‘রেঙ্গুন শহর যাইয়ুম আঁই তোয়াল্লাই আইন্যুম কী’

ঈদ পোশাকে আরাকানি আমেজ

লেখা ও ছবি: কমল দাশ
13

বর্ণিল আলোকসজ্জায় ঝলমলে শপিং মলগুলোয় বেচাবিক্রির ধুম। দর্জি বাড়িতে কারিগরদের নির্ঘুম রাত কাটানো জানান দিচ্ছে ঈদ সমাগত। ঈদ মানে যেমন সমপ্রীতির বন্ধন, তেমনি ঈদ মানেই নতুনভাবে নিজেদের সাজানোর উৎসব। আর নিজেদের সাজিয়ে তোলার প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে প্রথমেই আসে পোশাকের কথা। এবারের আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকবে বৃষ্টি আর গরম।
লক্ষণীয় বিষয় হলো এই প্রথম রোহিঙ্গাদের নিজস্ব পোশাকের আদলে একটু আধুনিকতার সংমিশ্রণে পোশাক তৈরি করলেন খ্যাতিমান ডিজাইনার মিয়াবিবি’র সুলতানা নুরজাহান রোজী। ডিজাইনার রোজী বলেন, আমরা ডিজাইনারা সবসময় বাঙালি আর আদিবাসীদের পোশাক ডিজাইন করি।
এইবার সবকিছুর পাশাপাশি ভাবলাম আমাদের পূবপুরুষরা এক সময় ব্যবসার জন্য আকিয়াব ও রেঙ্গুন যেতেন। নিয়ে আসতেন ওদের পরিধেয় নানা রঙের পোশাক, অনেকটা আমাদের আদিবাসিদের মতো পোশাকগুলো। এই পোশাকগুলো বিশেষ করে চট্রগ্রামের নানা বয়েসী মহিলারা পরতেন – ওপরে রঙিন ব্লাউস নিচে থামি। আমি এদের পোশাককে ঠিক রেখে একটু আধুনিকতা এনেছি। কারণ দিন বদলেছে সময়ের সাথে। পোশাকে নতুন করে যুক্ত হয়েছে কুচির ব্যবহার। এসবের বাইরেও আগের মতোই স্কার্ট আর গাউন থাকবে ।
কম ঘের ও বেশি ঘেরের পালাজ্জো রয়েছে সালোয়ার হিসেবে। আবার অনেকটা এতোই বড়, অনেকটা স্কার্টের মতো দেখতে। এছাড়া প্যান্টের মধ্যে টিউলিপ ও একছাঁটে তৈরি সোজা সালোয়ার পাওয়া যাচ্ছে। রয়েছে চুড়িদারও। তবে পালাজ্জোতে ব্যবহার হয়েছে বিভিন্ন ধরনের কাজ।
প্রায় সব ধরনের রঙ ব্যবহার হয়েছে এবারের পোশাকে। তবে আধিক্য রয়েছে নীল, সবুজ আর সাদার। পাশাপাশি গাঢ় রঙও ব্যবহার হয়েছে অনেক পোশাকে। এছাড়া গোলাপি, বাঙ্গি ও বেগুনি, কালো লাল, হলুদ রংও রয়েছে পোশাকের ভিন্নতায়।
পোশাকে মিক্সড মাধ্যমের ব্যবহার রয়েছে। লিনেন, জর্জেট, মসলিন, তাঁত, এন্ডি সিল্ক, হাফ সিল্কের কাপড়ের ব্যবহার রয়েছে পোশাকে। মিক্সড মাধ্যমের ব্যবহার হয়েছে পোশাকগুলোতে।