সাগরে নিম্নচাপ, ঘুমোট আবহাওয়া

উখিয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া

দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিম্নচাপ সৃষ্টি ও মেঘের প্রভাবে গত ২ দিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি। শৈত্য প্রবাহের কারণে জনজীবন হয়ে উঠেছে বিপর্যস্ত। কাবু হয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। চিকিৎসকরা বলছেন, ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তদের বেশির ভাগ শিশু ও বয়োবৃদ্ধ।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। ঘুমোট আবহাওয়া ও বৈরি পরিবেশের ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। থমকে গেছে সাধারণ মানুষ ও রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা। বিশেষ করে পরিবেশের বিরূপ প্রভাব পড়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।
শনিবার সকালে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, চায়ের দোকানে বসে রোহিঙ্গারা আড্ডা দিচ্ছে। তারা বলছে, ঠান্ডার কারণে বের হওয়া যাচ্ছে না। শৈত্যপ্রবাহে ধুলাবালিতে চোখ মুখ ঢেকে যাচ্ছে।
এমতাবস’ায় ঘর দোকান ছাড়া আশ্রয় নেওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা ঘরের ভিতরে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা। অন্যদিনের মতো হাটবাজারে রোহিঙ্গাদের কোলাহল দেখা যাচ্ছে না। নিকটস’ কুতুপালং কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, রোহিঙ্গা বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা চিকিৎসা নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করছে।
কর্মরত চিকিৎসক অজিত কুমার বড়-য়া জানায়, শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত রোগে বেশির ভাগ শিশু ও বয়োবৃদ্ধ চিকিৎসা নিতে আসছে।
ক্যাম্প চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ জানায়, তার আওতাধীন ৪০টি ব্লক রয়েছে। যারা ত্রাণ সামগ্রী পাচ্ছে তারা নিয়মিত পেতেই রয়েছে। আর যারা পায়নি তারা আজ পর্যন্ত পাচ্ছে না। ডাক্তার ফয়সাল ও ডাক্তার জাফর আলম জানান, গত ২দিন ধরে সূর্যের আলো না পড়ার কারণে রোহিঙ্গাদের দুরবস’ার সৃষ্টি হয়েছে। উপরন’ রাতের কুয়াশা বৃষ্টির মত ঝরছে। এসব কুয়াশায় পলিথিন ভিজে শীত বস্ত্র ও কাপড় চোপড় ভিজে গেছে। চল্লিশোর্ধ্ব মরিয়ম বিবি ও ছকিনা খাতুন জানায়, দিনের বেলায় যেমন তেমন রাতে ঘরে কুয়াশার বৃষ্টিতে ঘুমানো যায় না। রোহিঙ্গা ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ নুর জানায়, দূরবর্তী এলাকায় নতুন করে আসা যেসব রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে তারা শীতবস্ত্রের অভাবে দারুণভাবে কষ্ট পাচ্ছে।
বিষয়টি বিভিন্ন এনজিও সংস’ার নজরে দিলেও ওই রোহিঙ্গাদের ভাগ্যে জুটেনি একটি কম্বল। আসার সময় যে কাপড় টুকু নিয়ে এসেছে সে কাপড়ে তারা রাত যাপন করছে। উখিয়া স্বাস’্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, তাদের ২০টি টিম সহ বিভিন্ন এনজিও সংস’ার স্বাস’্য কেন্দ্র থাকার পরও এখানে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, গত ২দিনে হাজারেরও অধিক ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসাসেবা ও ওষুধপত্র দেওয়া হয়েছে।