উৎসবের আমেজ ১০ পৌরসভায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই চট্টগ্রামের পৌরসভাগুলোতে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের অনেকেই ভোটারদের দ্বারস’ হচ্ছেন। তবে দলীয় নির্বাচন হওয়ায় এখনো অনেক প্রার্থী তাকিয়ে আছেন দলের সবুজ সংকেত পাবার আশায়। চট্টগ্রামে ১০ টি পৌরসভায় ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে এবার মোট ভোটার ২ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ জন।
গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সারাদেশে অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী চট্টগ্রামে ১৪ টি পৌরসভার মধ্যে এবার ১০ টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকী ৪টির মধ্যে দুটি পৌরসভার সীমানা জটিলতা এবং অন্য দুটি পৌরসভার মেয়াদ শেষ না হওয়ায় এগুলোতে নির্বাচন হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১০ টি পৌরসভার মধ্যে আছে বারৈয়ারহাট, মীরসরাই, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী। এসব পৌরসভার ৯০টি ওয়ার্ডে এবার ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৮৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ২৬ হাজার ৭১৭ জন। ১০ টি পৌরসভার ১৩৩ টি ভোটকেন্দ্রে ৭৯১ টি বুথের মাধ্যমে ভোটারদের ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। এছাড়া ভোট গ্রহণের জন্য আরো ৬ টি অস’ায়ী কেন্দ্র এবং ৫৪ টি অস’ায়ী বুথ থাকবে।
সূত্র আরো জানায়, ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন। স্ব স্ব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগের জন্য আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে নিয়োগ দিয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসার খোরশেদ আলম গতকাল সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, সামনে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে সকল প্রস’তি আগে থেকেই নেয়া আছে। নির্ধারিত দিনেই পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
খোরশেদ আলম বলেন, ভোট গ্রহণ দিনের দুই দিন আগে আমাদের কাছে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনের যাবতীয় সারঞ্জমাদি পৌছাবে। তবে ব্যালট বক্সগুলো প্রত্যেক উপজেলায় আগে থেকেই আছে বলে জানান তিনি।
পৌরসভাগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার পৌরসভা নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, এলডিপি, ইসলামী ঐক্যজোট এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র দলের অর্ধশতাধিক সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী অংশগ্রহণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত মঙ্গলবার নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর থেকেই মিরসরাই ও বারৈয়ারহাট পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের সাথে জনসংযোগ করা শুরু করেছেন। তারা বাড়ি বাড়ি এবং চায়ের দোকানে গিয়ে ভোটারদের নিকট দারস’ হচ্ছেন। এ দুটি পৌরসভাতে মেয়র পদে নির্বাচন করার আগ্রহী আছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং অন্যান্য দলের ১৭ জন প্রার্থী।
চন্দনাইশ পৌরসভায় মেয়র পদে সরকারি দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, এলডিপি এবং ইসলামিক ফ্রন্টের সম্ভাব্য প্রার্থী আছেন ৯ জন।
সাতকানিয়া পৌরসভায় মেয়র পদপ্রার্থী আছেন ৮ জন। এরমধ্যে সরকারি দল আওয়ামী লীগেরই আছে ৭ জন।
পটিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে আছেন ১০ জন।
রাঙ্গুনিয়া পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ৬ জন বিএনপি’র ৪ জন সম্ভাব্য প্রার্থী আছেন।
এ সকল প্রার্থী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতার জন্য তৎপরতা চালিয়ে আসছেন। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী মাঠে নামতে তারা আরো তৎপর হয়েছেন। বাঁশখালী পৌরসভায় এখনো নির্বাচনে মাঠে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আছেন ৫ জন। তবে সেখানে নির্বাচনকে ঘিরে যে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হওয়ার কথা ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা দলের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা না পাওয়ায় সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে জানা গেছে।
এছাড়া এবারই প্রথম দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পৌরসভা নির্বাচন। ফলে নির্বাচনী মাঠে আপাতত সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ দেখা গেলেও রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পেতে তারা তাকিয়ে আছেন সবুজ সংকেতের দিকে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দলীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে অনেকেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া নির্বাচনে সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর পদেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। তবে কাউন্সিলর পদে প্রার্থিতার জন্যে দলীয় মনোনয়ন প্রয়োজন হবে না।
নির্বাচন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন হচ্ছে ৩ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ৫ ও ৬ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ ডিসেম্বর এবং ভোট গ্রহণের দিন আগামী ৩০ ডিসেম্বর।

আপনার মন্তব্য লিখুন