একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য ভোটার স’ানান্তরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সুযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনে অফিসের কর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে অনেক সময় লাগে। সিডি প্রস’তের সময় যদি কেউ যদি ঠিকানা স’ানান্তর করেন, তাহলে সেই ভোটারের নাম দুটি নির্বাচনী এলাকায় চলে আসতে পারে। ফলে দ্বৈত ভোটার হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই ভোটার তালিকা প্রণয়নের সুবিধার্থে তফসিল ঘোষণার কমপক্ষে দুই মাস আগে ভোটার স’ানান্তরের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। তবে বিশেষ ব্যবস’ায় ভোটার স’ানান্তর করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সমপ্রতি আবাসস’ল পরিবর্তন বা অন্য কারণে ভোটার স’ানান্তরের জন্য প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এরপর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে স’ানান্তর কার্যক্রম।
তবে ভোটার তালিকা আইন-২০০৯ অনুযায়ী, ভোটার স’ানান্তরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা আইনের পরিপন’ী। এই আইনের ধারা ১০ এ বলা আছে, ‘বিভিন্ন নির্বাচিত সংস’ার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার তারিখ হইতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়কাল ব্যতিরেকে, অন্য যেকোনো সময়, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, প্রয়োজন অনুসারে নিম্নোক্তভাবে সংযোজন ও বিয়োজনপূর্বক ভোটার তালিকা সংশোধন করা যাইবে।’
জেলা নির্বাচনের অফিসের উচ্চমান সহকারী আবুল খায়ের বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের তিনশটি সংসদীয় আসনের হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকার সিডি উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসগুলোয় সরবরাহ করার টার্গেট নিয়েছে ইসি। সেজন্য স’ানান্তর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সুযোগ আছে।
তিনি বলেন, ১০ অক্টোবর ভোটার তালিকার সিডি অনুযায়ী ছবিসহ এবং ছবি ছাড়া ভোটার তালিকা মুদ্রণ শুরু করবে ইসি। তবে ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিশেষ ব্যবস’ায় স’ানান্তরের সুযোগ পাবেন ভোটাররা।
জেলার নির্বাচন অফিসার মুনীর হোসাইন খান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকার সিডি প্রস’তের কাজ চলছে। তাই ভোটার স’ানান্তর কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে ইসি। তবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার হওয়া যাবে।
সংবিধান অনুযায়ী দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসাবে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
আর চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর থেকে জাতীয় নির্বাচনের কাউন্ট-ডাউন শুরু হবে। ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে যে কোনোদিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য তৈরিকৃত তালিকায় চট্টগ্রাম জেলায় ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৪২১ ও মহিলা ভোটার ২৭ লাখ ২৪ হাজার ৯৪২ জন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে মোট ভোটকেন্দ্র থাকবে ১৮৯৮টি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস’া বাতিলে পর ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রাখা হয়েছে সংবিধানে। দশম সংসদ নির্বাচন সেই অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারো ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।