চট্টগ্রাম জেলা সংসদ সম্মেলন

উদীচী যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখতে বদ্ধপরিকর

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংস্কৃতিচর্চা একটি জাতিকে করে সমৃদ্ধ ও পরিশীলিত। পৃথিবীর পরিশীলিত জাতিগুলোর ইতিহাসে আছে সংস্কৃতিরচর্চার ইতিহাস। নিজস্ব সংস্কৃতিধারণের মাধ্যমেই বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে মুক্তিলাভ করে। আজও বাংলায় সেই সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিদ্যমান। উদীচী’র এই সম্মেলন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও চাঙা ও বেগবান করবে। গতকাল এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ মাঠে অষ্টাদশ জেলা সম্মেলনের আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য প্রকাশ রাখেন।
‘সাহসের সঙ্গে চলো সামনের যুদ্ধে, ঐক্যটা হোক আরো মজবুত’ স্লোগানে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী-চট্টগ্রাম জেলা সংসদের দুদিনব্যাপী সম্মেলন শুরু হয় গতকাল। বিকেলে এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ মাঠে অষ্টাদশ জেলা সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা কাজী নুরুল আবছার। উদ্বোধনের পর ছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, গুণীজন সম্মাননা, পুরস্কার বিতরণ, গণসঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্যানুষ্ঠানসহ বিভিন্ন পরিবেশনা।
শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন এবং উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শীলা দাশগুপ্ত ও উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রদীপ ঘোষ।
বিকেলে সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা কাজী নুরুল আবছার। সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. অনুপম সেন বলেন, এদেশকে একটি সামপ্রদায়িক ভাবধারার ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার যে ষড়যন্ত্র বহুদিন ধরে চলছে, সবাইকে সাথে নিয়ে সেই ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় রুখতে বদ্ধপরিকর উদীচী। বাংলাদেশকে কখনোই আঁধার পথে চলতে দেয়া যায় না। হাজার বছর ধরে চর্চিত বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির অসামপ্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখতে অতীতের মতো উদীচী’র ভূমিকা থাকবে প্রবল।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নাট্যজন সাইফুল ইসলাম বাবু, আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান, নাট্যজন সুচরিত দাশ খোকন, রাজনীতিবিদ মফিজুর রহমান, নৃত্যশিল্পী সঞ্চিতা দত্ত বেবী, গণজাগরণ মঞ্চের শরীফ চৌহান, দীপেন চৌধুরী, এস এম জাহিদ।
সম্মেলনে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন সম্মেলন প্রস’তি পরিষদ আহবায়ক মনীষ মিত্র। এবার মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয় উদীচীর প্রয়াত সহসভাপতি মৃদুল সেন এবং গণসংগীতশিল্পী রবিন দে কে। গুণীজনদের জীবনীপাঠ করেন সালমা জাহান ও বাবলা চৌধুরী। শেষে গণসংগীত পরিবেশন ও রণেশ দাশগুপ্ত গ্রন’পাঠ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
সন্ধ্যায় সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করে উদীচী, প্রবর্তক সংঘ, প্রমা আবৃত্তি সংগঠন। নৃত্য পরিবেশনায় ছিলেন হিল্লোল দাশ সুমন ও তার দল।
আজ
আজ শুক্রবার সম্মেলনের শেষ দিনে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।