উখিয়ার উপকূলে ডাকাত আতংক রাত জেগে গ্রামবাসীর পাহারা

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া

উখিয়ার উপকূলীয় প্রত্যন্ত জনপদ জালিয়াপালং ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাতদলের আনাগোনা, বসতবাড়িতে হামলা, সহায় সম্পদ লুটপাট ও গুলি বর্ষণের ঘটনা নিয়ে এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। ডাকাতি প্রতিরোধে রাতের ঘুম হারাম করে গ্রামবাসী পাহারা দিচ্ছে। ঘটনাস’ল ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা থেকে ভোর রাত ৪টা পর্যন্ত ১৮/২০ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল ছোয়াংখালী, বোয়াংখালী ও ইমামের ডেইল গ্রামে ৮টি বসতবাড়িতে গণ ডাকাতি চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণলংকার লুটে নিয়েছে। ছোয়াংখালী গ্রামের হাজি মিয়া হোসেন মাস্টারের ছেলে জাফর আলম জানান, ডাকাত দল বসতবাড়ির পাশের গাছ বেয়ে দোতলায় উঠে। পরে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে লুটপাট চালায়। এভাবে রাত ১২ টা থেকে ভোর রাত ৪টা পর্যন্ত ৮টি বসতবাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে দাবি করে এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসাইন চৌধুরী ও জালিয়াপালং কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি শহিদুল্লাহ কায়সার জানান, এসব ডাকাতদের মধ্যে অধিকাংশ রোহিঙ্গা নাগরিক। গ্রামবাসী প্রতিরোধের চেষ্টা করলে ডাকাতেরা লোকজন লক্ষ্য করে গুলি করে। এসময় নুরুল ইসলামের ছেলে আবুল হাশেম গুলিবিদ্ধ হয়।গত ৭ অক্টোবর রাত ১১ টার দিকে অস্ত্রধারী ডাকাতদল জাগির হোসেন মাস্টারের ছেলে ছৈয়দুর রহমানের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের হাত পা বেঁধে পান ও গরু বিক্রির ৪লাখ নগদ টাকা ও স্বর্ণলংকার লুটপাট করে নিয়ে যায়। ৮ অক্টোবর রাত ৯ টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিণমারা গ্রামের মৃত নাজির হোসনের ছেলে মো. হোসেন ও মো. হোসনের ছেলে সোনামিয়ার বাড়িতে ডাকাতেরা লুটপাট চালিয়েছে। ছোয়াংখালী গ্রামের মৃত মিয়া হোসেন মাস্টারের ছেলে নুর হোসেন মাস্টার (৭০) জানান, ডাকাতের ভয়ে তারা স্বপরিবারে রাজাপালং ইউনিয়নের মধুরছড়া গ্রামের খামারবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের জানান, ডাকাতি সংঘটিত হওয়ার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। তিনি বলেন, এখন প্রতিরাতেই মনখালী এলাকায় অবস’ান নিয়ে ডাকাতি প্রতিরোধে গ্রামবাসী পালাক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পাহারা দিচ্ছে।