অনুমোদন ৮টি

উখিয়ার অর্ধশতাধিক স্পটে চলছে অবৈধ বালি উত্তোলন

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া

উখিয়ার বিভিন্ন জলাশয়, খাল, ছড়া থেকে নির্বিচারে বালি উত্তোলন ও পাচার করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জন্য উপজেলা প্রশাসন ৮টি বালিমহালের ইজারা প্রদান করলেও অবৈধ উপায়ে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে অর্ধশতাধিক স্পট থেকে। ভূমি প্রশাসন মাঝে-মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে বালি উত্তোলনের সরঞ্জামাদি জব্দ এবং নগদ টাকা জরিমানা করা হলেও ঠেকানো যাচ্ছে না অবৈধ বালি উত্তোলন। স’ানীয়রা অভিযোগ করেছেন এর ফলে খাল, নদী-ছড়া বেষ্টিত ওই এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরের জন্য ৮টি বালি মহাল শর্ত সাপেক্ষে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে বালুখালী খাল, থাইংখালী খাল, হিজলিয়া খাল, পালংখালী খাল, দোছরী খাল, ওয়ালাপালং খাল, ধোয়াঙ্গারছড়া কুমারির ছড়া বালি মহাল অন্যতম।
পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী থেকে তেলখোলা থেকে ঘুরে দেখা যায়, থাইংখালী খালে ১৫টি স্পটে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। খালের পাড়ে বসবাসরত ক্ষতিগ্রস্ত আলি হোছন, মীর কাশেমসহ একাধিক লোকজন জানান, বালি উত্তোলনকারী সিন্ডিকেট এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তারা প্রশাসনের লোকজনকে ম্যানেজ করে অবৈধ বালি উত্তোলন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে। যে কারণে এলাকায় ব্যাপক ভূমিধসসহ বসতভিটা, ফসলি জমি খালের ভাঙনে বিলীন হয়ে গেলেও প্রতিবাদ করে কোনো লাভ হচ্ছে না। এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মানিক চাকমা বলেন, বালিবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে থাইংখালী-তেলখোলা ৩ কিলোমিটার সড়ক পথ অচল হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণকে চলাচল করতে হয় কাদামাটিপূর্ণ সড়কপথে ঝুঁকি নিয়ে।
সম্প্রতি উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা থাইংখালী খালে অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিনসহ সাবেক এক ইউপি সদস্যকে আটক করে নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এর আগে রেজুখালে অভিযান চালিয়ে অনুরূপ ড্রেজার মেশিনসহ বালি উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের একজন সদস্যকে আটক করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এরপরও বালি উত্তোলন থামেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একগাড়ি বালি বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার টাকায়। দৈনিক একেকটি বালিমহাল থেকে ৫০ ট্রাক বালি বিভিন্ন স’ানে চালান হচ্ছে।
এদিকে রেজুখালের প্রচণ্ড ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি প্রশাসন ঘটনাস’ল রেজুখালের চরপাড়া এলাকা পরিদর্শন করে ওই এলাকাটি বালি ইজারামুক্ত করে সেখান থেকে বালি উত্তোলন না করার জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করেন। ওই সময় উপজেলা প্রশাসন ওই স’ান লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করে দেয়। এরপর কিছুদিন বালি উত্তোলন বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি অবৈধভাবে আবারো বালি উত্তোলন শুরু হয়েছে বলে গ্রামবাসীরা জানান।
হলদিয়াপালং ইউনিয়নের রুমখাঁ মনির মার্কেট এলাকার শামশুল আলম (৬৫), জসিম উদ্দিন (৪০) সহ একাধিক গ্রামবাসী জানান, রেজুখালের ভাঙন থেকে মনির মার্কেট এলাকার শতাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট রক্ষার জন্য স’ানীয় গ্রামবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে এলজিইডি প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি গাইডওয়াল নির্মাণ করে। কিন’ সংঘবদ্ধ বালু লুটপাটকারীচক্রের অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে ওই গাইডওয়ালটি ধসে পড়ে ওই এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি, এমনকি সৈকত সড়ক পর্যন্ত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুদ্দিন মোহাম্মদ শিবলী নোমান জানান, অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস’া নেওয়া হবে। তিনি জানান, সর্বসাধারণের সহায়-সম্পত্তির ক্ষতি হয় এমন অবস’ায় কোনোভাবে বালিমহাল ইজারা দেওয়া হবে না। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম জানান, জেলার বিভিন্ন স’ানে পাহাড় কাটা এবং অবৈধ বালি উত্তোলনের সাথে জড়িতদের তালিকা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ওই তালিকা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন