ডিসি হিল নিয়ে আন্দোলন

একাত্মতা ঘোষণা মেয়রের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ব্যাপারে নানামুখী শর্ত আরোপ করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক। এর প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্য-সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র ডিসি হিলকে নিয়ে প্রশাসনের এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার কারণে জনমনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলমান রাখার এই আন্দোলনে সংস্কৃতিকর্মীদের সাথে এবার একাত্ম হয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
ডিসি হিলে আগের মত যে কোন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। আ জ ম নাছির উদ্দীন সংস্কৃতিকর্মীদের আন্দোলনের সাথে প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘ডিসি হিলে যে কোন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আগের মতোই চলবে। চট্টগ্রামের সংস্কৃতি চর্চার সাথে ডিসি হিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ সত্য কথাটি প্রশাসন জানে। আমার জানা মতে, এখানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আয়োজনের ব্যাপারে সরকারি কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তাদের বাস ভবন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে সৃষ্ট শব্দ কম্পনের কারণে উনাদের সামান্য অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন’ এ সমস্যা তো সহজে সমাধানযোগ্য।
গত শনিবার বিকেলে ডিসি হিলের বর্ষবরণ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ সব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলবে। বিগত ৪০ বছর ধরে এখানে নববর্ষের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। নববর্ষের উৎসব বলতে চট্টগ্রামের মানুষ ডিসি হিলের অনুষ্ঠানকেই বোঝেন। সুতরাং চট্টগ্রামের নববর্ষ পালনের ইতিহাসের সাথে ডিসি হিলও জড়িয়ে গেছে। ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যাবে না।’
সিটি মেয়র বলেন, ‘প্রয়োজনে আমি বিভাগীয় কমিশনার এবং ডিসির সাথে বসবো। আলাপ-আলোচনা করব। এ ব্যাপারে কি করা যায়, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। উনাদের অসুবিধাগুলো পর্যালোচনা করা হবে। অনুষ্ঠান আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তাদের যাতে কোন সমস্যা সৃষ্টি না হয়; সে ব্যাপারে সংস্কৃতি কর্মীদের সাথে আলোচনা করা হবে। পরিসি’তি বিবেচনা করে যাতে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয় বা নিয়ন্ত্রিত কর্মসূচি পালন করা হয়; সে বিষয়েও পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সংস্কৃতিকর্মীদের অনুরোধ জানানো হবে।’
এ সময় বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের মধ্যে আহমেদ ইকবাল হায়দার, প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী প্রমুখ উপসি’ত ছিলেন।