উদ্বোধনের ছয় দিনের মাথায় ভাঙল ‘আকাশবীণা’র র্যাফট

নিজস্ব প্রতিবেদক

উদ্বোধনের ছয় দিনের মাথায় ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’র র্যাফট (দরজার অংশ বিশেষ) ভেঙে গেছে। এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটলেও বিমানে জানাজানি হয় গতকাল বুধবার। এ ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে বিমানের বহরে যুক্ত হয় বিশ্বের অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’। গত ৫ সেপ্টেম্বর এটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন সন্ধ্যায় আকাশবীণার প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যায়।
বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, র্যাফট ভেঙে গেলেও ড্রিমলাইনার দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটেনি। মঙ্গলবারও যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি ঢাকা ত্যাগ করেছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ
আশীষ রায় চৌধুরী বলেন, ‘এ ধরনের র্যাফটবিহীন উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা ঝুঁকিপুর্ণ। ফ্লাইট চললেও প্রতি ফ্লাইটে কমপক্ষে ৫৫ জন যাত্রী কম নিতে হবে।’ বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাকিল মেরাজ জানান, যাদের অবহেলায় এ ঘটনা তাদের কাউকে ছাড় দেবে না কর্তৃপক্ষ। ভেঙে যাওয়া দরজার অংশটি ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। তিন দিনের মধ্যে সেটি সংযুক্ত করা হবে।
সূত্রটি জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় ড্রিমলাইনার দিয়ে সিঙ্গাপুর ফ্লাইট করার প্রস’তি চলছিল। এটি বের্ার্ডিং ব্রিজে সংযুক্ত অবস’ায় বিএফসিসি থেকে যাত্রীদের জন্য ড্রিমলাইনারে খাবার তোলা হচ্ছিল। এসময় প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান হঠাৎ সজোরে দরজা অন করতে গিয়ে অন্য বাটনে চাপ পড়ে। এতে খুলে পড়ে ‘র্যাফট’ নামে দরজার একটি অংশ। এতে প্রকৌশলী মোস্তাফিজসহ উপসি’ত অন্যরা হতভম্ব হয়ে যান। তাৎক্ষণিক তারা এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেন। কিন’ বিষয়টি জানাজানি হয়। বিমানের অন্যান্য প্রকৌশলী ঘটনাস’লে গিয়ে খুলে পড়া র্যাফট সংগ্রহ করে নিয়ে যান প্রকৌশল বিভাগে। প্রকৌশল বিভাগ নিশ্চিত করে যে, র্যাফট ছাড়াই ড্রিমলাইনার দিয়ে ফ্লাইট অপারেট করা সম্ভব হবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ১২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে কেনা এ উড়োজাহাজটির দরজার র্যাফট এভাবে ভেঙে পড়ার ঘটনা রহস্যজনক। বিষয়টি তদন্ত হওয়া দরকার। বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, ড্রিমলাইনারের অনেক স্পেয়ার্স পার্টস কিনে বোয়িং কোম্পানিকে সংযোজন করতে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।