উৎসবমুখর পরিবেশে সরস্বতী পূজা উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক

উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল রোববার নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপগুলোতে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা। ভোর থেকেই শুরু হয় নানা ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক কর্মসূচি।
গতকাল পঞ্চমী তিথি ছিল সকাল ১০টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই হিন্দুদের ঘরে ঘরে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ভক্ত ও শিক্ষার্থীরা উপবাস থেকে দেবীর শ্রীচরণে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন সকাল থেকেই। পূজা শেষে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পর সেই উপবাস ভাঙেন। পুষ্পাঞ্জলি শেষে সকলেই প্রার্থনা করেন বিদ্যা, বুদ্ধি বৃদ্ধিসহ পরিবার তথা আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব দেশের মঙ্গল কামনায়। এরপরই হিন্দুদের ঘরে ঘরে পিঠা খাওয়ার আনন্দে মেতে উঠেন পরিবারের সদস্যরা। দুপুরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিতরণ করা হয় মহাপ্রসাদ। মণ্ডপগুলোতে মহাপ্রসাদ আস্বাদনে ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত।
দেবী সরস্বতীর কৃপা লাভের আশায় পূজামণ্ডপগুলোতে সকালে থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন ভক্তরা। গতকাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় স্কুল ও কলেজ পড়-য়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও কম ছিল না।
পূজা উপলক্ষে গতকাল নগরীর অলি-গলি, পাড়া-মহল্লা, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজামণ্ডপগুলোতে ছিল সাজ সাজ রব। প্রতিটি মণ্ডপেই ছিল সকাল-রাত পর্যন্ত নানা আয়োজন। মণ্ডপগুলো সেজেছিল দৃষ্টিনন্দন সাজে। মণ্ডপের বাইরে নির্মাণ করা হয়েছিল তোরণ ও গেট। সন্ধ্যায় ছিল নানা রংয়ের আলোর সমাহার। সন্ধ্যায় ঢাক-ঢোলসহ করা হয় আরতি।
এসময় ছোট-বড় সকলকেই আনন্দে মেতে উঠতে দেখা যায়। এছাড়া রাতে আয়োজন ছিল সাংস্কৃতিক ও নৃত্যানুষ্ঠানের। যা দেখতে ভিড় জমান নানা বয়স ও শ্রেণি পেশার মানুষ। অনুষ্ঠানের ফাঁকে সকলের মাঝে বিতরণ করা হয় প্যাকেট প্রসাদ।
গতকাল নগরের চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মেডিক্যাল, জেএমসেন হল, টেরীবাজার, হাজারী লেইন, পাথরঘাটা, পলোগ্রাউন্ড, চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, ফুলতলা, ডিসি রোড এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
গতকাল সন্ধ্যা থেকে দেবী সরস্বতী দেখতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভিড় জমান সনাতন ধর্মীবলম্বীরা। তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ঘুরে বেড়ান নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপগুলোতে। দেবীকে দর্শনের পাশাপাশি প্রার্থনা করেন কৃপা লাভের।
তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে নগরের জেএমসেন হল মাঠে। কারণ একসাথে ১০টি পূজার আয়োজন ছিল এই মাঠে। সে কারণে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত।