলিক বিষয়গুলো পর্যবেড়্গণের মাধ্যমে নগরের যৌক্তিক উন্নয়ন ঘটানোর জন্য নিরনত্মর ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করার সুপারিশ এবং সে মোতাবেক কর্ম পরিচালনা করা হয়। বিশ্বমানের নগরে উড়ালসেতু/এক্সপ্রেসওয়ে হবে অথচ পথচারীর পথ এবং গণপরিবহন অবহেলিত থাকবে তা সঠিক ভাবনা নয়। বিজ্ঞান ও সমতাভিত্তিক সমাধানই হতে পারে নগরকে কর্মড়্গম করতে এবং যানজট কমাতে।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগঠনের স’পতি জেরিনা হোসেন ও সহসভাপতি সুভাষ চন্দ্র বড়-য়া।
এতে উপসি’ত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি বিধান বড়-য়া, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার ও তাসলিমা মুনা প্রমুখ।