উন্নয়নই হবে আগামী নির্বাচনে প্রচারণার মূল বিষয়

ইলিয়াস কামাল বাবু, সন্দ্বীপ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে আগামী নির্বাচন কে সামনে রেখে বসে নেই সন্দ্বীপের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে যাবে সে রকমই আভাস পাওয়া যাচ্ছে স’ানীয় নেতাদের মুখে। যদি তাই হয়, তবে সন্দ্বীপে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। সন্দ্বীপে বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা মুখিয়ে আছে নির্বাচনী মাঠ গরমের জন্য। তবে সংশয়ও কম নেই। আদৌ দল নির্বাচনে যাবে কিনা, গেলেও “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” থাকবে কিনা, আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রভাবমুক্ত অবাধ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ বজায় থাকবে কিনা – এ সব চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে নেতা কর্মীদের মাথায়। তবুও সন্দ্বীপে বিএনপি নেতা-কর্মীরা মনে করেন যদি সন্দ্বীপের ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে অবাধে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন তাহলে নিঃসন্দেহ বিপুল ভোটে বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করবে। পক্ষান্তরে আওয়ামী শিবিরেও ফুরফুরে ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের ধারণা বর্তমান আওয়ামী দলীয় এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা সন্দ্বীপে এতো বেশি উন্নয়ন বরাদ্দ পেয়েছেন যা দিয়ে সন্দ্বীপে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেয়া যাবে। তিনি ২০১৪ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর সন্দ্বীপে এ পর্যন্ত প্রায় ৫শ কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন কাজ করেছেন। সন্দ্বীপের জন্য অনেক মেগা প্রকল্প ২০১৭-১৮ সালের মধ্যেই বাস্তবায়ন শুরু ও সম্পন্ন হবে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন-জাতীয় গ্রিড থেকে ২০১৮ এর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মধ্যে ১শ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সন্দ্বীপে সাব-মেরিন ক্যাবল স’াপনের মাধ্যমে নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে। ১শ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সন্দ্বীপের চারিদিকে ব্লক বেড়িবাঁধ কাম-মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ কাজের প্রস’তি চলছে। এছাড়া ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি স্লুইসগেট, ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে হেল্থ কমপ্লেঙ, ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌ-রুটে নতুন জাহাজ সার্ভিস অচিরে শুরু হবে। গত ১৮ নভেম্বর নৌ-মন্ত্রী সন্দ্বীপ এসে ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ল্যান্ডিং জেটির কাজ উদ্বোধন করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন-স্বাধীনতার পর অবহেলিত দ্বীপ সন্দ্বীপে রাস্তা-ঘাট,ব্রিজ-কালর্ভাটসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার এতবেশি বরাদ্দ দিয়েছেন যা অন্য কোন সরকারের আমলে দেয়া হয়নি। অতএব, উন্নয়নের সাফল্যের ধারায় নেত্রী তাকেই আগামীবার পুনরায় মনোনয়ন দেবেন, তা তিনি নিশ্চিত। সে লক্ষ্য নিয়ে তিনি সন্দ্বীপের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে আওয়ামী শিবিরে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের মধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের তেমন কোন সমস্যা না থাকলেও বিএনপি’র বিশাল ভোট ব্যাংক হচ্ছে সন্দ্বীপের সাধারণ মানুৃষ। আর এ সাধারণ মানুষের অতি আস’াভাজন নেতা তিন-তিন বারের এমপি মোস্তফা কামাল পাশা। বলা যেতে পারে তার একক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সন্দ্বীপের বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা এখনও ঐক্যবদ্ধ।
এছাড়া তার প্রতি জোটের অংশীদারদেরও সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে সন্দ্বীপের বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতার প্রয়াত পিতা মুস্তাফিজুর রহমান ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে পরপর দু’বার এম.পি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পুত্র মিতাও টানা দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। এক্ষেত্রে পিতার বিপুল জনসমর্থন ও ভোট ব্যাংক থাকা সত্বেও এমপি হয়ে মাহফুজুর রহমান মিতা সর্ৃষ্টি করতে পেরেছেন তার নিজস্ব বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী। তবে নির্বাচনী দৌঁড়ে দু’দলের এ’দুজন ছাড়াও আগ্রহী আরো অনেকেই রয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে ১৯৭৯’র দুর্দিনে নৌকার প্রার্থী এবং বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার শাহজাহান বি.এ, ২০০৮ এর জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা মনোনীত নৌকা প্রতীকের আওয়ামী প্রার্থী ডা. জামালউদ্দিন চৌধুরী, গতবারের মনোনয়ন প্রত্যাশী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সন্দ্বীপ পৌরসভার দু’দুবারের নির্বাচিত মেয়র জাফর উল্যা টিটু, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ এর সাধারণ নির্বাচনের সন্দ্বীপ থেকে প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সন্দ্বীপ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রয়াত এম.ওবাইদুল হকের সন্তান শিল্পপতি সারোয়ার হাসান জামিল, সন্দ্বীপের বিশিষ্ট ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযোদ্ধা হেদায়েতুল ইসলাম মিন্টু, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও মাইটভাঙা ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন মিজানুর রহমান মিজান আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে প্রচার-প্রচারণায় রয়েছে।
পক্ষান্তরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, ব্যবসায়ী নুরুল মোস্তফা খোকন বিএনপি থেকে নমিনেশন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে। এছাড়া সন্দ্বীপে একমাত্র জামায়াতে ইসলামি ছাড়া অন্য কোন দলের অস্তিত্ব নেই।তবে জামায়াত থেকে কোন আগ্রহী প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছেনা। তবে আলোচিত উভয় দল থেকে নমিনেশন যেই পান না কেনো, তারা দলের নির্দেশনা মেনে দলীয় প্রতীকের পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানান। সন্দ্বীপের অভিজ্ঞ মহল মনে করেন-জয়ের জন্য দলের অভ্যন্তরে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্দ্বীপের প্রায় দু’লক্ষ ভোটারই নির্ধারণ করবেন সন্দ্বীপের পরবর্তী সংসদ সদস্য কে হবেন?