তালুকদার বাড়ি সড়ক

উন্নয়নকাজ হবে তো?

নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দনাইশ

চন্দনাইশ পৌরসভার দক্ষিণ হারলা ৫নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৫০ পরিবারের একটি গ্রাম তালুকদার বাড়ি। এ গ্রামটির প্রায় সব পরিবারই কৃষির উপর নির্ভরশীল। কৃষিজ পণ্য উৎপাদন করে চলে তাদের সংসারের চাকা। চন্দনাইশ পৌরসভায় সবচেয়ে অবহেলিত এ গ্রামটি। যুগের পর যুগ ধরে এ গ্রামের মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শুধুমাত্র যাতায়াত ব্যবস’া নিয়ে। এ গ্রামে প্রবেশের একমাত্র সড়কটি এখনও সেই মেঠোপথই রয়ে গেছে। শুকনো মৌসুমে কোনভাবে চলাচল করতে পারলেও বর্ষায় চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কটি। কাদা-পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। দুর্ভোগ নেমে আসে গ্রামের শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী ও বয়স্ক নারী-পুরুষদের। চলাচলের একমাত্র সড়ক হওয়ায় হাঁটু পরিমাণ কাদার উপর হেঁটেই যেতে হয় বিভিন্ন কাজকর্মে। বিশেষ করে স্কুল কলেজ পড়-য়া শিক্ষার্থী, মহিলা ও বয়স্ক ব্যক্তিরাই বেশি কষ্টের সম্মুখীন হয়। সড়কটি দিয়ে কোনদিন রিকসা, ভ্যানও চলাচল করতে পারে না। ফলে এ অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিজ পণ্য পরিবহনেও কষ্টের সীমা থাকেনা কৃষকদের। কাঁধে করেই কাদাযুক্ত সড়ক পাড়ি দিয়ে আসতে হয় গাড়ি ধরার জন্য। সরেজমিন পরিদর্শনের সময় এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি জাকের হোসেন জানান, মাঝে-মধ্যে সড়কটি মাপঝোক করতে দেখি অথচ কাজের কাজ কিছুই হয়না। গত রমজান মাসেও কমপক্ষে তিন বার সড়কটি মাপঝোক করা হয়েছে। এরপর আর কোন খবর নেই। আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তি জানান, বিগত ২০ বছর পূর্বে নুরুল আনোয়ার সড়কটি মাটি ভরাট করে সামান্য সংস্কার করেছিলেন। এরপর আর কোন কাজ হয়নি। রশিদ আহমদ জানান, গ্রামে কোন ব্যক্তি বা মহিলা গুরুতর অসুস’ হয়ে পড়লে দোলনায় করে কাঁধে চাপিয়েই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়। এমন কষ্ট এ গ্রামের মানুষ যুগ যুগ ধরে ভোগ করে আসছে। তালুকদার বাড়ি যুব সংঘঠনের সহ-সভাপতি জাহেদুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসীর পক্ষে চন্দনাইশ পৌরসভার মেয়র বরাবর সড়কটির বর্তমান ও অতীত চিত্র তুলে ধরে একাধিক দরখাস্ত করা হলেও সড়কটির উন্নয়ন কাজ হচ্ছে না।
এলাকার ছিদ্দিক আহমদ, নুর হোসেন, লোকমান হাকিমসহ অনেকেই জানালেন বর্ষাকালে তাদের গ্রামটি থাকে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বৃষ্টি হলেই সড়কটি ডুবে যায়। ছেড়া দ্বীপের বাসিন্দা হয়ে তাদের বসবাস করতে হয়।স’ানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম সায়েম সুপ্রভাত বাংলাদেশকে জানান, ২০০২ সালের ২৫ আগস্ট চন্দনাইশ পৌরসভা সৃষ্টি হওয়ার পর ১৬ বছর ধরে এ গ্রামের কৃষক পরিবারগুলো নিয়মিত পৌর ট্যাক্স দিয়ে আসলেও পৌরসভার কোন সেবা তারা পাননা। সড়কটি সংস্কার করে ব্রিক সলিন করার দাবি যুগ যুগ ধরে করা হলেও আজ পর্যন্ত সড়কটি সেই মেঠোপথই রয়ে গেছে। তিনি সড়কটি চলাচল উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। দক্ষিণ হারলা ৫নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শাহ আলম সড়কটির বর্তমান দূরবস’ার কথা স্বীকার করে বলেন, ইতিমধ্যে সড়কটির নির্মাণকাজ পশ্চিম পাশ থেকে শুরু হয়েছে। নতুন করে সড়কটির জন্য টেন্ডার দেয়া হলেও বৃষ্টিপাতের জন্য ঠিকাদার কাজ করতে পারছে না। চন্দনাইশ পৌরসভার মেয়র মুহাম্মদ মাহাবুবুল আলম খোকা সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, দক্ষিণ হারলায় ইতিমধ্যে ৭/৮টি প্রজেক্টের কাজ শেষ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ সড়কটির কাজও শেষ করা হবে। ইতিমধ্যে সড়কটির জন্য নতুন করে টেন্ডার দেয়া হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে আসলেই ঠিকাদার কাজ শুরু করবেন।