উচ্চ আদালতে বাংলা অচলায়তনের মুখোমুখি

শঙ্কর প্রসাদ দে

দেশের সর্বস্তরে বাংলা প্রচলন অব্যাহত আছে। হয়তো গতি ধীর বলে অভিযোগ থাকে। এরপরও সরকারের বেশির মন্ত্রণালয়ের বাংলা প্রচলনের নীরব প্রচেষ্টা বর্তমান ধারায় চললে একদিন দেখা যাবে সত্যি সত্যি ভাষা শহীদদের রক্ত বৃথা যায়নি। তবে আদালতে বাংলা প্রচলন একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়ার অবকাশ রাখে। প্রায় শতভাগ বাংলা প্রচলনের অন্যতম কৃতিত্বের দাবিদার নিম্ন আদালত। অর্থঋণ, আদালতে আমার আইনজীবী বন্ধুরা কেন ইংরেজিতে আর্জি দাখিল করেন, তা আমার মাথায় ঢুকে না। আর ক্ষেত্র বিশেষে বেশ কিছু জজ সাহেব ইংরেজিতে আদেশ দেন। তাঁরা নিজেদের জাহির করতে গিয়ে মাতৃভাষাকে অবমাননা করছেন-এ সত্য তাঁদের উপলব্ধি করার সময় এসেছে।
তবে হতাশজনক অবস’া উচ্চ আদালতে। সেদিন আমি দাঁড়াতেই বিচারপতি জনাব রেজাউল হক জিজ্ঞেস করলেন, পিটিশন ইংরেজিতে কেন? বললাম, বিজ্ঞ অফিসাররা সহযোগিতা করেন না। বাংলায় পিটিশন দিয়েছি বলে আদেশও বাংলায় দিতে হয়েছে। আমার একাধিক জামিনাদেশ পড়ে ছিল মাসাধিককাল ধরে। বেঞ্চ অফিসারদের একটাই বক্তব্য তাদের কাছে বাংলায় কোন আদেশের ফরমেট না থাকায় লেখা মুশকিল। বিচারপরিতদের সাথে দেখা করেও তেমন কোন ফল পাইনি। অবশেষে অনেকটা হতাশ ঁ ২য় পৃষ্ঠার . কলাম
ঁ ১ম পৃষ্ঠার পর
হয়ে বাধ্য হয়ে ইংরেজি লিখে চলেছি। আমার নিজ অফিস থেকেও বাধা কম নয়। কম্পিউটার টাইপিস্ট বেজায় বিরক্ত। আমার ক্লার্ক নজরুলতো পারে না আমাকে বকাঝকা করতে। তারা সোজা কথা বাংলায় পিটিশন দিলে আদেশ প্রচারে তার পরিশ্রম ও তদবির খরচ হয় তিনগুণ।
তবে বাংলাভাষার প্রতি অকৃত্রিম মমতা দেখিয়েছেন। সর্বজনাব বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম। বিচারপতি জাকির হোসেন, বিচারপতি এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি রেজাউল হক। অনেক আইনজীবী বন্ধু বিষয়টি ভালো চোখে দেখেন না। তবে কিছু কিছু আইনজীবী যাদের বেশিরভাহই জুনিয়র আমার একনিষ্ট ভক্ত। এদের অনেকে বাংলা ড্রাফট নিয়ে যান এবং তারা প্রায় সবাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে আসা তরুণ। আমি নিশ্চিৎ এদের হাতে উচ্চ আদালতেও বাংলা প্রচলন হবে। তবে আমার ধারণা মূল দায়-দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের। মাননীয় প্রধান বিচাপতি যদি আজ সার্কুলার দিয়ে বলেন, কাল থেকে সব পিটিশন ও আদেশ বাংলায় দিতে হবে তবে দেখবেন দু’বছরের মাথায় নিম্ন আদালতের মতোই সুপ্রিম কোর্ট বাংলা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।
লেখক : আইনজীবী