উখিয়া-টেকনাফের সুপারি যাচ্ছে দেশের বিভিন্নস্থানে

দীপন বিশ্বাস, কক্সবাজার
Untitled-1

চলতি মৌসুমে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি সপ্তাহের রবি, বুধ ও বৃহসপতিবার হাটবাজার হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে লাখ-লাখ টাকার সুপারি। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার সুপারির বেশি ফলন ও বাড়তি মূল্য পাওয়ায় সুপারিচাষিদের মুখে ফুটেছে হাসির রেখা।
জেলার দু’উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৮০ পিস সুপারিতে এক পন হয়। আর ১৬ পন সুপারিতে হয় এক কন। প্রতিপন সুপারি বিক্রি হচ্ছে ২শ থেকে ৩শ টাকায়। প্রতিকন বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা। অথচ এ সুপারির গত বছরে মূল্য ছিল ৩ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি সপ্তাহের রবি ও বুধবার উখিয়ার সোনার পাড়া বাজার এবং টেকনাফ সদর ও শামলাপুর থেকে দশ-পনেরটির মত ট্রাকে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকার সুপারিভর্তি করা হয়। সূত্র মতে, সব মিলিয়ে প্রতি সপ্তাহে উখিয়া- টেকনাফ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটি টাকারও বেশি সুপারি যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি মৌসুমে বেশির ভাগ সুপারির ফলন হয়েছে উখিয়ার উপকূলীয় এলাকা সোনার পাড়া, নিদানিয়া, ইনানী, মনখালী, চেপটখালী, মাদারবনিয়া, টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া, সাবরাং ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। আর সুপারির বড় বাজারের সমাগম হয় উখিয়ার সোনার পাড়া এবং টেকনাফ পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে ও বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর বাজারে। এ তিন বাজার থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার সুপারি যাচ্ছে ঢাকা, জলঢাকা, বগুড়া, রংপুর, পাগলাবিল ও রাজার হাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সুপারি চাষি জাকের উল্লাহ, আদনান ও তারেক জানান, গত বছরের চেয়ে চলতি বছর সুপারির অনেক বেশি মূল্য বেড়েছে। তাই এ বছর অনেক ভাল লাগছে। টেকনাফের কচুবনিয়া এলাকার মো. রশিদ আলম জানান, তাদের এলাকায় সুপারির ভাল ফলন হওয়ায় এলাকাবাসী লাভবান হচ্ছে।
সোনার পাড়া বাজারের সুপারি ব্যবসায়ী মোক্তার আহামদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সুপারির ব্যবসা করে আসছেন। এবছর দাম ভাল পাওয়ায় গত বছরের চেয়ে আরো বেশি সুপারি রপ্তানি করা হবে।