কৃষিপণ্য উৎপাদনে অপার সম্ভাবনা

উখিয়ার ৪টি রাবার ড্যামে ৫ হাজার একর জমিতে বোরো চাষ

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া

দেশের খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ এলজিইডির ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষিপণ্য উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যেদিকে দুচোখ যায় মাঠভর্তি সবুজ খাদ্যপণ্য, শাক-সবজি চাষাবাদে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কৃষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এছাড়া ও উখিয়ার ৪টি খালের উপর নির্মিত রাবার ড্যামে চাষাবাদ করে ইতিমধ্যেই আত্মনির্ভরশীল হয়েছে এলাকার হাজারো প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও বর্গাচাষি। সর্বোপরি হরিণমারা খালের উপর নির্মাণাধীন রাবার ড্যামের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে ৪টি রাবার ড্যামের আওতায় অতিরিক্ত আরো ৫ হাজার একর অনাবাদি জমিতে বোরো চাষাবাদসহ শাক-সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র,প্রান্তিক,বর্গাচাষি পরিবারে আত্মসামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে বলে ভোক্তভোগীরা দাবি করছে।
নির্মাণাধীন হরিণমারা ক্ষুদ্রকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্ধে রাবার ড্যামের উন্নয়ন কাজ চলছে জোরেসোরে। ঠিকাদার আবুল বাশার রুদ্রা জানান, চলতি মৌসুমে এ রাবার ড্যামের আওতায় বোরো চাষাবাদসহ খালের আশে পাশে দীর্ঘদিনের অনাবাদি প্রায় সহস্রাধিক একর জমিতে বোরো সহ বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি আবাদ করা সম্ভব হবে। হরিণমারা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল কবির জানান, এ রাবার ড্যামের আওতায় হরিণমারা খালের উপর যে ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে তা এলাকার যোগাযোগ ক্ষেত্রে মাইল ফলক হিসেবে অবদান রেখেছে । যেহেতু তৎকালীন পাক আমলে তৈরি এ ব্রিজটি প্রায় ধ্বসে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, রাবার ড্যাম প্রকল্পের আওতাভুক্ত দৃশ্যমান এ ব্রিজটি উন্নয়নের ফলে জালিয়াপালং, তুতুরবিল, হরিণমারা, দুছড়ি, কাছিয়ারবিল, পিনজিরকুলসহ প্রায় ১২টি গ্রামের ২০হাজার মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম নিশ্চিত হয়েছে।
এদিকে হলদিয়াপালং ইউনিয়নে ২ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্ধে পাগলিরছড়ার উপর রাবার ড্যাম, এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের জন্য আয়ের পথ সুগম করা হয়েছে দাবি করে স্থানীয় চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী জানান, পাগলিরছড়ার উপর রাবার ড্যামটি নির্মাণ হওয়ার পর থেকে খালের উভয় পার্শ্বে প্রায় দেড় হাজারেরো অধিক অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছে। রাজাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম ডিগলিয়া খালের উপর ৫ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্ধে নির্মিত রাবার ড্যামের আওতায় প্রায় ২হাজার একর জমি বোরো চাষাবাদের আওতায় এসেছে। খালের পারে বসবাসরত কৃষক নুরুল ইসলাম, শামসুল আলম সহ একাধিক লোকজন জানান, রাবার ড্যাম নির্মাণ হওয়ার পর থেকে তারা জমিতে বোরো চাষের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি উৎপাদন করছে।৩ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে থিমছড়ি পূর্বকূল রাবার ড্যাম হাজারো দুস্থ কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে দাবি করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, থিমছড়ি রাবার ড্যামের আওতায় আপাতত ৫’শ একর জমিতে বোরো চাষাবাদ হলেও পরবর্তীতে এ রাবার ড্যামের আওতায় জমির পরিধি আরো বাড়তে পারে। যেহেতু উপর থেকে নেমে আসা বিভিন্ন স্থানে লোকজন মাটির বাঁধ দিয়ে অবৈধ ভাবে চাষাবাদ করার কারনে এ রাবার ড্যামের ধারণ ক্ষমতা অনুপাতে পানি জমা হচ্ছেনা। যে কারনে চাষাবাদ হচ্ছে অল্প সংখ্যক জমিতে। তিনি বলেন, ৪টি রাবার ড্যামের আওতায় প্রায় ৫ হাজার একর অনাবাদী জমিতে বোরো চাষাবাদসহ শাক-সব্জি উৎপাদনের মাধ্যমে এলাকার হতদরিদ্র কৃষকেরা আত্মনির্ভরশীল হবে। রাবার ড্যামের আওতাধীন পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্যদের সঞ্চয়ী আমানতের টাকা ঋণ নিয়ে ছোটখাট ব্যবসা করে অনেকেই লাভবান হচ্ছে।