উখিয়ায় পরিত্যক্ত স্কুল ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান

চার বছর আগে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন উপকূলীয় এলাকার জালিয়াপালং ইউনিয়নের শফির বিল প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও নতুন বিদ্যালয় ভবন তৈরি হয়নি। ঝুঁকি জেনেও উপায় নেই, ছাত্রছাত্রী ক্লাশ করতে বাধ্য হচ্ছে জরাজীর্ণ ভবনটিতে। আমাদের উখিয়া প্রতিনিধির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২৪ বছর আগে বিদ্যালয়টি নির্মিত হয়েছে কিন্তু নির্মাণ কাজে গুণগত মান রক্ষিত না হওয়ায় অল্প সময়েই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ৪ বছর আগে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা ভয়ের মাঝেই ক্লাস করছে।
এলাকাটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ। বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান চলছে-এ এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন নিশ্চয়ই বিষয়টি অবহিত আছে কেননা তারাইতো বিদ্যালয়টিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে, এই দীর্ঘ সময়ে নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের প্রচেষ্টা তাহলে নেয়া হয়নি কেন? উপজেলা শিক্ষা অফিসার এটি ছাড়া আরো একটি স্কুল পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান। তিনি নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে মর্মে উল্লেখ করেছেন। নতুন বিদ্যালয় স্থাপন করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ঝুঁকিমুক্ত করার প্রচেষ্টা নেওয়া হল না কেন তার কোন সদুত্তর নেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের, জেলা প্রশাসনও কি এই বিষয়টি অবহিত নয়?
দেশের উপকূলীয় ও চরাঞ্চল, হাওড়-বাঁওড়, পার্বত্য এলাকাগুলিতে শিক্ষার অবকাঠামোগত পরিস্থিতি খুবই দুর্বল। প্রয়োজনীয় ভবন নেই, শিক্ষক নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থাও সুবিধের নয়। এ কারণে এ সব এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থাও ভাল নয়। আলোচ্য বিদ্যালয়টিতে ৬ জনের বিপরীতে শিক্ষক আছেন মাত্র ৩জন। শিক্ষার সুযোগসুবিধা দেশের সকল এলাকায় সুষম না হলে শিক্ষার সাধারণ মান ধরে রাখাও কষ্টকর। জীবনঝুঁকির মধ্যে পাঠগ্রহণ, পাঠদান চলে না। এলাকাটি ঘূর্ণিঝড়প্রবণ, ভূমিকম্পের ঝুঁকিও আছে, পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও এখানে পাঠদান কি ভাবে চললো, কোন দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ কি এটি ভেবে দেখলেন না।
আমরা মনে করি, ঝুঁকি পরিহার করে নিরাপদ স্থানে পাঠদানের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেবে, আর কালবিলম্ব না করে এখানে নতুন বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করা হোক। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আরও একটি পরিত্যক্ত স্কুল ভবন এর কথা উল্লেখ করেছেন, সেটির ব্যাপারেও যথাবিহিত ব্যবস্থা নেয়া হউক।