একুশে পদক পাচ্ছেন মইনুল ইসলাম ও সুব্রত বড়-য়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের দুই গুণিজন একুশে পদকে ভূষিত হচ্ছেন। তাঁরা হলেন অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম এবং লেখক সুব্রত বড়-য়া। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের একুশজন বিশিষ্ট নাগরিককে ২০১৮ সালের একুশে পদক প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব টি এম মুছা তালুকদার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার একুশজন বিশিষ্ট নাগরিকের নাম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদক প্রদান করবেন।
ভাষা আন্দোলনে দুজন, শিল্পকলায় দশজন, সাংবাদিকতা, গবেষণা, অর্থনীতি ও সমাজসেবায় একজন করে এবং ভাষা ও সাহিত্যে পাঁচজন এবারের একুশে পদক পাচ্ছেন।
ভাষা আন্দোলনে মরহুম আ জ ম তকীয়ুল্লাহ ও অধ্যাপক মির্জা মাজহারুল ইসলাম, শিল্পকলার সংগীত বিভাগে শেখ সাদী খান, সুজেয় শ্যাম, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, মো. খুরশীদ আলম ও মতিউল হক খান, শিল্পকলার নৃত্যে বেগম মীনু হক (মীনু বিল্লাহ), অভিনয়ে হুমায়ুন ফরীদি (মরণোত্তর), নাটকে নিখিল সেন, চারুকলায় কালিদাস কর্মকার (মরণোত্তর), আলোকচিত্রে গোলাম মুস্তফা পাচ্ছেন একুশে পদক। সাংবাদিকতায় একুশে পদক পাচ্ছেন রণেশ মৈত্র, গবেষণায় ভাষাসৈনিক প্রফেসর জুলেখা হক, অর্থনীতিতে ড. মইনুল ইসলাম ও সমাজসেবায় ইলিয়াস কাঞ্চন। ভাষা ও সাহিত্যে এ পদক পাচ্ছেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, কবি হায়াৎ সাইফ (সাইফুল ইসলাম খান), সুব্রত বড়-য়া, রবিউল হুসাইন ও খালেকদাদ চৌধুরী (মরণোত্তর)।
ড. মইনুল ইসলাম : অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম ১৯৫০ সালের সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম ওবাইদুল হক এবং মাতার নাম সাজমা খাতুন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে অর্থনীতিতে এমএ এবং আমেরিকার ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ সালে এ বিষয়ে পিএইচডি করেন। ড. মইনুল বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ইউজিসি প্রফেসর হিসেবে অধ্যাপনা করছেন। তাঁর বহু গবেষণা প্রবন্ধ-নিবন্ধ দেশে-বিদেশের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে ।
একুশে পদক পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ড. মইনুল ইসলাম সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আমি মনে করি, আমার অবদানের জন্য আমি এ পদক পাচ্ছি এবং তা আমি উন্নত শিরে গ্রহণ করবো। পাশাপাশি আমি সবার কাছে দোয়া কামনা করছি, যেন মানুষের জন্য যে অর্থনীতি, সে অর্থনীতি নিয়ে আমি কাজ করে যেতে পারি। সরকারকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
সুব্রত বড়-য়া : সুব্রত বড়-য়া ১৯৪৬ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম অন্নদা চরণ বড়-য়া এবং মাতার নাম সরোজিনী বড়-য়া। তিনি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ১৯৬৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সম্মান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সুব্রত বড়-য়া বাংলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি তিনবার অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও চট্টগ্রাম বিজ্ঞান পরিষদ স্বর্ণপদক লাভ করেন।