একটি বলের জন্য এমন মৃত্যু!

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘ও সিফাত, বাজান কথা বল। কথা না বলে তো তুই কখনও থাকতে পারতিস না। আজকে কেন কথা বলস না। আর কতক্ষণ চুপ করে থাকবি বাবা? কেন তুই খেলতে গেলি? আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো। তুই কি আর আমাকে বাবা ডাকবি না?।’

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ছেলের লাশ বুকে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে এমন আহাজারি করছিলেন মো. মিজান। তার কান্নায় কান্নায় ভারী হয়ে উঠছিল ওই এলাকার পরিবেশ। শুক্রবার বিকালে তার ১২ বছরের সন্তান সিফাত সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ হারিয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকালে নগরীর খুলশী থানার ঝাউতলা ডিজেল কলোনি মসজিদ মাঠে নানা বয়সী কিছু তরুণ-যুবক একসঙ্গে ফুটবল খেলছিল। খেলার সময় বলটি মাঠের পাশে অবস’তি একটি সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়। প্রথমে বলটি তুলতে যায় সিফাত। তার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ট্যাংকে নামেন সহোদর ইমরান হোসেন ও রুবেল হোসেন। একপর্যায়ে তাদেরও কোনো সাড়া না পেয়ে অন্যরা খবর দেয় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও খুলশী থানায়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও পুলিশ গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন’ ততক্ষণে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

পুলিশের দাবি ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়ায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন, ট্যাংকে বৈদ্যুতিক লাইন দেওয়া ছিল। তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে।
শিশু সিফাত ডিজেল কলোনির বাসিন্দা মো. মিজানের ছেলে। মিজান পেশায় রাজমিস্ত্রী। তাদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সুধারাম এলাকায়। সহোদর ইমরান ও রুবেল একই কলোনিতে থাকতো। তাদের বাবার নাম আফজাল হোসেন।
প্রতিবেশীর মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন ওই কলোনির বাসিন্দা জাহেদ হোসেন। তিনি বলেন, ওই মাঠে নিয়মিত খেলে কলোনির ছেলেরা। বলটি সেপটিক ট্যাংকে পড়ে গেলে একে একে তিনজনই নেমে যায়। পরে তাদের মৃত্যু হয়।
জাবেদ খান নামে ঘটনার এক প্রতক্ষদর্শী সুপ্রভাতকে বলেন, সেপটিক ট্যাংকে একটি বৈদ্যুতিক লাইনের সংযোগ ছিল। ঘটনার পর পুলিশ এসে লাইনটি কেটে দেয়। এর পুরো এলাকার বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার তিনজন বিদ্যুস্পৃষ্টে মারা গেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তবে খুলশী থানার এসআই শরীফুল আলম বলেন, একটি বলের জন্য একে একে তিনজন ট্যাংকটিতে নামে। পরে ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়া তিনজনই আহত হয়। উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
এসআই শরীফুল আলম বলেন, পুলিশের একটি টিম ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেছে। এছাড়া পুরো ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।