উপসাগরীয় সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিচ্ছেন ট্রাম্প

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যকার সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৭ সালের জুনে সৌদি জোটের কাতারবিরোধী অবরোধের পর এ সংকট জটিল রূপ নেয়। পরিসি’তির উত্তরণে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের উদ্যোগও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রোববার গালফ টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সংকট নিরসনে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প। খবর বাংলাট্রিবিউন।
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আগামী মার্চ ও এপ্রিলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। তারা হচ্ছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। এসব বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস’া (জিসিসি) সম্মেলনের বিষয়টি উল্লেখ থাকবে।
২০১৮ সালের শেষ নাগাদ জিসিসি সম্মেলন দেখতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ইরানের মতো কৌশলগত উদ্বেগ মোকাবিলায় অধিক গুরুত্ব দিতে ওই বৈঠকের আগেই সংকট নিরসন হবে।
এর আগে এ মাসেই জার্মানির মিউনিখ শহরে এক নিরাপত্তা সম্মেলনে কাতারের আমির বলেন, আমাদের প্রতিবেশীদের তৈরি করা এই সংকট ছিল একটা নিরর্থক প্রচেষ্টা। এই প্রতিবেশীদের কেউ কেউ আঞ্চলিক ক্রীড়নক। তাদের এক সময় বৈশ্বিক সি’তিশীলতার ফ্যাক্টর বলে বিশ্বাস করা হতো।
কাতারের আমির বলেন, আমাদের জনগণের ওপর আরোপিত এই অবৈধ ও আগ্রাসী অবরোধের ফলাফল ব্যর্থ করে দিয়ে কাতার নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে।
এই ব্যর্থ অবরোধ দেখিয়ে দিয়েছে, একটি ছোট রাষ্ট্র কিভাবে কূটনীতি ও কৌশলগত অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বড় ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিবেশীদের আগ্রাসী ঝড় মোকাবিলা করতে পারে।
শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য একটি কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। এখান থেকে ফেরার সময় হয়েছে। আমাদের সবাই বিশেষ করে যাদের বেশি ক্ষমতা ও সম্পদ আছে তাদের সংঘর্ষের সমাধানের দায়িত্ব রয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সাহায্য দরকার।

এর আগে এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি বাদশার সঙ্গে আলাপকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, কাতারের সঙ্গে সংকট জিইয়ে রেখে মধ্যপ্রাচ্যে সি’তিশীলতা আসবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টায়ও এটা কোনও কাজে আসবে না। তবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও সৌদি আরব এখনও কাতারবিরোধী অবস’ানে অনড় রয়েছে।