ঈদ বাজারে গয়নায় ঝোঁক তরুণীদের

কাজী নাফিয়া রহমান

ঈদের আর কয়েক দিন বাকি থাকতে বিপণি বিতানগুলোয় চলছে উপচেপড়া ভিড়; পোশাকের সঙ্গে ‘ম্যাচিং’ গয়না কিনতে নারীরা ছুটছেন গয়নার দোকানে দোকানে। জুয়েলারি পণ্যের বিক্রেতারা বলছেন, ঈদে কানের দুল, গলার নেকলেস, ঝুমকার চুড়ি বিক্রি চলছে বেশি। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন রঙের সুতা দিয়ে বানানো দুলগুলো এবার চলছে বেশি। বিক্রেতারা জানান, “চেইন দেওয়া ঝুলানো নেকলেসগুলোও বেশ চলছে। আর বড় পাথরের ও আয়নার আংটির চাহিদাও রয়েছে।”
একটি জুয়েলারির দোকানে পছন্দের গহনার খোঁজ করছিলেন আফরোজা ইসলাম। পছন্দের গয়না নিয়ে তিনি বলেন, “সুতার দুলগুলো বেশ ফ্যাশন্যাবল। এছাড়াও অ্যান্টিকের দুলগুলোও দেখছি। ড্রেসের সাথে জুয়েলারিটা গর্জিয়াস হলে ভাল লাগবে।”
জানা যায়, ঝুলানো নেকলেসগুলো তারা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়। তরুণীদের এবারের ঈদ কেনাকাটায় ‘জনপ্রিয়’ সুতার দুলগুলো পাওয়া যাচ্ছে ১২০ থেকে ৩৫০ টাকায়। ‘একেক কাস্টমারের একেক রকম পছন্দ’ হলেও বিক্রেতাদের মতে, রেশমি সুতার দুলগুলোই বেশি কিনছে তরুণীরা। ঝুমকার চুড়ি, আংটি, ব্রেসলেটও বিক্রি হচ্ছে।’
মেয়ে শিশুদের জন্যও ঈদের জামার সঙ্গে পড়ার জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের ব্রেসলেট ও চুলের ব্যান্ড কিনে দিচ্ছেন অভিভাবকরা।
পাঁচ বছরের আরশিয়াকে নিয়ে তার মা এসেছেন মেয়ের ঈদের সাজের জন্য চুলের ব্যান্ড আর ক্লিপ কিনতে। আরশিয়ার মা বলেন, “ঈদের ড্রেস কিনেছি। এখন ক্লিপ কিনতে এসেছি।”
সাবিনা আক্তার নিউ মার্কেটে পোশাকের ফাঁকে জুয়েলারিও কিনছিলেন। তিনি বলেন, “ঈদে এবার আগেভাগেই সব কেনাকাটা করেছি। কিছু বাকি ছিল, সেগুলো কিনতে এসেছি। এর পাশাপাশি ড্রেসের সাথে পরার জন্য কিছু জুয়েলারি নিয়ে নিচ্ছি।” জুয়েলারি বিক্রেতা মহসিন জানান, তার দোকানে কানের দুল ও হাতের ব্রেসলেটগুলো বেশি চলছে। আংটির চাহিদাও রয়েছে। তিনি বলেন, “পাথরের গলার নেকলেসও বিক্রি হচ্ছে। ব্রেসলেট, চুড়ি, আংটি- ক্রেতারা পছন্দমত কিনছেন।”
জুয়েলারি কিনতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার বলেন , “নতুন জামার সাথে জুয়েলারি ছাড়া তো মানায় না।” তবে ঈদের বাজারে গয়নার ‘দাম একটু বেশি রাখা হচ্ছে’ বলেও অভিযোগ রয়েছে তার। জুয়েলারির দোকান দুলের বিক্রেতা আতিকুর রহমান বলেন, “ঈদে কানের গর্জিয়াস দুলগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। সাথে নেকলেসও নিচ্ছে অনেকে।”
এছাড়াও ঘড়ির চাহিদার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘কানের দুল আর নেকলেসের পাশাপাশি লকেটসহ লম্বা চেইনগুলোও বেশি বিক্রি হচ্ছে। এগুলো ২৫০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি করছি।’