উখিয়ায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া

উখিয়ার পাইন্যাশিয়া বড়-য়াপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অভিনব কায়দায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছে কিছু অসাধু ব্যক্তি। এসব কয়লা বাজারজাত করার সময় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা রুজু না করায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কয়লাপ্রস’তকারী সিন্ডিকেট।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, সামাজিক বনায়নের মূল্যবান বনসম্পদ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করার ফলে একদিকে যেমন সরকারি বন সৃজন হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে কাঠ পোড়ানো কয়লার কালো ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ।
সরেজমিন রেজু খালের পাইন্যাশিয়া ফুট ব্রিজ এলাকা ঘুরে এবং স’ানীয় গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আব্বাস উদ্দিনসহ আরো ৪-৫ জনের একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন থেকে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করে আসছে। দেখা গেছে, বিশালকার কয়েকটি গর্তের মধ্যে পোড়ানো হচ্ছে বনসম্পদ। গর্তের ওপর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে, তার ওপর দেওয়া হয়েছে বালির আস্তরণ। যাতে গর্তের আগুন বাইরে আসতে না পারে। গর্তের অন্য প্রান্ত দিয়ে তৈরি করা সুরঙ্গ থেকে সদ্য কাটা মূল্যবান গাছগাছালী ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গর্তের ওপরে ছোট্ট একটি চোঙা রাখা হয়েছে, যা দিয়ে বেরিয়ে আসছে কাঠ পোড়ানো কয়লার কালো ধোঁয়া।
গ্রামে স’ানীয়ভাবে বসবাসরত সফিউল্লাহ, শামশুল আলমসহ একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ‘কাঠ পোড়ানোর কালো ধোঁয়ার কারণে ছেলে-মেয়েরা শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আশেপাশের এলাকায় শাকসবজি চাষাবাদেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
গ্রামবাসী আরো জানান, ওই সিন্ডিকেট বনাঞ্চলের ও সামাজিক বনায়নের চুরি করা গাছ কম দামে কিনে কাঠ পোড়াচ্ছে। ফলে এলাকার সামাজিক বনায়ন হুমকির মুখে পড়ছে। এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য কয়লা তৈরিকারক এ সিন্ডিকেটের একজন আব্বাস উদ্দিনের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি রেগে গিয়ে বলেন, ‘বনকর্মীদের মাসিক মাসোহারা দিয়ে কয়লা তৈরি হচ্ছে।’ এসময় কয়লা তৈরির ছবি ধারণ করতে গেলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। এ ব্যাপারে উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, ‘কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করার ক্ষেত্রে আইনগত বিধি-নিষেধ রয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেওয়া হবে।’ কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্ত কর্মকর্তা মুমিনুল ইসলাম জানান, ‘গ্রামের ভেতরে জনবসতি এলাকায় কয়লা পোড়ানো হলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়। তাই বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আইনগত ব্যবস’া নেওয়া হবে।’