এই নগরে অবসর কাটানোর আয়োজন

সিফায়াত উল্লাহ

ছোটরা খেলার মাঠে, বড়রা সিনেমা হলে। প্রবাদটি এক সময় চালু ছিল। তখন ঘাটে ঘাটে ছিল সিনেমা হল। মাঠও ছিল অনেক। বিনোদনের ছিল না অভাব। তবে সময়ের সঙ্গে কমেছে মাঠ ও সিনেমা হল। খেলার মাঠগুলো দখল হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বন্ধ হচ্ছে সিনেমা হলগুলো। এছাড়া প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখতে গিয়ে পোকামাকড়ের কামড় খাননি এমন সিনেমাপ্রেমী এদেশে খুবই কম।

বর্তমানে ইট-পাথরের এই শহরে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়াই তো দায়। খোলা জায়গা তো এক মহার্ঘ। বড় থেকে ছোট, সববয়সী মানুষ বিনোদনের অভাবে হাঁপিয়ে উঠছেন।
সিনেমাপ্রেমীরা জানিয়েছেন, এক সময় চট্টগ্রামের বেশিরভাগ সিনেমা হলেরই ছিল ভাঙা চেয়ার। পোকা-মাকড়ের কামড়। গুমোট পরিবেশ। প্রজেক্টরের বেহাল অবস’া। সাদাকালো পর্দা। সাউন্ডের অবস’া আরো ভয়াবহ। হলে বসে পুরো একটা সিনেমা দেখা যেন যুদ্ধজয়ের মত। তারা ওল্টো প্রশ্ন করেন, এত সমস্যার মধ্যে একজন সুস’ মানুষ গিয়ে কেন অসুস’ হবেন?

বর্তমানে দেশে যে-কটা সিনেমা হল আছে বেশির ভাগেরই পরিবেশ খুবই নাজুক। নানা সমস্যায় জর্জরিত সেসব প্রেক্ষাগৃহ থেকে বিনোদিত নয়, নাকাল হয়ে বের হতে হয় দর্শকদের। চট্টগ্রামের সিনেমা হলগুলোর অবস’াও একই। হাতেগোনা কয়েকটি চালু থাকলেও সেগুলো দর্শক খরায় ভুগছে।

কিন’ অবসরে পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে একটু বিনোদন পেতে চায় অনেকে। অবসর সময় বড় পর্দায় সিনেমা দেখে কাটাতে চায় এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। কিন’ বিনোদনের ক্ষেত্রগুলো সংকুচিত হওয়ায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। এমন সময়ে কয়েকজন উদ্যোক্তা ‘সিলভার স্ক্রিন’ নামে চট্টগ্রামে প্রথম এবং অত্যাধুনিক সিনেপ্লেক্স গড়ে তুলেছেন। নগরীর প্রাণকেন্দ্র ষোলশহর দুই নম্বর গেট ফিনলে স্কয়ারের সপ্তম তলায় প্রায় ৫ হাজার স্কোয়ার ফিটের ওপর গড়ে তোলা হয়েছে এটি। সিনেপ্লেক্সটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে আজ।
উদ্যোক্তরা জানিয়েছেন, দর্শকরা যাতে আনন্দদায়ক চলচ্চিত্র উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য সর্বোচ্চ আরামদায়ক আসন নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিকমান বজায় রেখে সিনেপ্লেক্সেটি গড়ে তোলা হয়েছে। সব যন্ত্রপাতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে।
তারা জানান, চট্টগ্রামের সিনেমা হলগুলোর অবস’া নাজুক। মানুষের ইচ্ছে হলেও এখন সিনেমা হলে যেতে পারেন না। বিনোদনের অভাব সৃষ্টি হয়েছে। তাই মানুষকে বিনোদিত করতে এধরনের উদ্যোগ নিয়েছি।
সিনেপ্লেক্স কী?

সাধারণত একটি সিনেপ্লেক্সে ডলবি সাউন্ড সিস্টেম, সম্পূর্ণ থ্রিডি, ফুল এইচডি ব্যবস’া ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস’া থাকে। একই ছাদের নিচে একাধিক পর্দায় একাধিক সিনেমা দেখার সুযোগ এবং সুপ্রশস’ লবি, আধুনিক রেস্তোরাঁ, কফিশপ ইত্যাদিও ব্যবস’া রাখা হয়। ২০০২ সালে বাংলাদেশের প্রথম সিনেপ্লেক্স ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’ রাজধানীয় ঢাকায় যাত্রা শুরু করে।
কী আছে সিলভার স্ক্রিনে

এই সিনেপ্লেক্সে প্লাটিনাম ও টাইটানিয়াম নামে দুটি হল রয়েছে। মোট আসন রয়েছে ৯০টি। এর মধ্যে প্লাটিনাম হলে আসন রয়েছে ৭২টি। অপরদিকে টাইটানিয়াম হলে ১৮টি আসন রয়েছে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চারটি শো থাকবে। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে লেট নাইট শো চালু হবে।
টিকিটের দাম

সিনেপ্লেক্সটির প্লাটিনাম হলে টুডি বাংলা সিনেমার টিকিট ৪শ ও থ্রিডির ৫শ টাকা। বিদেশি টুডি সিনেমা ৫শ ও থ্রিডি ৬শ টাকা। প্রিমিয়াম সিটের প্রতিটির টিকিট মূল্য ৬শ থেকে ৮শ টাকা।
টাইটানিয়াম হলে আসন প্রতি টিকিটের দাম পড়বে ১২শ থেকে দেড় হাজার টাকা। আপাতত কাউন্টার থেকে দর্শকদের টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে অনলাইনে টিকিট কাটা যাবে। এছাড়া আগাম টিকিটের ব্যবস’াও রয়েছে।
টিকিট পাবেন যেভাবে

আপাতত নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে অনলাইন থেকে টিকিট কাটা যাবে। এছাড়া একদিন আগের আগাম টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।