প্রাথমিকে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা

একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ

দেশে বহু ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত অবস'ায় আছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মিডিয়ামসহ নানা প্রথার সরকারি বেসরকারি শিড়্গা ব্যবস'া চালু থাকায় বর্তমানে সচ্ছল ও অবস'াপন্ন পরিবারের অভিভাবকরা সনত্মানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ানোর ওপর এক…

সম্পাদকীয়

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। জাতীয় প্রাথমিক শিড়্গা একাডেমি (নেপ) এই পরিকল্পনার একটি খসড়া ইতিমধ্যে তৈরি করেছে। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিড়্গা সচিব আকরাম আল হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
এ সময় তিনি বলেন, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সপ্তাহের কোনদিন কোন বিষয়ে কতটুকু অংশ পড়ানো হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। সব শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানই অনুসরণ করবে সেই পাঠ পরিকল্পনা বা লেসন পস্ন্যান। তিনি বলেন, ওই লেসন পস্ন্যান চূড়ানত্ম করে প্রত্যেক স্কুলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। দেশের প্রত্যেক স্কুলের লেসন পস্ন্যান হবে একইরকম।
বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সচিব বলেন, রাজধানীর একটি স্কুলে যে পাঠদান হবে পঞ্চগড়ের প্রত্যনত্ম এলাকার একটি স্কুলেও একই পাঠদান হবে। বিষয়টি মনিটরিং করবেন শিড়্গা কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দুর্নীতিকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার জন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করছি আমরা। এ সময় সচিবের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীও উপসি’ত ছিলেন। তিনি শিড়্গকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদড়্গেপ গ্রহণের কথা বলেন।
গণশিড়্গা সচিব বলেন, আমাদের সার্কুলারে আছে যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিড়্গকদের সনত্মানদের প্রাথমিক বিদ্যালয়েই পড়াতে হবে। তাদের সনত্মানদের কিন্ডার গার্টেন স্কুলে পড়াতে পারবে না। আগামী দুই মাসের মধ্যে সব শিড়্গকদের শিড়্গক সার্ভিসবুক সংক্রানত্ম ডাটাবেইজ তৈরির কথাও জানান সচিব। শিড়্গকদের পিআরএস শুরম্নর দুই মাসের মধ্যে সমসত্ম আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ব্যবস’া নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ বলতে হবে এটিকে। দেশে বহু ধরনের শিড়্গা ব্যবস’া চালু আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত অবস’ায় আছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো।
কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মিডিয়ামসহ নানা প্রথার সরকারি বেসরকারি শিড়্গা ব্যবস’া চালু থাকায় বর্তমানে সচ্ছল ও অবস’াপন্ন পরিবারের অভিভাবকরা সনত্মানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ানোর ওপর এক প্রকার অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে। এর ফলে এই শিড়্গা প্রতিষ্ঠানে ঠেকায় পড়ে পড়তে যাওয়ার মতো অবস’া দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে যাচ্ছে সমাজের নিম্ন আয়ের পরিবারের সনত্মানেরা। শুধু শহরে নয়, গ্রামের অবস’াও তদ্রূপ। অনেকে বেসরকারি শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানোকে সামাজিক মর্যাদার অংশ হিসেবে নিয়েছেন।
এর ফলে ড়্গতিগ্রসত্ম হচ্ছে এইসব শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানের শিড়্গার পরিবেশ। সমাজের বিত্তবান ও প্রভাবশালীদের সনত্মান এইসব বিদ্যালয়ে না পড়ার কারণে প্রভাবশালীরা এইসব শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানের ভালোমন্দের খোঁজও রাখেন না। শিড়্গকরা কী পড়ান, কতটুকু পড়ান বা শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানে শিড়্গার পরিবেশ কতটুকু আছে তার খবরও রাখেন না অনেকে। সরকারি পর্যায় থেকেও খুব বেশি গুরম্নত্ব পায় না এইসব শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানের ভালোমন্দ।
অথচ দেশের একটি বৃহত্তর অংশের সনত্মানেরা এইসব শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানে শিড়্গা গ্রহণ করছে। এরাই ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানে পড়বে এবং এক সময় কর্মজীবনে প্রবেশ করবে। কাজেই এই বৃহৎ শিড়্গার্থী শ্রেণির কথা ভেবে সরকার যে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সে সঙ্গে শিড়্গকদের সনত্মানদের একই বিদ্যালয়ে পড়ার বাধ্যবাধকতা দিয়েছে তা উত্তম সিদ্ধানত্ম বলে মনে করি। আমরা এখন এই সিদ্ধানত্ম বাসত্মবায়নের অপেড়্গায় আছি। কারণ এটি বাসত্মবায়িত হলে প্রাথমিক শিড়্গার মান অনেক বৃদ্ধি পাবে।