সেচ সংকট

উখিয়ায় বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার শংকা

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া

গত মৌসুমে উখিয়ায় বোরোর বাম্পার উৎপাদন হলেও চলতি মৌসুমে সেচ সংকটে বোরো উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের ধারনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন এনজিও সংস’া অসংখ্য গভীর নলকূপ স’াপন করেছে। যার ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে ভুগর্ভস’ পানির স্তর আশংকাজনকভাবে নিচে নেমে যেতে পারে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে ৬ হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৪ হাজার ৬শ মেট্রিকটন চাল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও রোগবালাই দূরীকরণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বোরো চাষে চাহিদামতো পানি নিষ্কাশনের জন্য ১হাজার ৮শ ৬২ টি বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প ও ১শ২৬ টি ডিজেল চালিত সেচ পাম্প রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণ প্রকল্পের আওতায় কৃষক কৃষানিদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ২৭ হাজার ১শ৬১ জন প্রান্তিক ক্ষুদ্র বর্গা চাষিসহ পেশাদার কৃষকদের এ প্রশিক্ষণের আওতায় এনে তাদেরকে প্রশিক্ষণ বাবদ দৈনিক ৫শ টাকা ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এ উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপ করা হলে তারা জানান, গত মৌসুমে বোরোর যে বাম্পার উৎপাদন হয়েছে চলতি মৌসুমে তা নাও হতে পারে। মাছকারিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, তার এলাকা সংলগ্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় আড়াই শতাধিক গভীর নলকূপ স’াপন করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য। এসব নলকূপের কারণে তাদের বসতবাড়ির অগভীর নলকূপগুলোর পানি শুকিয়ে গেছে। পালংখালীর তাজনিমারখোলা গ্রামের কৃষক আমানত উল্লাহ জানান, রোহিঙ্গাদের সুবিধার্থে বসানো গভীর নলকূপের কারনে পানির স্তর নেমে গেছে। সামনে খরা মৌসুমে মারাত্নক পানি সংকট দেখা দিতে পারে। যার ফলে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প দিয়েও পানি সংকট দুর করা যাবেনা।
জনস্বাস’্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, এ উপজেলায় বিশেষ করে পালংখালী ও রাজাপালং ইউনিয়নে রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক যেসব গভীর নলকূপ স’াপন করা হয়েছে তার কারনে স্বাভাবিকভাবে পানির স্তর নিচে নেমে যেতে পারে। এসময় যদি বৃষ্টিপাত হয় তা হলে বোরোর তেমন কোন ক্ষতি হবেনা। তবে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, অনাবৃষ্টি ও খরাই ফসলের হানি হতে পারে।