বর্ষা-টেনশন

উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজে তোড়জোড়

এপ্রিল-মে কালবৈশাখি ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, জুনে শুরু হবে বর্ষা: আবহাওয়া অধিদপ্তর

ভূঁইয়া নজরুল

সাগরপাড়ে নির্মাণাধীন আউটার রিং রোডে ইটের যোগান দিতে প্রায় শতাধিক ইটের স’প। এসব স’পের প্রতিটিতে প্রায় ১০ হাজারের বেশি ইট রয়েছে। আধা বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে খণ্ড খণ্ড এসব স’পে ইট ভাঙ্গার কাজ করছে প্রায় ২০টি মেশিন। একদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ইটের ট্রাক আসছে অপরদিকে চলছে ভাঙ্গার কাজ। এ যেনো বিশাল কর্মযজ্ঞ। এচিত্র শুধু সাগর পাড়ের আউটার রিং রোড নয়, নগরীতে চলমান সিটি বাইপাস ডিটি-বায়েজীদ সংযোগ সড়ক, কর্ণফুলীর তীরে রিং রোড, নগরীর ভেতরের আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও পোর্ট কানেকটিং রোড, বহদ্দারহাট থেকে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু হয়ে ওয়াই জংশন পর্যন্ত ছয় লেন প্রকল্প এবং মেগাপ্রকল্প বলে পরিচিত নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পেও অভিন্ন চিত্র। সব প্রকল্পেই কাজের টার্গেট বর্ষার আগে যত দ্রুত সম্ভব কাজ এগিয়ে নেয়া কিংবা শেষ করা।
গত সপ্তাহে আউটার রিং রোডে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ কাট্টলী রাসমনি াট থেকে হালিশহর আর্টিলারি অংশ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে রয়েছে। এই অংশে এখনো মাটি ভরাটের কাজ চলছে। বিপরীতে হালিশহর আনন্দবাজার থেকে পতেঙ্গার খেজুরতলা পর্যন্ত রাস্তার কার্পেটিং কাজ শেষ হয়েছে। আবার খেজুরতলা থেকে পতেঙ্গা সি বিচ পর্যন্ত চলছে মাটি ভরাটের কাজ। কাজের অগ্রগতি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রকল্পের পরিচালক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘বর্ষার আগেই আমরা মাটি ভরাটের পাশাপাশি সাব বেইসের কাজটি শেষ করতে চাই। কারণ বর্ষা চলে এলে রাস্তায় কাঁদা জমে যাবে, তখন কাজ করা যাবে না।’
বর্ষা টেনশন শুধু আউটার রিং রোডের প্রকল্প পরিচালকের নয়, নগরীতে চলমান সকল উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালকদের। ফৌজদারহাট থেকে বায়েজীদ পর্যন্ত চার লেনের বাইপাস রোডের কাজ করছে সিডিএ। ফৌজদারহাট থেকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এর আগ পর্যন্ত রোডের অংশে পাহাড় কাটার কাজ শেষ হলেও এখনো মাটি ভরাট কিংবা সাব বেইসের কাজ শেষ হয়নি। এই প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএ’র নির্বাহি প্রকৌশলী রাজীব দাশ বলেন, ‘বর্ষার আগেই আমরা সাব বেইসের কাজ শেষ করতে চাই। এপ্রিলের শেষে বৃষ্টি শুরু হতে পারে, তাই বর্ষার আগে আমাদের হাতে একমাস সময় আছে। এজন্য চাইছি এই সময়ের মধ্যে সাব বেইসের কাজ করা গেলে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করা যাবে।’
কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘেঁষে চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত চলছে চার লেনের রিং রোডের কাজ। এই প্রকল্পের পরিচালকও রাজীব দাশ। তিনি বলেন, বর্ষার আগে মাটি ভরাটের কাজ আরো দুই ফুট বাড়াতে কাজ করছি। কল্পলোক আবাসিক এলাকা থেকে সাবানঘাটা পর্যন্ত এলাকায় বর্ষার আগে এই মাটি ভরাটের কাজ শেষ করতে চাই। বর্ষা চলাকালীন সময়ে স্লুইস গেটের কাজ চলবে।
অপরদিকে নগরীর হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কারণ পোর্ট কানেকটিং রোড ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোড। এই দুই সড়কও বর্ষার আগেই চলাচলের উপযোগী করতে চায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এবিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্ষার আগে যাতে গাড়ি চলাচল করতে পারে সেজন্য দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। কারণ বর্ষা এলে জোয়ারের পানি ও বৃষ্টির পানির কারণে কাজের গতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
একই চিত্র বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত সেতু হয়ে ওয়াই জংশন পর্যন্ত ছয় লেন প্রকল্পের। অগ্রগতি বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর দোহাজারী সার্কেলের নির্বাহি প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা বর্ষার আগে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে টানা কাজ করছি। বর্ষার আগেই আমরা দুটি (রাহাত্তারপুল ও কালামিয়া বাজার) অংশের ওভারপাসের মাটি ভরাটের পর সাব বেইস শেষ করে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করতে চাই।’
শুধু সড়ক নির্মাণের প্রকল্পে বর্ষা আতঙ্ক নয়, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগাপ্রকল্প মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত বৃহস্পতিবার দেখা যায়, ষোলশহর দুই নম্বর গেইট অংশে খাল থেকে আবর্জনা তোলার কাজ করছে স্কেভেটর। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কোথাও রিটেনিং দেয়াল ও খাল খনন আবার কোথাও আবর্জনা অপসারণের কাজ চলছে। তবে এপ্রিলের শেষ থেকে আগাম বর্ষা আশঙ্কায় কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে কাজ করছে সেনাবাহিনী। এবিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তানভির আহমেদ বলেন, ‘বর্ষার আগে আমরা নগরীর খালগুলোর আবর্জনা পরিষ্কার করে পানি প্রবাহের রাস্তা সচল করে দিতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়ে এখন কাজ করছি এবং একইসাথে ড্রেনগুলো যাতে পরিচ্ছন্ন থাকে সেজন্য সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বিতভাবে ক্রাশ প্রোগ্রাম নেয়া হবে।’
দেখা যাচ্ছে নগরীতে চলমান সব উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে জড়িতরা বর্ষা নিয়ে টেনশনে রয়েছে। কিন’ বর্ষার আগমনের খবর জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তর ঢাকা কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ হাসিবুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম দিয়েই মূলত বর্ষা মৌসুম শুরু হয় জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে। কিন’ এর আগে এপ্রিল ও মে মাস জুড়ে থাকে কালবৈশাখি ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত।‘
উল্লেখ্য, গত দুই বছর এপ্রিলের বৃষ্টিতে নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছিল এবং বাধাগ্রস্ত হয়েছিল উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম।