একজন নিহত, ১২ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের মেহেরঘোনা রেঞ্জের আওতাধীন বনবিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বনকর্মী ও বনদস্যুদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটেছে। এসময় মোস্তাক আহম্মদ (৩৫) নামে এক বনদস্যু নিহত এবং উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধসহ ১৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও এখনও পর্যন্ত ২ বনপ্রহরী নিখোঁজ রয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতসহ আহতদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে বনবিভাগের ৯ জন আহত ও ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বনপ্রহরী আবদুল মান্নান, আবদুল মতিন, জসিম উদ্দিন ও বিটকর্মকর্তা মামুনের অবস’া আশঙ্কাজনক।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা হক মাহবুব মোর্শেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা (স্পেশাল ওসি) মেহেদী হাসান জানান, একদল সশস্ত্র বনদস্যু শুক্রবার সকালে মেহেরঘোনা বনবিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কাঠ কাটছিল। সংবাদ পেয়ে মেহেরঘোনা বনবিটের একদল বনকর্মী ঘটনাস’লে পৌঁছেন। এসময় সশস্ত্র বনদস্যুরা বনকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে এবং ধারালো দা দিয়ে বনকর্মীদের এলোপাতাড়ি কোপায়। জবাবে বনকর্মীরাও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। দস্যুদের হামলায় ঘটনাস’লেই ৯ জন বনকর্মী গুলিবিদ্ধ ও দায়ের কোপে আহত হন। আহত ৭ বনকর্মীকে উদ্ধার করা হলেও ২ জন বনকর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

স’ানীয় বাসিন্দা নাছির উদ্দিন জানিয়েছেন, গোলাগুলিতে নিহত বনদস্যু মোস্তাক আহম্মদ হলো কক্সবাজার সদরের মেহেরঘোনার এলাকার মোহাম্মদের ছেলে। তার মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রয়েছে। বনদস্যুদের মধ্যে আহত হয়েছেন ৪ জন। এদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হক মাহবুব মোর্শেদ জানান, গুলিবিদ্ধ ও দায়ের কোপে আহত ববনকর্মীদের আশঙ্কাজনক অবস’ায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি জানান, এখনো ২ জন বনপ্রহরী নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দেখতে জেলা সদর হাসপাতালে ছুটে যান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভা মেয়র মুজিবুর রহমান।