উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তারা ডিজিটালের কারণে দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সবখানে ডিজিটাল হওয়ায় দেশের প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে। কেউ দুর্নীতি করবে সেই সাহসটুকুও পাচ্ছে না। কারণ ঘুষ নেওয়ার আগে সে ভাবছে কোনো রেকর্ডিং কিংবা গোপনে ভিডিও করা হয়েছে কি না।
এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম সংলগ্ন মাঠে ‘ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা ২০১৮’ শুরু হয়েছে।
গতকাল বেলা ১২টায় এ মেলার উদ্বোধনকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান এ কথা বলেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরতে এ মেলার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। মেলার সার্বিক তত্ত্বাবধান করছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই (অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন) প্রজেক্ট।
জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মো. আবদুল মান্নান ছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এসএম মনির উজ জামান, চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার, পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা ও সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল মান্নান বলেন, শিক্ষা, স্বাস’্য, কৃষি ও অবকাঠামোগতসহ সব ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। দেশের মানুষ হাত বাড়ালেই ডিজিটাল সেবা পাচ্ছে। শুধু তাই নয় ডিজিটালের সুবাদে বর্তমানে দেশের ১২ কোটি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করছে। এর মধ্যে ৫ কোটি মানুষ তেমন শিক্ষিত না। তারপরও এটি সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে।
পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, বাংলাদেশের সব সেক্টরে ই-সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এই সেবা পৌঁছে গেছে। বিশ্বের কোনো দেশে একসাথে সব সেক্টরে এরকম ডিজিটাল পরিবর্তন হয়েছে কি না সন্দেহ আছে। যেটা বাংলাদেশে সম্ভব হয়েছে।
জানা গেছে, মেলায় ১২৫টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান ৪৩টি, ব্যাংক ২৫টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৭টি, আইটি প্রতিষ্ঠান ১০টি, ফুড অ্যান্ড কফি কর্নার ১২টি, এনজিও এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ৮টি। মেলায় শ্রেষ্ঠ ডিজিটাল সেন্টার ২টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস’ান প্রতিষ্ঠান ২টি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নাগরিক সেবায় উদ্ভাবন বাস্তবায়ন ১টি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ১টি, তরুণ উদ্ভাবক ৩টি সহ আরও কিছু ক্ষেত্রে মোট ১৫টি পুরস্কার দেওয়া হবে।
এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর গল্প বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার ১২টি এবং আমার চোখে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার ১২টি, আইসিটি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার ১৫টি, ফ্রি কুপন ড্রয়ের ৯টি ও সেলফি কনটেস্টের ৫টি পুরস্কারসহ ৬৮টি এবং অংশগ্রহণকারী সব স্টল, অতিথিদের শুভেচ্ছা পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য ডিজিটাল উদ্ভাবনী এই মেলা ২০১১ সালে প্রথম শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এটির আয়োজন হয়ে আসছে। আগামীকাল রোববার তিনদিন ব্যাপী এ মেলার সমাপনী দিন।